সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

স্কুলে শিয়াল-কুকুর, শিক্ষার্থীরা মুরগীর খামারে!

149911_1নিউজ ডেস্ক: ভোলার লালমোহন উপজেলার দক্ষিণ পূর্ব চরউমেদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায় ২ বছর ধরে ক্লাস করছেন মুরগীর খামারে। আর পরিত্যক্ত ক্লাস ভবন হয়েছে কুকুর-শিয়ালের আস্তানা।

সরকারি অর্থয়ানে নির্মিত এই বিদ্যালয়টি ছাদ ধসে পড়ায় এ অবস্থা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম।

তিনি জানান, ১৮৮৯ সালে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করে এলাকাবাসী। পরে সেখানে ১৯৯৩-৯৪ অর্থ বছরে একতলা ভবন নির্মান করে এলজিইডি।
নিম্ম মানের ইট, বালু, সিমেন্ট দিয়ে ভবনটি নির্মাণ করায় কিছু দিন না যেতেই ভবনের বিভিন্ন অংশ খসে পড়তে থাকে। এক পর্যায়ে বারান্দার ছাদ এবং সব কটি পিলার ধসে পরে। নেই দরজা-জানালা এবং ফার্নিচার।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, আমরা চার জন শিক্ষক ও এক জন দপ্তরী দিয়ে কোনো রকম স্কুলটি চালাচ্ছি। দক্ষিণ পূর্ব চরউমেদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আজ থেকে দেড় বছর আগে ম্যানেজিং কমিটি ছিল কিন্তু আজ তা আছে নামে মাত্র কাজে নেই।

গত দেড় বছর আগে ম্যানেজিং কমিটিতে ছিলেন বিএনপি নেতা মেজর হাফিজের চাচাতো ভাই। উনি থাকতে স্কুলটি খুব ভাল ভাবে চলছিলো। যখন ম্যানিজিং কমিটিতে দক্ষিণ পূর্ব চরউমেদ ইউপির চেয়ারম্যানের ভাই রফিকুল ইসলাম ম্যানেজিং কমিটিতে এলেন তখন থেকে এখানকার যারা যারা এই কমিটিতে ছিলেন তারা সবাই মিলে রেজুলেশন করে সরে গেলেন । সেই থেকে আজ পর্যন্ত ম্যানিজিং কমিটি আর হলো না বলে জানান প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম।

তিনি আরো জানান, আমাদের বেতন থেকে প্রতিমাসে ২০০০ টাকা করে দুটি মুরগীর খামারের ঘর ভাড়া দিয়ে স্কুল চালাচ্ছি।

এব্যাপারে দক্ষিণ পূর্ব চরউমেদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নিলু জানান, আমরা একাধিকবার জেলা শিক্ষা অফিস থেকে শুরু করে উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের কাছে দুই বছরে অন্তত কয়েক হাজারবার গিয়েও কোনো ফল পাইনি।

তবে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাইমারি শিক্ষা অফিসার মো. হোসেন বলেন, ঐ স্থানে নতুন ভবন নির্মাণের সকল ব্যবস্থা এ মাসে হবে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় পলাশ মাহাজন বলেন, আশে পাশে যদি আর কোনো একটি স্কুল থাকতো তা হলে আমার ছেলে ও মেয়ে কে এই মুরগীর খামারে পরাতাম না। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসকে জানানো সত্বেও গত ২ বছরের মধ্যে তার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ঐ ভবনটি ছেড়ে দিয়েছি আমরা।

প্রধান শিক্ষক জানান, ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ানোর জন্য আশে-পাশে কোনো ঘর না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে মাসিক ২হাজার টাকায় দুটি মুরগীর খামারের ঘর ভাড়া নিয়ে স্কুল চালাচ্ছি।

প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম আরো জানান, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিতে প্রায় আড়াইশ শিক্ষার্থী রয়েছে। যার মধ্যে ৯০ জনের মতো উপবৃওি পায় বাকিদের জন্য চেষ্টা করে লাভ হয়নি।

এব্যাপারে এলাকার ইউপি মেম্বার শাহাবুদ্দিন হাওলাদার বলেন, পরিত্যাক্ত এই ভবনটি এখন শিয়াল কুকুরের আস্তানা। রাত গভীর হলে সেখান থেকে শেয়ালের ডাক শোনা যায়। গত ২ বছরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পুরাতন ভবন ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। অনেক স্থানে ৮-৯ কোটি টাকা ব্যায়ে বিশ্ব মানের প্রাইমারি ভবন হয়েছে। অথচ এখানে একটি ভবন হয়নি ২ বছরেও। শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এখন ভবন নির্মাণ করা খুব জরুরি।

এব্যপারে জানাার জন্য ভোলা জেলা প্রাইমারি শিক্ষা অফিসার ছাইদুজ্জামানকে অফিসে গিয়ে পাওয়া যায়নি।

তার অফিস থেকে জানানো হয়, তিনি ছুটিতে আছেন।

তবে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাইমারি শিক্ষা অফিসার মো. হোসেন বলেন, ঐ স্থানে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য লালমোহন এলজিইডি অফিসে চাহিদা দেয়া হয়েছে প্রায় দেড় বছর আগে। কিন্তু এখনো বরাদ্ধ পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: