সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নাউরুর ২০০০ নথি ফাঁস, ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার নারী-শিশুরা

149765_1আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ নাউরুতে অস্ট্রেলিয়ার আটককেন্দ্রে থাকা নারী ও শিশুরা ভয়াবহ নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। এই অভিযোগ অনেক দিনের। এবার তাদের আতঙ্কিত জীবনের ভয়াবহতাকে খোদ অস্ট্রেলিয়া সরকারের নথিবদ্ধ প্রমাণসহ হাজির করেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন কতৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে তৈরি দুই হাজারেরও বেশি অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট ফাঁস হয়েছে। ফাঁস হওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে আটক থাকা অভিবাসন প্রত্যাশীদের শোচনীয় অবস্থা তুলে ধরেছে প্রভাবশালী ওই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম। ওই আটককেন্দ্রে যৌন নিপীড়নের ভয়াবহতা তুলে ধরেছে পত্রিকাটি।

সেখানে প্রতিদিন আতঙ্কিত শিশুরা জেগে ওঠে রক্ত আর মৃত্যুর দুঃস্বপ্ন নিয়ে। অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন কতৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ২০১৩ সালের মে থেকে ২০১৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এই রিপোর্টগুলো প্রণীত হয়। যেসব কোম্পানি এ আটক কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা দেয়ার দায়িত্বে থাকে, তাদেরই মূলত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয় বিভিন্ন ঘটনা নথিবদ্ধ করার কাজে।
ফাঁস হওয়া রিপোর্টগুলো ওই সব আটক কেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রহরী, সহায়তাকর্মী এবং শিকরাই তৈরি করেছেন। আর রিপোর্টগুলো হাতে পাওয়ার পর সেসব তথ্যগুলোই গার্ডিয়ানে প্রকাশ করা হয়েছে।

গার্ডিয়ান জানায়, নাউরু ফাইলস নামে ফাঁস হওয়া দুই হাজার ১১৬টি রিপোর্টের অর্ধেকেরও বেশি (এক হাজার ৮৬টি ঘটনা) শিশুদের নিয়ে। অবশ্য ওই রিপোর্টগুলো যখন তৈরি করা হয়, তখন নাউরুর ওই আটককেন্দ্রে থাকা অভিবাসন প্রত্যাশীদের মধ্যে শিশুর উপস্থিতি ছিল ১৮ শতাংশ।

নাউরু হলো বিশ্বের সবচেয়ে ছোট দ্বীপরাষ্ট্র। এখানে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ১০ হাজারেরও কম। বিভিন্ন দেশ থেকে নৌকায় করে আসা উদ্বাস্তুদের ঢল সামাল দিতে পুরো ইউরোপ যখন হিমশিম খাচ্ছে সে সময় বহু বছরের বিতর্কিত নীতিমালা বহাল রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। নৌকায় করে আসা উদ্বাস্তুদের আটকানো এবং পরে তাদের নাউরু দ্বীপে স্থানান্তর করে আসছে দেশটি।

২০১২ সাল থেকে নৌকায় করে আসা উদ্বাস্তুদের প্রক্রিয়াকরণ শেষ করার জন্য কখনো নাউরু ক্যাম্প আবার কখনো পাপুয়া নিউগিনির মানুষ দ্বীপে পাঠানো হয়। অস্ট্রেলিয়া সরকারের দাবি, নৌকায় করে চলে এলেই যে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হয়ে যাওয়া যাবে না সে কথাটুকু সম্ভাব্য আশ্রয়প্রার্থীদের বোঝাতেই তারা এ পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন।

৮০০ পৃষ্ঠার ওই সব রিপোর্টের ভিত্তিতে গার্ডিয়ান জানায়, আটককেন্দ্রের নিরাপত্তাকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে শিশু ও নারীদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালিয়ে থাকে। নাউরু ফাইলসের সাতটি রিপোর্ট শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের, ৫৯টি রিপোর্ট শিশুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে এবং ৩০টি নিজের ক্ষতিসাধন সংক্রান্ত।

এ ছাড়া ১৫৯টি রিপোর্টে শিশুসহ অন্য অভিবাসন প্রত্যাশীদের পক্ষ থেকে নিজের ক্ষতি সাধনের হুমকি দেয়ার তথ্য উঠে এসেছে। সুবিধা দেয়ার বিনিময়ে যৌনপ্রস্তাব। নাউরুর ওই আটককেন্দ্রে কিছু বেপরোয়া কর্মকান্ড সংঘটিত হওয়ারও প্রমাণ পাওয়া গেছে। নাউরু ফাইলসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের অক্টোবরে এক গর্ভবতী নারীকে বলা হয়েছিল তাকে নাউরুতেই সন্তান জন্ম দিতে হবে।

আরেকটি রিপোর্টে বলা হয়, এক বালিকা প্রস্রাব করার সময় এক নিরাপত্তাকর্মী তার দিকে টর্চের আলো ফেলেছিল। আরেকটি রিপোর্টে বলা হয়, উদ্বাস্তু বালিকাদের স্কুলে যৌন নিপীড়নসহ বিভিন্ন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। আটকদের সিগারেট ও গাঁজার বদলে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দিতে দেখা গেছে।

নাউরুকে বিভিন্ন সময়ে মানবিক সহায়তা করে থাকে অস্ট্রেলিয়া। এ ছাড়া নাউরুর সরকার ও বিভিন্ন কোম্পানি থেকে সেবা নিয়ে থাকে দেশটি। নাউরু অস্ট্রেলিয়ার ‘কায়েন্ট রাষ্ট্র’ বলে এক রকম অভিযোগ রয়েছে। গত জুনে সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী নাউরুর উদ্বাস্তু আটককেন্দ্রটিতে ৪৪২ জনকে আটক করে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া।

এর মধ্যে ৩৩৮ জন পুরুষ, ৫৫ জন নারী এবং ৪৯ জন শিশু রয়েছে। এখান থেকেই অভিবাসনের জন্য আবেদন ও বিভিন্ন প্রক্রিয়া চালিয়ে থাকেন অভিবাসন প্রত্যাশীরা। পাপুয়া গিনির মানুষ দ্বীপে ও অস্ট্র্রেলিয়ার আটক কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে আটক থাকা ৮৫৪ জন অভিবাসন প্রত্যাশীর সবাই পুরুষ। বরাবরই এ আটককেন্দ্রে রেখে অভিবাসনের প্রক্রিয়া চালানোর ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়ার এ নীতিমালার সমালোচনা করে আসছে জাতিসঙ্ঘ।

সুত্র:গার্ডিয়ান

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: