সর্বশেষ আপডেট : ১৮ মিনিট ৬ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

একজোট হয়ে কাজ করার অঙ্গিকার দুই বিশ্বনেতার

149604_1আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানে একজোট হয়ে কাজ করার অঙ্গিকার করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মঙ্গলবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে দুই নেতার বৈঠকের পর গণমাধ্যমের কাছে তারা এই মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে কনস্টান্টটাইন প্যালেসে দুই নেতার বৈঠককালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার অবস্থানের কথা তুলে ধরে এরদোগানকে অবহিত করে বলেন, রাশিয়া সব ধরনের অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে।

গত বছরের নভেম্বরে তুর্কি বিমান বাহিনী কর্তৃক রাশিয়ার একটি বিমান গুলি করে ভূপাতিত করার পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে এটাই প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎ ও একান্ত বৈঠক।
এসময় গত ১৫ জুলাই তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘আমি আমাদের প্রধান মনোভাব আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, আমরা সব ধরনের অসাংবিধান প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে, আমরা সর্বদা শান্তি ও নিয়মতান্ত্রিকতার পক্ষে। আমি আশা করি, আপনার নেতৃত্বে ও ব্যবস্থাপনায় তুর্কি মানুষ এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।’

গত ১৫ জুলাই তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর এটাই প্রথম প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বিদেশ সফর। মঙ্গলবার তিনি সেন্ট পিটার্সবার্গে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। এই বৈঠকে তারা দ্বিপক্ষীয় সমস্যাগুলোর সমাধান সম্পর্কে কার্যকর আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।

তুরস্কের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা সত্ত্বেও এরদোগানের এই সফরকে দুই দেশের মধ্যকার ‘স্বাভাবিক বন্ধনের একটি চিহ্ন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই ‘দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে তুরস্ক এবং রাশিয়া লাভবান হবে’ বলেও পুতিন উল্লেখ করেন।

এসময় পুতিনের সঙ্গে একমত পোষণ করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, তুর্কি-রাশিয়ান সংহতি আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে।

‘আমাদের অঞ্চলে তুরস্ক ও রাশিয়া রাজনৈতিক একটা প্রত্যাশা রয়েছে। ফলে তুরস্ক-রাশিয়া সম্পর্ক একটি ভিন্ন এবং ইতিবাচক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে বলেও উল্লেখ করেন এরদোগান।

এদিকে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই সফর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রার সৃষ্টি করবে। ব্যর্থ অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আমেরিকা ও পশ্চিমাদের সাথে আঙ্কারার সম্পর্কের কিছুটা অবনতি ঘটে। অভ্যুত্থানের পেছনে আমেরিকা জড়িত বলে গত সপ্তাহে এরদোগান আবার ঘোষণা করেছেন।

পশ্চিমাদের সাথে আঙ্কারার দূরত্ব তৈরি হওয়ায় তুর্কি-রুশ সম্পর্ক পুনরায় স্থাপনে প্রেসিডেন্ট পুতিন বেশ আগ্রহী বলে একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। এই সম্পর্ক স্থাপনের অংশ হিসেবেই এরদোগানের এবারের রাশিয়া সফর।

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমারা যখন ১৫ জুলাইয়ের ব্যর্থ অভ্যুত্থানকারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তখন পুতিনই প্রথম বিশ্ব নেতা যিনি এরদোগানকে ফোন করে তার সমর্থন ব্যক্ত করেছিলেন। এমনকি সকল প্রকার সাহায্যেরও প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

গত বছরের নভেম্বরে তুর্কি বিমান বাহিনীর গুলিতে রুশ সু-২৪ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর এবার নাটকীয়ভাবে তুর্কি-রুশ সম্পর্ক উন্নত হওয়ার পথে।

২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর তুর্কি-সিরিয়া সীমান্তে রাশিয়ার একটি এসইউ-২৪ বোমারু বিমানকে কয়েকটি তুর্কি এফ-১৬ জঙ্গিবিমান গুলি করে ভূপাতিত করে। রুশ বিমানটি সিরিয়ার লাতাকিয়া প্রদেশের জাবাল তুর্কমেন এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। এতে বোমারু বিমানটির পাইলট নিহত হন।

হেলিকপ্টার যোগে উদ্ধার অভিযানে আসা রুশ বাহিনী তুর্কি সমর্থিত সিরীয় বিদ্রোহীদের গুলির মুখে পড়লে একজন রুশ মেরিন সেনা নিহত হন।

বিধ্বস্ত বোমারু বিমানের নেভিগেটর ক্যাপ্টেন কনস্তান্তিন মুরাখতিন বেঁচে ছিলেন। সিরিয়ার সরকারি বাহিনী তাকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী রুশ বিমান ঘাঁটিতে নিয়ে যায়।

তুরস্কের দাবি, সীমান্ত লঙ্ঘণ করার পর ১০ বার সতর্ক করা হলেও রুশ বোমারু বিমানটি সতর্কতার তোয়াক্কা করেনি।

অপরদিকে রাশিয়া বলেছে, বোমারু বিমানটি সিরীয় সীমান্তের ভিতরেই অভিযানে অংশ নিচ্ছিল এবং গুলি করার আগে কোনো সতর্কতা জানানো হয়নি।

এ ঘটনাকে পুতিন ‘পেছন থেকে ছুরি মারা’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।

নভেম্বরের এই ঘটনায় তুরস্ক ক্ষমা না চাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয় মস্কো। প্রতিক্রিয়ায় তুরস্কের উপর বাণিজ্যিক ও দেশটিতে প্যাকেজ ট্যুরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাশিয়া।

পুতিন বলেছিলেন, রাশিয়ার কাছে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত এসব নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

এ বছরের জুনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে পাঠানো এক বার্তায় এরদোগান ভূপাতিত বিমানটির নিহত পাইলটের পরিবারের প্রতি ‘সমবেদনা ও গভীর শোক’ জানিয়েছেন।

এরপর থেকে রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে থাকে তুরস্কের। সেই সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিতে এখন রাশিয়া সফর করছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।

তবে এ সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে এমনটি মনে করেন না বিশেষজ্ঞরা। ধারণা করা হচ্ছে, পশ্চিমাদের বিশেষ করে আমেরিকার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে রাশিয়ার সাথে কৌশলগত জোট গঠন করতে যাচ্ছে তুরস্ক।

যদি এমনটি ঘটে তাহলে বিশ্ব রাজনীতিতে আরেকটি নতুন মেরুকরণ তৈরি হতে যাচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এই মেরুকরণ হতে পারে রাশিয়া, চীন, ইরান ও তুরস্ককে ঘিরে।

সূত্র: আনাদোলু

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: