সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বাংলাদেশের নায়াগ্রা ‘নাফাখুম’ ভ্রমণের বিস্তারিত

full_2022139184_1470836751নিউজ ডেস্ক: বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নে অবস্থিত নাফাখুম ঝর্ণা। থানচি উপজেলার রেমাক্রি একটি মারমা অধ্যুসিত এলাকা। মারমা ভাষায় ‘খুম’ শব্দের অর্থ ঝর্ণা। বান্দরবান হতে ৭৯ কিমি. দুরে অবস্থিত থানচি। সাঙ্গু নদীর পাড়ে অবস্থিত থানচি বাজার। এই সাঙ্গু নদী ধরে রেমাক্রীর দিকে ধীরে ধীরে উপরে উঠতে হয় নৌকা বেঁয়ে। উপরে উঠা বলছি এই কারণে যে আসলেই নদীটা রেমাক্রী হতে থানচির দিকে ধীরে ধীরে ঢালু হয়ে এসেছে আর এই কারণে এখানে এত স্রোত।

নদীর কিছুদূর পর পর ১-২ ফুট এমন কি কোথাও কোথাও ৪/৫ ফুট পর্যন্ত ঢালু হয়ে নিচে নেমেছে। প্রকৃতি এখানে এত সুন্দর আর নির্মল হতে পারে ভাবাই যায় না। নদীর দুপাশে উচু উচু পাহাড়। সবুজে মোড়ানো প্রতিটি পাহাড় যেন মেঘের কোলে শুয়ে আছে অবলিলায়। কোনো কোনো পাহাড় এতই উচু যে তার চূড়া ঢেকে আছে মেঘের আস্তরে। অসাধারণ সে দৃশ্য। সবুজে ঘেরা সে পাহাড়ে হঠাৎ হঠাৎ দেখা যায় দু একটি উপজাতী বসতঘর।

কিভাবে যাবেন-
বাসে করে ঢাকা টু বান্দরবান যেতে হবে। (রাতে রওনা হলে পরদিন সকালে পৌঁছাবে) । বান্দরবান থেকে থানচি যেতে হবে চাঁদের গাড়িতে। সময় লাগবে ৪ ঘন্টার মত। (দুপুর ১ টার মধ্যে যাওয়া যাবে)।  থানচি থেকে ১টা বোট ঠিক করে নিতে হবে রেমাক্রী যাওয়ার জন্য।  থানচি থেকে তিন্দু হয়ে রেমাক্রী বাজার পৌছাবে। সব কিছু ঠিক থাকলে সময় লাগবে ৪ ঘন্টা। (ওই দিনই রওনা হলে প্রথম দিনই রেমাক্রী বাজার যাওয়া যাবে, অথবা রাতে থানচি থেকে পরদিন খুব সকালে রওয়ানা করা যাবে)।

রেমাক্রী বাজার হতে নাফাখুম ঝর্নার কাছে যাওয়ার একমাত্র অবলম্বন সাঙ্গু নদীর নৌকা। এখানে আপ-ডাউন ইঞ্জিনচালিত নৌকা পাওয়া যায় । এই নৌকা ভাড়া করার জন্য পর্যটকদের থানচি ঘাটে অবস্থিত নৌকাচালক সমিতির সাথে কথা বলতে হয় এবং সেখান থেকে বিজিবি-র তালিকাভুক্ত একজন গাইড নিতে হয় । এই পথে ভ্রমণে গাইড নেওয়া বাধ্যতামূলক । শুধু তাই নয় নৌকাচালক সমিতির অফিসে পর্যটকদের নাম, ঠিকানা, পিতার নাম, মোবাইল নম্বর, নৌকার মাঝির নাম প্রভৃতি রেজিস্টার করে ভ্রমণের অনুমতি নিতে হয় । রেমাক্রী থেকে নাফাখুম ঝর্নায় যাওয়ার কোনো পরিবহন ব্যবস্থা নেই।

রেমাক্রি বাজার থেকে দুইভাবে নাফাখুম-এ যাওয়া যায়-
এক ঘন্টা উঁচু-নীচু পাহাড়ী পথ মাড়িয়ে(পাহাড় ডিঙিয়ে) তারপর রেমাক্রি খালের পাড় ধরে বাকিটা হেঁটে চলা। এই পথে গেলে নাফাখুমে পৌঁছাতে আপনার সময় লাগবে চার ঘন্টা। রেমাক্রি খাল ক্রস করতে হবে তিন বার, যার মধ্যে শেষবার আপনাকে সাঁতার পানি পেরুতে হবে। আপনি পাহাড় না ডিঙিয়ে গোটা পথই রেমাক্রি খালের পাশ দিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে নৌকা করে রেমাক্রি খালের মুখে (যেখানে রেমাক্রি খাল সাঙ্গুতে পড়েছে, রেমাক্রিখুম) যেতে হবে আপনাকে। তারপর খালের পাড় দিয়ে হাঁটা পথে নাফাখুম বরাবর। এই পথে আপনাকে চার বার খালটি ক্রস করতে হবে। তবে সময় লাগবে তিন ঘন্টা। আর শীতের দিনে গেলে খাল ক্রস করার ঝামেলাই নেই। গোটাটাই আপনি ঝিরিপথ দিয়ে হেঁটে যেতে পারবেন। তবে শীতকালে নাফাখুম-এর এই পূর্ণ সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ হবেনা। তখন ঝর্ণার পানি অনেক কমে যাবে।

কোথায় থাকবেন-
রাতে থাকার জন্য যেতে হবে তিন্দু, রেমাক্রি। মারমাদের বাঁশ-কাঠের বাড়ীতে অনায়াসে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা হয়ে যাবে আপনাদের। মারমাদের প্রায় প্রতিটি বাড়ীতেই খুব অল্প টাকায় এমন থাকা-খাওয়ার সুবিধে রয়েছে। তিনবেলা খাওয়ার খরচ পরবে জনপ্রতি ২০০ টাকা, আর থাকা ফ্রি। তবে যে বাড়ীতে ফ্রি থাকবেন, খেতে হবে তার দাওয়ায় বসেই।

জেনে রাখুন সম্ভাব্য ব্যয়-
# ঢাকা হতে বান্দরবান (নন-এসি বাস) ৬২০ টাকা, এসি বাস ৯৫০ টাকা
# বান্দরবান হতে থানচি (পাবলিক বাস) ২০০-২৩০ টাকা
# বান্দরবান হতে থানচি (জীপ/চান্দের গাড়ি) ৪,০০০/৫,০০০ টাকা
# রেমাক্রীতে পর্যটক যতদিন থাকবেন তার প্রতি রাতের জন্য নৌকা ভাড়া বাবদ ১,৫০০ টাকা করে অতিরিক্ত গুণতে হয় ।
# গাইড (থানচি হতে রেমাক্রী) ৫০০ টাকা ।
# গাইড (রেমাক্রী হতে নাফাখুম) ৬৫০ টাকা ।

নাফাখুম ভ্রমণে করণীয় ও পালনীয়-
# ঢাকা বা বান্দরবান থেকে যাত্রা শুরু করার আগে পর্যটকদের নিজ নিজ নাম, ঠিকানা, পিতার নাম, মোবাইল নাম্বার প্রভৃতি একটি কাগজে লিখে সেই কাগজটি ১০/১২টি ফটোকপি করে সাথে নিতে হবে । পথিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে এই কাগজ জমা দিতে হয় ।

# বান্দরবান থেকে নাফাখুম যেহেতু অনেকটা পথ এবং পথিমধ্যে অনেক বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয় তাই সাথে ভারী কোনো জিনিস না নেওয়াই ভালো।

# যতটা কম সম্ভব কাপড়-চোপড় নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
# মশা হতে নিজেকে রক্ষা করার জন্য ওডোমস ক্রিম সাথে করে নিতে হবে।

# যেহেতু বেশ কিছুটা পথ নদীপথে হাঁটতে হবে তাই পিছলে যায় না এমন রাবার বা প্লাস্টিকের পায়ের সাথে সাইজ অনুযায়ী স্যান্ডেল পরতে হবে। ছোট/বড় হলে তা আরও বিপত্তি বয়ে নিয়ে আসতে পারে ।

# ভ্রমণ আনন্দদায়ক করতে যাত্রাপথে টি-শার্ট ও থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট পরা ভালো।

# রেমাক্রী বাজার হতে নাফাখুম এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করার আগে রেমাক্রী হতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ শুকনা খাবার ও খাবার পানি সাথে করে নিতে হবে ।

# ফাস্ট এইড বক্স ও টর্চ লাইট অবশ্যই সাথে রাখতে হবে ।

# থানচি পর্যন্ত আপনার টেলিটক মোবাইলের নেটওয়ার্ক পাবেন। তিন্দু গিয়ে আপনার মোবাইলে নেটওয়ার্ক না থাকলেও আপনি একেবারে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবেন না। মারমাদের দোকান থেকে বাঁশের উপর এ্যন্টেনা লাগানো সেট থেকে চাইলে বাইরের পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন। কিন্তু রেমাক্রি পৌঁছালে আপনি একেবারেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন।

যে সকল জিনিসপত্র অবশ্যই সাথে রাখবেন-
মশা প্রতিরোধক ক্রীম, কয়েক জোড়া মোজা, প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ, এন্টিসেপ্টিক ক্রীম, খাবার স্যালাইন, কলম, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ম্যাচ, শুকনো খাবার ও পানি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: