সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ১৪ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মুক্তিযোদ্ধা কারা তাই নিয়েই চলছে বিতর্ক

1470848358নিউজ ডেস্ক: মুক্তিযোদ্ধার জাল সনদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে ২৯ জন পুলিশ সদস্য গ্রেফতার হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধা ইস্যু নিয়ে আবার টানাহেঁচড়া শুরু হয়েছে। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর এখন কারা মুক্তিযোদ্ধা বস্তুত তাই নিয়েই চলছে বিতর্ক। সরকার গত বছর নতুন করে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে গিয়েই এ বিতর্কে নতুন মাত্রা সৃষ্টি করে। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অন্তত পাঁচজন সচিব চাকরিকালে নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা না করা এবং পরে সনদ গ্রহণ করার প্রেক্ষাপটে ২০১৪ সালে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়। এ নিয়ে দুদক তদন্ত করে। তবে ওই সচিবেরা সনদ গ্রহণ করলেও সনদের কোনো সুবিধা না নেওয়ায় ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়নি মর্মে দুদক তাদের অব্যাহতি দেয়। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় শৃঙ্খলাবিরোধী কাজের জন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলে। এরই মাঝে এসব কর্মকর্তা চাকরি থেকে স্বেচ্ছা অবসর গ্রহণ করেন। ফলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। কারণ অবসরপ্রাপ্ত কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি সুযোগ নেই।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা ঠিক না করে তালিকা যাচাই-বাছাই করার বিরুদ্ধে খাদ্য বিভাগের এক কর্মকর্তার দায়ের করা রিটের শুনানি আজ বৃহস্পতিবার হওয়ার কথা রয়েছে। এ কথা জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সলিমউল্ল­াহ।

বঙ্গবন্ধুর শাসনকালে ১৯৭২ সালে ঘোষিত দি বাংলাদেশ (ফ্রিডম ফাইটারস) ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অর্ডার অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা না মানা, একেক সময় এক এক ধরনের সংজ্ঞা প্রবর্তন, সর্বোপরি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কোনো আইন প্রবর্তন না করায় বস্তুত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে নতুন বিতর্কের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। ১৯৭২ সাল থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারের বিভিন্ন আদেশ-নির্দেশ ও কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে এ ধারণা পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল ( অব.) হেলাল মোর্শেদ খান বীরবিক্রম ইত্তেফাককে বলেন, কারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিহ্নিত হবেন সেটি ১৯৭২ সালের অর্ডারে স্পষ্ট রয়েছে। এটি নিয়ে বারবার বিতর্ক করে মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় করা হচ্ছে। তার মতে, মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞা নতুন করে নির্ধারণের কিছু নেই। এটি নির্ধারিত আছে। ১৯৭২ সালের অর্ডারের যে ব্যাখ্যা তিনি দিচ্ছেন তাতে তিনি বলছেন, মুক্তিযোদ্ধা মানে এমন একজন ব্যক্তি যিনি মুক্তিযুদ্ধে নিয়োজিত যে কোনো সংগঠিত দলের (ফোর্স) সদস্য হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন বা কেউ যদি মুক্তিযুদ্ধে নিয়োজিত কোনো সংগঠিত দলের সদস্য না হন অথবা সদস্য হয়েও যদি সক্রিয় ভূমিকা না রাখেন তিনি মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় পড়বেন না।

(মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা সম্পর্কে ১৯৭২ সালের অর্ডারে ইংরেজিতে যা বলা হয়েছে যেটি এখনো বহাল তা হচ্ছে ‘ফ্রিডম ফাইটারস (এফএফ) মিনস এনি পারসন হু হ্যাড সারভড অ্যাজ মেম্বার অফ এনি ফোর্স এংগেজড্ ইন দি ওয়্যার অফ লিবারেশন)। ২০১৪ সালে নতুন করে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেটি অবশ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখনো অনুমোদন করেননি। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে পুনর্গঠিত জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের একটি উপকমিটি এ সংজ্ঞা নির্ধারণ করে। এ উপকমিটির প্রধান সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও প্রতিমন্ত্রী মোতাহের হোসেন। এই উপকমিটির সুপারিশ অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা: যে সমস্ত ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে ভারতের কোনো ট্রেনিং ক্যাম্পে নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন, লালমুক্তিবার্তায় যাদের নাম আছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিস্বাক্ষরিক সনদ যাদের আছে, যেসব বাংলাদেশি পেশাজীবী বিদেশে অবস্থানকালে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিভিন্নভাবে সক্রিয় অবদান রেখেছেন এবং যারা বিশ্বজনমত গঠনে ভূমিকা রেখেছেন, যারা মুজিবনগর সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারি ছিলেন; সেনা, নৌ. বিমান ও আনসার বাহিনীর যে সকল সদস্য মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এমএনএ ও এমপিএ, পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগী কর্তৃক নির্যাতিতা নারী মুক্তিযোদ্ধা বীরাঙ্গনা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবাদানকারী ডাক্তার, নার্স, অস্থায়ী সরকারের দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত কর্মচারী, মুক্তিযুদ্ধকালে গঠিত সংগ্রাম কমিটি- জেলা, মহকুমা, থানা কমিটির মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। তবে মুক্তিযোদ্ধার জন্য আবেদনকারীর বয়স মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৫ বছর হতে হবে এবং যারা যারা চাকরিতে প্রবেশের সময় মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে নিজেদের ঘোষণা দেননি তারা মুক্তিযোদ্ধা বলে গণ্য হবেন না।

অপরদিকে ২০০৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীর অবসরের বয়স বাড়ানোর পর ২০১০ সালের ৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্কালীন সচিব মোল্ল­া ওয়াহেদুজ্জান একটি পরিপত্র জারি করেন। এতে কারা মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারী হবেন তার সংজ্ঞা বা চারটি শর্ত দেয়া হয়। এসব শর্ত হচ্ছে: যারা চাকরিতে প্রবেশের সময় নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন অথবা যাদের নাম মুক্তিবার্তায় প্রকাশিত হয়েছিল অথবা মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে যাদের নাম গেজেটে প্রকাশ হয়েছিল অথবা যাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সই করা সনদ রয়েছে। এ চারটির যে কোনো একটি শর্তে মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার সুযোগ পান মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীরা। যদিও এখন আবার বলা হচ্ছে চাকরিতে প্রবেশের সময় মুক্তিযোদ্ধার কোটা সুবিধা না নিলে এখন তিনি মুক্তিযোদ্ধার সুবিধা পাবেন না।

অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ১৯৭২ সাল থেকে অদ্যাবধি মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা ও সংখ্যা নির্ধারণে ভিন্নতা রয়েছে। কোনো সংজ্ঞা নির্ধারণেই ‘৭২- এর নির্দেশ পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়নি। আর এটি না করায় মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় যে সংখ্যা তাতেও হেরফের হচ্ছে। বস্তুত এক্ষেত্রে আন্তরিকতার চাইতে অনেক বেশি দলীয় উদ্দেশ্য কাজ করেছে বলে সংশ্লি­ষ্টরা বলছেন।

মুক্তিযুদ্ধের পর সেক্টর কমান্ডার ও সাবসেক্টর কমান্ডারদের প্রকাশনা থেকে জানা যায, মুক্তিযুদ্ধে নিয়মিত বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল ২৪ হাজার ৮০০ এবং অনিয়মিত বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭ হাজার। অর্থাত্ মোট ১ লাখ ৩১ হাজার ৮০০ জন।

সেক্টর থেকে পাওয়া (মুক্তিযুদ্ধকালীন সেক্টর বিলুপ্তির পর এসব দলিল ইষ্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রশিক্ষণ ও রেকর্ড সংরক্ষণ প্রতিষ্ঠান ইবিআরসিতে স্থানান্তর করা হয়েছে) দলিলে দেখা যায় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৭০ হাজার ৮৯৬ জন। এখন মুক্তিযোদ্ধাদের মোট সদস্য সংখ্যা ১ লাখ ৩১ হাজার ৮০০ ধরা হলে বাকি ৬০ হাজার ৯০৪ জনের খোঁজ পাওয়া যায় না।

অপরদিকে ১৯৯৮ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্কালীন ডিজি মমিনউল্ল­াহ পাটোয়ারির নেতৃত্বে জেলা ও উপজেলা কমান্ডারদের নেতৃত্বে গঠিত যাচাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে একটি তালিকা করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে সংরক্ষণ করা হয়। এটিই এখন লাল বই নামে সমধিক পরিচিতি। এতে ১ লাখ ৫৪ হাজার মুক্তিযোদ্ধার নাম রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সূত্র জানায়, এই তালিকায় ইবিআরসিতে সংরক্ষিত ৭০ হাজার ৮৯৬ জনের মধ্যে অনেকের নাম ১ লাখ ৫৪ হাজারের মধ্যে নেই। অর্থাত্ এ তালিকাটিও অসম্পূর্ণ বলা যায়।

২০০১ সালে ক্ষমতায় আসে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। সে সময়ে আগের নীতি বাদ দিয়ে তত্কালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয় যাদের মুক্তিযোদ্ধার সঠিক তালিকা প্রণয়নে সুপারিশ করার কথা। এই কমিটির সুপারিশে মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে বাদ রেখে ইউএনও ও ডিসিদের নিয়ে উপজেলা ও জেলা যাচাই-বাছাই কমিটি করা হয়। তাদের সুপারিশে ২০০৩ ও ২০০৪ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করে দুটি গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর একটি ছিল বিশেষ গেজেট যেখানে সামরিক বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৩৯ হাজার জন এবং অপরটি গেজেট নামে অভিহিত করে তাতে সংখ্যা নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৫৯ হাজার জন। দুটি মিলে তখন মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৯৮ হাজার জন। জোট সরকারের সময় সংখ্যা বাড়ে ৪৪ হাজার যা ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভুয়া বলে অভিযোগ করে আসছে।

প্রসঙ্গত ২০০২ সালে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার জন্য আইন করা হয়। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনে প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান উপদেষ্টা রেখে সম্পূর্ণ ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে কাউন্সিল গঠনের বিধান করা হয়। এই কাউন্সিলকেই দেয়া হয় মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণসহ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা অনুমোদনের চূড়ান্ত ক্ষমতা। এ ধারাই এখনও বহাল।

প্রসঙ্গত, মুক্তিযোদ্ধা কারা হবেন সে সম্পর্কে ১৯৭২, ১৯৭৫, ১৯৭৯, ২০০২ এবং ২০০৯ সালে পৃথক পৃথক সংজ্ঞা বিদ্যমান রয়েছে। একাধিক সংজ্ঞা থাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয় নিয়ে যখন সংকট চলছে তখন নতুন করে সংজ্ঞা তৈরি করায় সংকটকে আরো উস্কে দেয়া হয়েছে বলে মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি। নতুন করে এ সংজ্ঞা নির্ধারণ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের স্নায়ুবিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে ইত্তেফাকে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশ হয়।

সংশ্লি­ষ্টরা বলছেন, ইতিপূর্বে মুক্তিযোদ্ধাদের সুবিধাদানকালে যেসব সংজ্ঞা কার্যকর বলে গণ্য হয়েছে ২০১০ সালে গণকর্মচারীদের চাকরিতে অবসরের বয়স বৃদ্ধিকালে যে সংজ্ঞা জারি করা হয় তাও কার্যকর বলে বিবেচিত হবে। এ সংজ্ঞাটিও সরকারের জারি করা এবং তা গেজেট আকারে প্রকাশও করা হয়েছে। কিন্তু এই সংজ্ঞা পাশ কাটিয়ে মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীদের সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এখন চাকরিতে প্রবেশের সময় মুক্তিযোদ্ধা বলে ঘোষণা না থাকলে তার সনদ জাল বলে তা বাতিল করা হচ্ছে।-ইত্তেফাক

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: