সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ১১ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শ্রীমঙ্গলে চায়ের দ্বিতীয় অকশন সেন্টার চালু নিয়ে পজেটিভ সরকার

Tea-board-chairman-4বিশেষ প্রতিনিধি:: বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম এনডিসি পিএসসি বলেছেন, শ্রীমঙ্গলে চায়ের দ্বিতীয় অকশন সেন্টার চালু করা নিয়ে সরকার খুব পজেটিভ। হয়তো এ বিষয়ে আরো কিছু কিছু চিন্তা ভাবনা করছেন। সরকারি পর্যায়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে হলে একটু ভেবে চিন্তে করতে হবে। তাই একটু সময় লাগছে। আমি মাননীয় বাণিজ্য মন্ত্রীকে নিয়ে শ্রীমঙ্গলে আসব আবার। উনি এসে সরেজমিনে দেখবেন। আপনাদের কথা শুনবেন। তার পর হয়তো তিনি চূড়ান্ত একটা সিদ্ধান্ত দেবেন। বাংলাদেশের চা শিল্পকে আমরা চাই না এক জায়গায় স্থবির হয়ে থাকুক।

আমরা চাচ্ছি প্রোডাক্ট ডাইভারসিফিকেশন। শুধু মাত্র ব্লাক টি তৈরি কেন হবে। আপনি যেখানে যান না কেন, আপনাকে প্রথমে জিজ্ঞেস করবে।

আপনি কি গ্রিন টি খাবেন না ব্লাক টি খাবেন। বাট আমরা তো গ্রিন টি বানাই, যখন ব্লাকটিও বানাই। আমার যেন এখন থেকে প্রোডাক্ট ডাইভারসিফিকেশন করতে
পারি। এটা আমরা চাচ্ছি।

তার পর যেমন ধরেন, আমাদের পঞ্চগড়ে ঠাকুরগাঁও নীলফামারীতে এখানে চা বাগানগুলো হচ্ছে। এ বছর আমরা আশা করছি যে, ৫ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হবে। ভবিষ্যতে আগামী পাঁচ বছরে হয়তো বিশ মিলিয়ন কেজি চা সেখানে উৎপাদন হবে। এ বিশ মিলিয়ন চা কিন্তু পঞ্চগড় থেকে চট্টগ্রামে যাবে নিলামের জন্যে, শ্রীমঙ্গলে আসবে নিলামের জন্যে। তার মানে আমাদেরকে ওইভাবে চিন্তা করতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ চা বোর্ডের ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভাবনা অন্ত্যন্ত পজেটিভ। এগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। এবং যেহেতু চা শিল্প একটি ঐতিহ্যবাহী একটি শিল্প। ১৯৪৮ সাল থেকে চট্টগ্রামে চা নিলাম হচ্ছে। তাই এই বিষয়ে
শ্রীমঙ্গলে চা নিলাম কেন্দ্র নিয়ে আমরা একটু ভেবে চিন্তেই অগ্রসর হচ্ছি।
এ প্রতিবেদকের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ সব কথা বলেন।

tae-pic-21বাংলাদেশের চা শিল্প বড় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি আগামী ২০ বছরের মধ্যে এ শিল্প আর বড় হবে। তবে এটা ঠিক শুধু চিটাগাংয়ে একটা ট্রেডিং
দিয়ে চা সেল করে থাকি। হয়তো ভবিষ্যতে শ্রীমঙ্গলেও হবে। এরপর পঞ্চগড়ে হতে পারে। এগুলি বিষয় নিয়ে আমরা বিবেচনা করছি। শ্রীমঙ্গলে ট্রেড করার বিষয়টি অনেক দূর এগিয়েছে। এটা নিয়ে আলাপ আলোচনা হচ্ছে। আশা করছি শ্রীমঙ্গলে চায়ের দ্বিতীয় অকশন সেন্টার চালু হবে।

চা বোর্ডের চেয়ারম্যান আরও বলেন, বাংলাদেশের বায়ারা যেন চাগুলো কিনতে পারে সেটা যেখানেই হোক না কেন, পঞ্চগড় হোক, শ্রীমঙ্গলে হোক বা চিটাগাংয়েই হোক। যেন অনলাইনে ক্রয় করতে পারে সেজন্যও আমরা চিন্তা করছি। অলরেডি চিটাগাং টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনকে আমরা অনুরোধ করেছি, যে অনলাইনে যেন চায়ের বিক্রির ব্যবস্থা করতে পারেন। যেমন আজকের দিনে কোন গ্রেডের কোন দাম কি রকম যাচ্ছে। এটা অনেকটা শেয়ার মার্কেটের মতো আর কি।

চায়ের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অবশ্যই ভোক্তার ডিমান্ড বেড়েছে। আগে বাংলাদেশে আমরা গ্রামের লোকজন সন্ধ্যার পরে তেল কুপি নিভিয়ে ঘুমিয়ে পড়তো। কিন্তু ২০১৬ সালে এসে বাংলাদেশের এলাকার গ্রামে গঞ্জের লোকজন রাত্র ১২টা ১টা পর্যন্ত এলাকার চায়ের দোকানে বসে চা খায় গল্প করে সময় কাটায়। এত রাত্র পর্যন্ত যদি দোকানে বসে চা খায় তাহলে চায়ের ডিমান্ড তো বাড়বেই। এবং এটা অন্ত্যন্ত পজেটিভ দিক আমাদের চা শিল্পের জন্য যেহেতু আমাদের ইন্টারনাল আমাদের ডিমান্ড বেড়েছে অনেক।

এখন আসেন যে প্রোডাক্টশন। প্রোডাক্টশন যে আমাদের বাড়ে নাই এটা আমরা বলতে পারব না। কারণ বাংলাদেশে আগে চায়ের উৎপাদন ছিল ২৫ মিলিয়ন কেজি চা। সেখান থেকে আমরা বাড়িয়ে গত বছর চায়ের উৎপাদ ছিল ৬৮.৩৮টি মিলিয়ন কেজি চা। এ প্রোডাক্টশন বাড়ানোর পেছনে এই যে টি বোর্ড এবং টি বোর্ডের যে আমাদের রিচার্স ইনস্টিটিউট এবং আমাদের রিচার্সের ফল এটি। আমাদের বৈজ্ঞানিকরা রিচার্স করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যেন এই চায়ের
উৎপাদন আমরা আরও বাড়াতে পারি।
মো. সাফিনুল ইসলাম বলেন, আমরা চাই আমাদের চাও বিদেশে যাক। সারা পৃথিবী হচ্ছে ওপেন ইকোনমিক। যারা এক্সপোর্ট করতে পারবেন তারা ভালো দাম পাবেন। বাইরে পাঠাবেন। যারা কিনে আনতে চান। তার কিনে আনবেন। ভোক্তারা নির্ধারণ করবেন বাংলাদেশে। যে তারা বাংলাদেশি চা খাবেন না নাকি ইন্ডিয়ান চা খাবেন না শ্রীলংকান চা খাবেন।

আমরা চাইনা চা শিল্প এক জায়গায় স্থবির থাকুক টি টেস্টিং বিষয়ে তিনি বলেন, এবার বিটি আরাআই টি টেস্টিংয়ে আমাদের ৮০টির মতো চা বাগান এসেছে। এই যে টি টেস্টিং এটা তো সেন্ট্রালি এবার করছে। চা বাগান একটা শিল্প। এর সঙ্গে জড়িত আছেন যত পুরাতন অভিজ্ঞ শিল্পীরা। তারা এত সুন্দর ও ভালো মানের চা বানায়। তাই তাদের আমি শিল্পীর সঙ্গে তুলনা করি আর কি।

বছরে একবার চা টেস্টিংটা হলো এটি একটা উপলক্ষ্য মাত্র। এর মাধ্যমে আমরা সকলে একত্রে মিলিত হতে পারি। প্রতি চা বাগানে আপনি কি করছেন, আমি কি করছি। আপনার কি সুবিধা হচ্ছে। আমার কি অসুবিধা হচ্ছে। এর জন্যে অপারেশনে যারা আছে। তারা নিজেদের মধ্যে সম্পর্কটা একটা দৃঢ় করা। ইন্ডাষ্ট্রিজের ভিতরে সকলে মিলে এই চা শিল্পটাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। সেটাই হচ্ছে বছরে একবার চা টেস্টিংয়ের জন্য মিলিত হওয়ার মুখ্য উদ্দেশ্য।

এ বছরে চায়ের উৎপাদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে
এবার চা শিল্পের ১৬২ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ চা উৎপাদন হবে বলে চা বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। চা বিশেষজ্ঞদের মতে, এবছর দেশে ৭০ মিলিয়ন কেজি চা
উৎপাদন হবে। যা সর্বকালের সর্ব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে।

গত চা উৎপাদন মৌসুমে (২০১৫) দেশে চা উৎপাদন হয়েছিল ৬৮.৩৮ মিলিয়ন কেজি। যা ছিল এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ চা উৎপাদন। কিন্তু চলতি বছরের গত ৩০
জুন পর্যন্ত দেশে চা উৎপাদন হয়েছে ২৫.৩৮ মিলিয়ন কেজি। যা গত বছরের ওই সময়ের চেয়ে ৮.১৬ মিলিয়ন কেজি বেশি। গত বছর (২০১৫) ৩০ জুন পর্যন্ত চা
উৎপাদন হয়েছিল ১৭.২২ মিলিয়ন কেজি।
তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি নতুন জাতের চা উৎপাদন করেছে চা বোর্ড। যার ব্র্যান্ডিং নাম হচ্ছে সাতকড়া চা। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সাতকড়া ও চায়ের সংমিশ্রণের
মাধ্যমে সুগন্ধি ও সুস্বাদু এই চা উদ্ভাবন। খুব শীঘ্রই এই চা প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করা হবে। যার বাজার মূল্য হবে প্রতি কেজি প্রায় ১৫০০ টাকা। সাতকড়া
চা ব্রিটেনসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে রফতানি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সিক চাবাগানগুলো চোরাই চা পাতা প্রসেসিং ও নিলাম বাজারে অংশ না নিয়ে চোরাই চা বিক্রি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জিনিসটা শুনেছি, অভিযোগটা প্রচলিত আছে, এটা
প্রমাণ করার জন্য আমি আপনাদের মাধ্যমে সকলের সহযোগিতা চাই।

আমি এখানে গতবার ভিজিটে আসার পর থেকে পুরষ্কারও ডিক্লিয়ার করেছি। আমাকে গোপনভাবে জানান। যে এইখানে যান। আপনে এখানে অবৈধ এই গুদামে চা
পাবেন। বা অমুক ট্রাকটা যাচ্ছে এটা কিন্তু অবৈধ চা নিয়ে যাচ্ছে। সেজন্য আমি সকলকে বলব। আমাকে তথ্য দিন। চা বোর্ডকে সহায়তা করুন। চায়ের রাজস্ব
বাড়াতে সাহায্য করুন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: