সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বাগমারায় প্রকাশ্যে ঘুরছে জেএমবি ক্যাডাররা!

214নিউজ ডেস্ক : এক সময়ের রক্তাক্ত জনপদ বাগমারা। শীর্ষ নেতা বাংলা ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ডের মধ্যদিয়ে এখানে স্তিমিত হয়ে গিয়েছিল নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির কার্যক্রম। তবে বাংলা ভাইয়ের সহযোগী হিসেবে সেই সময় যারা নানা অপকর্ম করেছে তারা এখন আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী জানান, জেএমবির উপজেলা পর্যায়ের প্রথম সারির নেতারা প্রকাশ্যে এলাকায় অবস্থান করলেও তারা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। অনেকে এখন ভোল পাল্টেছে। প্রশাসন ও সরকারি দলের নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের খুঁজে পাচ্ছে না।
সে সময় জেএমবি হামলার শিকার ও পুঙ্গত্ব বরণকারী দ্বীপপুরের ফজলুর রহমান ও হামিরকুৎসার রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বাগমারায় ২০০৪ সালে যারা জেএমবির নেতৃত্বে ছিলেন তাদের মধ্যে অনেকেই এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এরাই রাঘব-বোয়াল জেএমবি। তারা ধরা পড়ছে না, ধরা পড়ছে চুনোপুটিরা। আর শীর্ষ জেএমবি ক্যাডাররা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রচ্ছায়ার নির্বিঘেœ চলাফেরা করছে। বাংলা ভাইয়ের নির্যাতনের শিকার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ও বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুস সোবহান চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সে সময় বাংলা ভাইয়ের হুকুমে ও তার উপস্থিতিতে কাঁঠালবাড়ি গ্রামের কুদ্দুস (৪৮), একই গ্রামের বাচ্চুর ছেলে বিপুল (৩০), হামিরকুৎসার মোহাম্মাদ খামারুর ছেলে মাহতাব খামারু (৪৯), সাঁকোয়া গ্রামের সাহার আলী (৫০), শহিদুল (৪৮) ও মাঝগ্রামের লুৎফর প্রফেসরসহ আরো অর্ধশতাধিক জেএমবি ক্যাডার সাঁকোয়া গ্রামে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরবর্তীতে ঐসব ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও হয়। কিন্তু এখন তারা পুলিশ প্রশাসন ও কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতাকে ম্যানেজ করে এলাকায় দাপটের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সে সময় বাংলা ভাইয়ের অন্যতম সহযোগী ছিল উপজেলার একডালা গ্রামের আব্দুল হালিম। তিনি জামায়াতের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। জেএমবি দ্বারা নির্যাতিত ফজলুর রহমানের মামলায় সাড়ে ৩১ বছর সাজাপ্রাপ্ত আব্দুল হালিম বর্তমানে ভবানীগঞ্জ বাজারে আত-তিজারা নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে তার চেয়ারম্যান সেজেছেন। জেএমবি ও জামায়াতের অর্থদাতা হিসাবেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। উচ্চ আদালত থেকে জামিনে এসে তিনি এখন দাপটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতার ছত্রচ্ছায়ায়। এমন কি বাগমারায় অনুষ্ঠিত জঙ্গি বিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও তিনি অংশ নিচ্ছেন।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতাদের আশীর্বাদে জেএমবির অনেক শীর্ষ ক্যাডার বাগমারার বড় বড় প্রতিষ্ঠানে চাকরিও পেয়েছেন। সোবহান চৌধুরী যাত্রাগাছী ফাজিল মাদ্রাসার বর্তমান অধ্যক্ষ নুরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে বলেন, নূরুল উপজেলা জামায়াতের সাবেক সভাপতি ও বাংলা ভাইয়ের অন্যতম উপদেষ্টা। সে শীর্ষ এক আওয়ামী লীগ নেতার আস্থাভাজন হয়ে ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসার অধ্যক্ষের পদ হাসিল করেছে। উপজেলার গোলাকান্দি গ্রামের বেলাল হেজাতী ও হাবিবুর রহমান জেএমবির তালিকাভুক্ত সদস্য। এর আগেও তারা একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছিল। সে সময় পুলিশের উপর হামলা মামলায় তারা আসামি রয়েছে। এখন তারা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এছাড়া জেএমবির শীর্ষ ক্যাডার মাহতাব খামারু কয়েকজন সহযোগীসহ দু’-তিনটি মোটরসাইকেল নিয়ে এলাকা চষে বেড়াচ্ছে বলে তিনি জানান।
বেপরোয়া এসব জেএমবি ক্যাডারদের বিষয়ে জানতে চাইলে বাগমারা থানার ওসি তদন্ত আবুল কালাম আজাদ জানান, গত মাসে গ্রেপ্তার তিন জেএমবি সদস্যই প্রথম সারির। জেএমবির শীর্ষ ক্যাডারদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে আমরা বেশ সক্রিয়। তাদের তথ্য সংগ্রহ ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কারো ছত্রচ্ছায়ায় থেকে কেউ রেহাই পাবে না। গত মাসে পুলিশ বাংলা ভাইয়ের সহযোগী সাত্তার বিএসসি, জেএমবির কর্মী মামুন মহুরী ও ভাটা আকবরকে গ্রেপ্তার করে বলেও তিনি জানান। ইত্তেফাক

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: