সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ২৭ জুন, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আমরার ছোঁয়া তারার শরীলে লাগলিই তারা অফবিত্র হয়্যা যাইবোগি : শব্দকর’দের একজন (ভিডিও)

bv-550x309নিউজ ডেস্ক : উৎসব এলেই ডাক পড়ে তাদের। ঢাক-ঢোল আর কাসর বাজিয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে দেয় আনন্দের ঝর্ণাধারা। তবে উৎসবের রঙ্গে মানুষকে রাঙালেও তাদের জীবনের রং যেন হারিয়েছে সেই কবেই। এমনই এক জনগোষ্ঠীর নাম ‘শব্দকর’। দেশের নানা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী থাকলেও শব্দকর’রা রয়ে গেছে আলোচনার বাইরে।

ঢাক-ঢোল, করতাল এবং বাঁশি, শব্দকর’দের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাদ্যযন্ত্রে সুর তুললেও তাদের সংগ্রামী জীবন যেন বেসুর। জীবনের রংটাও যেখানে ঢলে পড়েছে দিগন্তের আড়ালে। যদিও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বেঁচে থাকার এমন গল্প বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে বাংলার অতিপ্রাচীন সংস্কৃতিকে। তবে একবিংশ শতাব্দিতেও উচ্চ বংশের নির্মমতায় আজ তা বিলীন হওয়ার পথে।
শব্দকরদের একজন বিনোদ রাম শব্দকর। যৌবনে অনেক ভূ-সম্পত্তি ও বিলাসী জীবন পাড় করলেও শেষ জীবনে তিনি প্রায় নিঃশ্ব। অবহেলিত সমাজেও। তিনি বলেন, ‘কোন সমাজে আমরারে লয় না। অপহেলিত করে। আমরার ছোঁয়া তারার শরীলে লাগলিই তারা অফবিত্র হয়্যা যাইবোগি। ভিটা বাড়ি নাই, আমরার শিক্ষা নাই-দীক্ষা নাই, কোন কিছু নাই।’
সাম্প্রদায়িক বর্ণ-বৈষম্যে সুখ হারিয়েছেন বিনদ রামের মতো অনেক শব্দকর। জেগে ওঠা দুঃখের চরে এখন কেউবা দিনমজুর, কারো জীবন রিক্সার প্যাডেলে আবার কারো জীবন কুলি বৃত্তে বন্দি। যাদের জীবনে অন্ধকার কাটেনা বর্ণমালার আলোতেও।
শব্দকর’দের এই করুণ পরিণতির কথা স্বীকার করেন সংশ্লিষ্টরা। জীবনমান পরিবর্তনে দুই একজন এগিয়ে এলেও তাদের সংখ্যা খুবই নগন্য। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হক বলেন, ‘অন্যান্য জনগোষ্ঠীর তুলনায় তার আসলেই অনেক পিছিয়ে। তাদের শিক্ষা, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্য নিয়ে এখন পর্যন্ত সমস্যা রয়েই গেছে।’
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল বিশ্বাস বলেন, ‘তাদের জীবন মানের উন্নয়ন দরকার। সব দিক থেকে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষদের যারা একই সমাজে বসবাস করি। তাদের প্রতি সদয় হওয়া উচিৎ।’

এমন দূরবস্থায় দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর চললেও এ যেন মনিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্মম উপলব্ধি, ‘ঈশ্বর থাকেন ঐ ভদ্র পল্লীতে, এখানে তাকে খুঁজিয়া পওয়া যাবে না’। দিন শেষে কষ্টের দীর্ঘশ্বাসই তাদের সঙ্গী।
যুগ যুগ ধরে লাঞ্ছনা-বঞ্ছনা, চরম অবহেলা আর বর্ণবাদের স্বীকার হয়ে ইতোমধ্যেই অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে শব্দকর সম্প্রদায়ের মানুষগুলো। একরকম স্বপ্নহীন, মূলহীন এবং সম্পদহীন হয়ে পড়া এই অতিপ্রাচীন জনগোষ্ঠীকে সমাজে টিকিয়ে রাখতে হলে এগিয়ে আসতে হবে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকেই।
সূত্র: চ্যানেল টোয়েন্টিফোর।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: