সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মনু-ধলাই-কুশিয়ারা নদীর বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন

0a8be732-b253-4464-9e4a-42bd3467ace9নিজস্ব প্রতিবেদক :: মনু, ধলাই, কুশিয়ারা, ফানাই ও কন্টিনালা নদী মৌলভীবাজার জেলাবাসীর জন্য দুঃখ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত এ নদীগুলোর প্রতিরক্ষা বাঁধের দু’তীরের বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে বসতবাড়ি ফসলের জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ভাঙনের কবলে পড়ে গৃহহারা হচ্ছে শত শত পরিবার। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই অব্যাহত ভাঙণে জনবসতি, ফসলের মাঠ নদ গর্ভে তলিয়ে যায়। এসব ভাঙন রোধে বছরে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ এলেও টাকার অনুপাতে মেরামত কাজ না করে লোপাট করে নিয়ে যাচ্ছে একটি সিন্ডিকেট-এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর।

সূত্র জানায়, ধলাই নদের আলেপুর নামক স্থানে ডানতীর ভেঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয় হুমকির মুখে পড়েছে। মনু নদী শরীফ ইউনিয়নের তেলিবিল ও হাজীপুর নামক স্থানে ডানতীরের জনবসতি হুমকির মুখে পড়ে পাকা ব্লক ভেঙ্গে প্রতিরক্ষা বাঁধে ধ্বসে নেমেছে। রাজনগর উপজেলার উত্তর সীমানা দিয়ে প্রবাহিত কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে উভয়তীর। ফতেপুর ও উত্তরভাগ ইউনিয়নের বিলবাড়ি, বেড়কুড়ি, শাহনুর, হাদাপুর, জাহিদপুর, আবদুল্লাহপুর, কান্দিগাঁও, নলুয়ারমুখ বাজার (কালারবাজার), সদর উপজেলার মনুমুখ, ফাজিলপুর, বাহাদুরপুর, দাউদপুর, কাটাগঞ্জবাজার, হামেরকোণা, ব্রাহ্মণগ্রাম ও শেরপুর বাজারের নদীতীরের নৌবন্দর এলাকা এবং নতুনবস্তি ভাঙনের মুখে পড়ে। এতে শেরপুর বাজারসহ বাড়িঘর, দোকানপাট মসজিদ-মন্দির ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। দুই/তিন দিনের টানা বর্ষণে রুদ্রমূর্তি ধারণ করে দুক’ল ভাসিয়ে ফসলের মাঠসহ জনবসতি লণ্ডভণ্ড করে দেয়। শুরু হয় বসতবাড়ি, গবাদিপশু ও জমির ফসলহারা মানুষের আর্তনাদ। নদীগুলোর অন্তত ৫০টি স্থান অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভারত সীমান্ত শরীফপুর ও হাজীপুর এলাকা ব্যাপক ভাঙনের কবলে পড়ে মৌলভীবাজারের মানচিত্র পাল্টে যাচ্ছে। জেলাবাসীর মধ্যে বন্যাতংক বিরাজ করেছে। খরস্রোতা মনুনদীর বাঁধ ভেঙে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলের মাঠ লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। মহাপরিকল্পনা নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণের স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বন্যাক্রান্ত জেলাবাসী হতাশ হয়ে পড়েন।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানিয়েছে, মনুনদীর কুলাউড়া, রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আলীনগর, রণচাপ, জালালপুর, পালপুর, মূর্তিকোণা, খাসপ্রেমনগর, আদিমাবাদ, আশ্রয়গ্রাম, কোণাগাঁও কটারকোণা, কান্দিরকূল, হাসিমপুর ছাড়াও শুধু কুলাউড়া উপজেলার ১৮টি গ্রামের ভূ-খণ্ড নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। এসব গ্রামগুলোর মধ্যে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগর, সাইলকা, গজভাগ, রাজাপুর, কালিরকোণা, সুজাপুর, টিলাগাঁও ইউনিয়নের চাঁনপুর, আশ্রয়গ্রাম, ইসবপুর, জালালপুর, সন্দ্রাবাজ ও হাজীপুর ইউনিয়নের রণচাপ, চক রণচাপ, হাজীপুর, মাহতাবপুর, মনুবাজার ও কাউকাপন। শরীফপুর ইউনিয়ন অফিস ভবনের অস্তিত্ব ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। মনুনদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঠিক পরিকল্পনা না থাকায় মনুপাড়ের মানুষের মধ্যে বন্যাতংক ও দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। কুলাউড়ার পৃথিমপাশা, শরীফপুর ও হাজীপুর ইউনিয়নের কয়েক শত বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হতে চলছে। ২০০৪ সালের ভয়াবহ বন্যার পর মেরামত কাজে অনিয়মের অভিযোগ করে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি সহকারে অভিযোগ দিলেও কোনো তদন্ত করা হয়নি বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন। বন্যা মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা না নিয়ে স্তরে স্তরে উন্নয়ন ও প্রতিরক্ষা বাঁধ সংস্কার করায় বন্যায় আক্রান্ত হতে হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, টার্গেট অনুযায়ী-প্রতি বছর ৫০০ মিটার বাঁধে উন্নয়ন কাজ না হয়ে ১০০ মিটার কাজ হচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনার অভাব ও স্বজনপ্রীতি এবং বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ঠিকাদারদের প্রভাবে কর্তৃপক্ষ তাদের ইচ্ছামত নকশা প্রণয়ন করতে পারে না। এতে করে প্রয়োজন নেই-এমন সব জায়গায় বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করতে হয় বলে বহু অভিযোগ রয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিগত অর্থবছরে এ জেলায় ৬৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ওই প্রকল্পের অধীনে পর্যায়ক্রমে তা তিন বছরে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে ১৭০ কিলোমিটার প্রতিরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থান ৪-৫ ফুট উঁচু এবং চওড়া বৃদ্ধি করা হয়। যেসব স্থানে বাঁধ ভেঙ্গে সংকুচিত হয়ে প্রশস্ততা কমে গেছে, সে সব জায়গায় জমি অধিগ্রহণ করে বাঁধের পরিধি বাড়ানো হয়। মনুনদীর যে সব স্থানে বাঁক ভাঙনের কবলে রয়েছে, সেসব স্থানে পাথর ফেলে মজবুত করা হয়; যাতে ওই এলাকার বাড়িঘর বিলীন হয়ে না যায়। মৌলভীবাজার শহরের বড়হাট এলাকা থেকে শেরপুর পর্যন্ত বামতীরের ঝুঁকিপূর্ণ স্থনে অবস্থা ভেদে ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার ‘কোর ওয়াল’ বা বন্যা প্রতিরক্ষা পাকা দেয়াল নির্মাণ করা এবং শহর প্রতিরক্ষা বাঁধ হচ্ছে। দু’পাড়ের প্রতিরক্ষা বাঁধ উঁচু হলে নদীতে স্রোত বেড়ে যাবে কয়েকগুণ, তখন উজান থেকে আসা পলি-বালি আটকিয়ে নাব্যতা হ্রাসের আশংকাও অনেকখানি কমে যাবে। কুশিয়ারা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় নদী তীরবর্তী অন্তত অর্ধশত গ্রাম হুমকির মুখে রয়েছে।

চলতি বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে ভাঙনের তীব্রতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। রাজনগর উপজেলার উত্তর সীমানা দিয়ে প্রবাহিত কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে বিলীন হতে চলছে ফতেপুর ও উত্তরভাগ ইউনিয়নের নদীতীরের জনবসতি ও ফসলের মাঠ। নদীতীরের বাসিন্দা উমর আলী, ফাতির মিয়া, আশিক মিয়া, খলিল মিয়া ও ফাহিম মিয়াসহ এলাকার বহু নারী-পুরুষ আলাপকালে এ প্রতিবেদককে জানান, ফতেপুর ইউনিয়নের বিলবাড়ি, বেড়কুড়ি, শাহনুর, হাদাপুর, জাহিদপুর, আবদুল্লাহপুর, কাশিমপুর, ইসলামপুর, কালারবাজারের উত্তরাংশ, মোকামবাজার, কান্দিগাঁও ও নলুয়ারমুখ বাজার (কালারবাজার); মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ, ফাজিলপুর, বাহাদুরপুর, দাউদপুর, কাটাগঞ্জবাজার ও হামেরকোণা, ব্রাহ্মণগ্রাম ও শেরপুর বাজারের নদীতীরের নৌঘাট এলাকার ও নতুনবস্তি ভাঙনের মুখে পড়ে শেরপুর বাজারসহ এ এলাকার অনেক বাড়িঘর, দোকানপাট মসজিদ-মন্দির ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। কুশিয়ারা নদীর ডানতীরের সুনামপুর, উম্মরপুর, খাসগাঁও ও বকশিপুরসহ বিশাল এলাকাজুড়ে নদী ভাঙনের শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নদীতে পানিও বাড়ছে। লোকজন অভিযোগ করেন, পাউবো’র তত্বাবধানে এসব এলাকায় পাকা ব্লক নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিলেও নির্ধারিত মেয়াদ অতিক্রম করার পরও ভাঙনকবলিত এলাকায় ব্লক বসানো হয়নি। মাঝে-মধ্যে যা কিছু ব্লক বসানো হয়েছে, তাতেও পুকুর চুরির ঘটনা ঘটেছে। নিম্নমানের সামগ্রি দিয়ে তৈরি ব্লকগুলো স্থানান্তরের সময় ভেঙে যায়। এতে হাজার হাজার ব্লক তৈরির পর নদীতীরে পরিত্যাক্ত অবস্থা পড়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুপারেন্টেনডেন্ট ধীরেন্দ্র নাথ জানান, ইতোমধ্যে পুরাতন প্রজেক্টের মেরামত ও আনুসঙ্গিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্খ বরাদ্দ চেয়ে চেয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বছরের শুরুতেই কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ এখনও আসেনি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: