সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ২১ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটের পাইকারি ও খুচরা কাঁচাবাজারের পণ্যের দাম এখনো ঊর্ধ্বমুখী

1438442778_kacha-bazar-6ডেইলি সিলেট নিউজ : সিলেটের কাচাঁবাজারে একদিনের ব্যবধানে কেজি প্রতি ৪০ টাকা বেড়েছে কাচাঁমরিচের দাম। বন্যার কারণে সরবরাহ কম থাকায় অন্যান্য সবজির দামও রয়েছে ঊর্ধ্বমুখী। মাছের দর বেড়েছে গত সপ্তাহের তুলনায় কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার সিলেট নগরীর রিকাবিবাজার, কাজিরবাজার ও বন্দরবাজারসহ বেশ কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

গত কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিক বন্যার প্রভাব রয়েছে সিলেটের কাঁচাবাজারে। এ সপ্তাহে যার সর্বাধিক প্রভাব পড়েছে কাঁচামরিচের দামে। সবজির পাশাপাশি বেড়ছে সব ধরনের শাকের দাম। লাউ শাক, পুঁই শাক বা লাল শাক সব গুলোতেই ৫ থেকে ১০ টাকা বাড়তি দাম। বিক্রেতারা বলছেন, বন্যার প্রভাবে জমিতে ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও প্রভাব পড়ায় বাজারে দাম বেড়েছে। বন্যার পানি কমতে থাকায় জলাশয়ে প্রচুর মাছ ধরা পরলেও বাজারে নেই তেমন কোনো প্রভাব। চাষের মাছের দাম যেমন বাড়তি তেমনি প্রাকৃতিক জলাশয়ের মাছের দরও রয়েছে ঊর্ধমুখী। বাজারে মাছ সরবরাহে কোন ঘাটতি নেই বলে মনে করছেন ক্রেতারা।
সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় বন্যার প্রভাবে গত ১৫/২০ দিন ধরে সিলেট নগরীর পাইকারি ও খুচরা কাঁচাবাজারে প্রত্যকটি পণ্যের দাম ছিলো ঊর্ধ্বমুখী। তবে বন্যার পানি কমার সঙ্গে-সঙ্গে কমতে শুরু করেছে সবজিসহ নিত্য প্রয়োজনী পণ্যের দাম। আর ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে ভোজ্য তেলের দাম। কাঁচাবাজারে দাম কমার প্রবণতা দেখা গেলেও ভোজ্য তেলের দাম গত সপ্তাহ থেকে চলতি সপ্তাহে কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে ৯৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এমনকি কেজিতে আরও তিন টাকা বাড়বে বলে জানান বিক্রেতারা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বন্দরবাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজি দাম কমে কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। অন্যদিকে, বাজারগুলোতে সবজি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৬০ টাকায়। নগরীর স্থানীয় বাজারগুলোতে ঢেঁড়স, রেখা, মূলা, ঝিঙা, জালি, বরবটি, ধুনদল, পটল ও টমেটো বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৩০ টাকা থেকে ৫০ টাকা দরে। বেগুনের দাম কমে হয়েছে ৪০-৫০ টাকা প্রতি কেজি। কচুরমুখী ৩০ টাকা, ধনেপাতা ১২০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০ টাকা, করলা ৪০, শসা ৩০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা এবং আলু ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর পেঁপে ৩০ টাকা, কাঁচাকলা ৩০ টাকা হালি, লেবু ২০ টাকা হালি, মিষ্টি কুমড়া (ছোট) ৩০টাকা পিস, লাউ প্রতিটি ৩০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এছাড়া বাজারে নতুন সিম পাওয়া যাচ্ছে কেজি প্রতি ৮০ টাকা করে। লাল শাকের মুঠা ১৫ টাকা, পুঁই শাকের ১৫ টাকা, লাউ শাক ২০ টাকা করে পাওয়া যাচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা মমিন জানান, বন্যার কারণে গত ১৫-২০ দিন সবজির দাম বেশি ছিলো। এখন নরমাল হয়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় প্রত্যেক সবজিতে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে। রিকাবীবাজারের কাঁচা বাজার করতে আসা মাহবুবা আক্তার বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে সবজির দাম অনেক বেশি ছিলো। আজকে সব সবজির দাম একটু কম দেখলাম। তবে তেলের দাম বেড়েছে, আরও বাড়বে নাকি শুনলাম। এ সপ্তাহে মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, লেয়ার ১৮০ টাকা প্রতি কেজি। আকারভেদে দেশি মুরগি কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা। পাকিস্তানি মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ২২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা।
এ সপ্তাহে গরুর মাংস (বাজারভেদে) ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা। খাসির মাংস ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম কমেছে। কিন্তু রসুন, আদা ও ডালের চাহিদা দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। পেঁয়াজ (দেশি) কেজি প্রতি ৪০-৪৫ টাকা এবং আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৩০ টাকা। প্রতি কেজি চিনির দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭৩-৭৫ টাকায়। মসুর ডাল (দেশি) মানভেদে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, (আমদানি) মানভেদে ১০০ থেকে ১৩০ টাকা। মুগ ডাল (মানভেদে) ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের দাম গত সপ্তাহে যে দাম বেড়েছে তা স্থিতিশীল রয়েছে।
মাছের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানান বিক্রেতারা। তবে ক্রেতাদের দাবি এ সপ্তাহে মাছের দাম একটু বেড়েছে। মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, রুই মাছ (ছোট) ২২০ টাকা, রুই (বড়) ৩৫০ টাকা কেজি। ছোট কাতলা ২২০-২৮০টাকা। চিংড়ি (ছোট) ৪০০ টাকা কেজি। তেলাপিয়া ১৯০ থেকে ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে বাধাকপি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ টাকা, ফুলকপি কেজি ১০০ টাকা, পটল বিক্রি হচ্ছে কেজি ৩০ টাকায়। লাউ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৩৫ টাকা, কাঁকরোল ৫০ টাকা, ঝিঙ্গা ৪০ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, চিচিঙ্গিা ৩৫ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, আলু ২৪ টাকা, শশা ৪০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, শিম ৮০ টাকা, চায়না গাজর ৭০, ভারতীয় টমেটো ৭০ টাকা ও কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৮০ টাকায়।
কাজীর বাজারের সবজি বিক্রেতা আব্দুল খালেক বলেন, সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। গত সপ্তাহের দামেই সব ধরনের সবজি বিক্রি হচ্ছে। তবে সামনে দাম বাড়তে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: