সর্বশেষ আপডেট : ৪২ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আফ্রিকার শিশুদের জীবনে ইবোলার প্রভাব সবচেয়ে ভয়াবহ

86e2fe9f7f5b0e16a6da2e61dc6d59df_XL-550x367নিউজ ডেস্ক : পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার প্রভাব কমে গেলেও রোগটির প্রভাব থেকেই যাচ্ছে। ইবোলা ভাইরাসে আফিক্রায় ১১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে সেখানকার বহু পরিবার। আফ্রিকার শিশুদের জীবনের ইবোলার প্রভাব আরও ভয়াবহ। পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার প্রাদূর্ভাবে মানুষের মৃত্যুর কারণে লাইবেরিয়া, সিওরালিয়ন এবং গিনীর প্রায় ২৩ হাজার শিশু এতিম হয়ে পড়েছে।
পশ্চিম আফ্রিকা সব শহরের তুলনায় গিনীর কোনাক্রি ও সিওরালিয়নের কাম্বিয়ায় সবচেয়ে বেশি মানুষ ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলো। ইবোলায় মৃত্যু হওয়া মা-বাবার সন্তানদের অনেকেরই দিন কাটে কেবল এক বেলা ভাত খেয়ে। এর বেশি ভাগ শিশুদের ভাগ্যে জোটেনা।

গিনীর কোনক্রি শহরে ইবোলা আক্রান্ত প্রথম রোগি ৩৫ বছর বয়সী মিস টোরি। এবং তিনিই প্রথম ব্যাক্তি যিনি চিকিৎসা নিয়ে বেঁচে আছেন। টোরির পরিবারের মোট ১৫ জন ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার মধ্যে ৯ জন সদস্যই মারা গেছেন। মিস টোরি এখন বেশ কিছু শিশুদের অভিভাবক। তাদের দেখাশোনার ভার এখন তার। তিনি বলেন, ‘আমি এখন সুস্থ্য আছি। কিন্তু এই শিশুদের দেখাশোনা কী করে করবো সেটাই এখন ভাবনার বিষয়। এটি একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমি তাদের সাহায্য করতে চাই। কিন্তু আমার সেই সামর্থ নেই।’

ইউনিসেফের যোগাযোগ বিভাগের প্রধান টিমোথি লারোজ বলেন, ‘আপনার যদি আর্থিক টানাপোড়েন থাকে আর তার মধ্যে যদি অনেকগুলো শিশুকে দেখাশোনার দায়িত্ব পড়ে তাহলে আপনার মানসিক চাঁপ থাকবেই। কারণ এই শিশুরা তাদের বাবা-মা-ভাই-বোন হারিয়েছে। ইবোলা আক্রান্ত হলেও সুস্থ হয়ে ফিরেছেন অনেকেই। তবুও এই মহামারির প্রভাব নিয়ে তাদের অনেক কাল থাকতে হবে। আর এ জন্য তাদের বিশেষ যতেœর প্রয়োজন।’
গিনীতে ৬ হাজর ২শ’ শিশু রয়েছে যারা ইবোলায় স্বজন হারিয়েছে। এই শিশুদের সবার জায়গা এতিমখানায় হয়নি। বেশির ভাগে শিশুর দায়িত্ব নিয়েছে তাদেরই দূরের কোন স্বজন। এ প্রসঙ্গে টিমোথি লারোজ বলেন, ‘এসব পরিবার যে শুধু এমন শিশুদের সাহায্য করছে তা নয়। তারা এসব শিশুদের কষ্টটাও উপলব্ধি করতে পারছে। পরিবারগুলো ইবোলার ভয়াবহতার শিকার। স্বজন হারনোর কষ্ট এদেরও আছে।’

২০১৪ সালে মার্চ মাসের গিনীতে ইবোলা আক্রান্ত রোগির সন্ধান পাওয়া যায়। এর তিন মাসের মধ্যেই রোগটি সিওরালিয়ন ও লাইবেরিয়ায় ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। ইবোলা মাহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়লেও পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশগুলোতে স্বাস্থ্য সেবার অবস্থা যে খুবই নাজুক তা উঠে আসে এই চিত্রের মাধ্যমে। চলতি বছরের জুন মাসে লাইবেরিয়া ও গিনীকে ইবোলা মুক্ত ঘোষণা করা হলেও আফ্রিকার দেশগুলোতে এর প্রভাব আগামী কয়েক বছর থেকে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: