সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পাশ্চাত্য ও ইসলামিক সংস্কৃতির পার্থক্য বোঝালেন দুই মিশরীয় নারী

149546_1খেলাধুলা ডেস্ক: পাশ্চাত্য ও ইসলামিক নারী দলগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিকগত যে ব্যাপক ব্যবধান রয়েছে তা আবারো সবার দৃষ্টিগোচর করলেন মিশরীয় এবং জার্মান বিচ ভলিবল খেলোয়াড়েরা।

ব্রাজিলের রিও অলিম্পিকে মিশরীয় নারীদের বিচ ভলিবল দল গোড়ালি থেকে হাঁটু পর্যন্ত কাপড়ের আচ্ছাদন এবং দীর্ঘ হাতাযুক্ত জামা পরে অংশ নেয় যা নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক বিশ্বের।

খোলা আকাশের নিচে বিচ ভলিভল একটি দ্রুত এবং ক্ষিপ্তগতির খেলা। খেলাটি তারচেয়েও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ ও বিখ্যাত তার চিরাচরিত পোশাকের জন্য। সাধারণত নারীরা বিকিনি পরে এবং পুরুষেরা হাফপ্যান্ট পরে এ খেলায় অংশ নিয়ে থাকে।

কিন্তু এই ছবিগুলো রিও অলিম্পিকে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন জাতির মধ্যে একটি বিপরীতধর্মী সংস্কৃতির পরিচয় বহন করছে। পাশ্চাত্য বিশ্ব ও ইসলামিক বিশ্বের নারীদের পোশাকের মধ্যে যে শালীনতা রয়েছে, এই ছবিগুলো সেটিই স্পষ্ট করছে।

 

নাদিয়া মিয়াদ এবং দো এলগোবাসি নামের এই দুই মিশরী কন্যা হিজাব দিয়ে মাথা ঢেকে তাদের জার্মান প্রতিদ্বন্দ্বী লরা লুডভিগ এবং কিরা ওয়ালকেনহর্সটের মুখোমুখি হন। গত রবিবার রাতের ওই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জার্মান তরুণীদ্বয় খেলার ঐতিহ্যগত দুই টুকরা কাপড় পরে অংশ নেন।

যদিও আন্তর্জাতিক ভলিবল ফেডারেশন নিদির্ষ্ট আকারের ইউনিফর্মের ব্যাপারটি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এর আগে ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকেও হিজাব এবং গোড়ালি থেকে হাঁটু পর্যন্ত কাপড়ের আচ্ছাদন পরে খেলার অনুমতি দিয়েছিল তারা।

 

আন্তর্জাতিক ভলিবল ফেডারেশনের মুখপাত্র রিচার্ড বেকার রবিবার রাতে জানান,  খেলাটিকে সাংস্কৃতিকভাবে পূর্ণ বিকশিত করার উদ্দেশ্যেই তারা মুসলিম নারীদের এ ধরনের পোশাক পরে খেলার অনুমতি দিয়েছেন।

বেকার বলেন, ‘এ সিদ্ধান্তের পিছনে মূলত একটি বিষয় কাজ করেছে। আর তা হলো, বর্তমানে ২০১৬ অলিম্পিকের কন্টিনেন্টাল কাপ কোয়ালিফাইং প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিশ্বের ১৬৯টি দেশ জড়িত আছে। ২০১২’র  লন্ডন অলিম্পিকে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ১৪৩।’

খেলা শেষে পদক প্রত্যাশি লুডউইগ এবং ওয়ালকেনহর্সট পুল ‘ডি’তে তাদের মিশরীয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে জয়ের ধারা অটুট রাখেন। প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী ওই ম্যাচে লুডউইগ এবং ওয়ালকেনহর্সট ২-০ তে বিজয়ী হন।  .

আফ্রিকা মহাদেশের বাইরে মিশরীয়রা এই প্রথম একসঙ্গে তাদের প্রথম আন্তর্জাতিক খেলায় অংশ নেয়। গত বছরের এপ্রিলে তারা একটি টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন।

খেলা শেষে এলগোবাসি সাংবাদিকদের বলেন,  ‘আমি ১০ বছর বয়স থেকে হিজাব পরে আসছি। আমি হিজাব পরতে ভালবাসি এবং খেলায় হিজাব আমার জন্য কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। এছাড়া আমি বিচ ভলিবলও অনেক পছন্দ করি। বহু জাতিক অলিম্পিক কার্নিভালে মিশরীয় পতাকা বহন করতে পেরে আমি গর্বিত।’

আজ মঙ্গলবার রাতে উভয় দলেরও ফিরতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে।

 

মেইল অনলাইন অবলম্বনে ভাষান্তর মো. রাহল আমীন

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: