সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ১৫ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বাঘ-মানুষ এক ঘাটে

full_1986924471_1470703453নিউজ ডেস্ক: বাঘের বসবাস গহীন অরণ্যে, লোকালয় থেকে দূরে। যেখানে তাদের খাওয়ার মতো অবাধ প্রাণী চরে বেড়ায়। অথবা বাঘের দেখা মিলবে চিড়িয়াখানায়। এখানে কৃত্রিমভাবে তাদের খাবারের জোগান দেওয়া হয়। ‘বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খেতে পারে’ হয়তো কিন্তু বাঘে-মানুষে একই এলাকায় থাকতেও পারে না।

প্রাণীজগতের মধ্যে সখ্যের প্রবণতা আদিম। আর মানুষই পারে প্রয়োজনে সব ধরনের প্রাণীর সঙ্গে সহাবস্থান করতে।

মোহনাপুর গ্রামে কিছু দিন হলো এক বাঘিনী তার তিন শাবক নিয়ে বাস করছে। ভারতের উত্তর প্রদেশের শাহজাহানপুর জেলার মফস্বল শহর খুতারের পাশে এ গ্রামটি। গাছপালার আধিক্য আছে এ গ্রামে। মানুষও বসবাস করে বহু আগে থেকে। মানুষের পাশাপাশি বাঘিনীও সংসার পেতেছে মোহনাপুরে। সহজে বর্ণনা দেওয়া গেলেও এর আতঙ্কের জায়গাটি গ্রামবাসী হাড়েহাড়ে টের পায়। কখন কার ওপর হামলে পড়ে বাঘিনী ও তার শাবকরা- এ নিয়ে গ্রামবাসীর দুশ্চিন্তার অন্ত নেই।

তবে বাঘিনী গ্রামের কারো ওপর এখনো আক্রমণ করেনি। এ গ্রামের জঙ্গলাঞ্চলে বুনো শূকরের অভয়ারণ্য হওয়ায় বাঘিনীর খাবার জোগাড় করতে খুব বেগ পেতে হয় না। বুনো শূকর রক্ত-মাংসে আপাতত ক্ষুধার জ্বালা মেটাচ্ছে তারা। তারপরও গ্রামবাসীর আতঙ্ক দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। খাবারের সংকট হলে বাঘিনী মানুষখেকো হয়ে উঠবে না- এমন নিশ্চয়তা মোটেই পাচ্ছে না তারা।

সম্প্রতি ভারতে মানুষখেকো বাঘ চিহ্নিত হওয়ায় সাজা হিসেবে আজীবন তাদের বন্দি রাখার রায় দিয়েছেন আদালত। ফলে ‘পেটে ছুঁচো দৌড়াতে’ শুরু করলেই বাঘ দৌড়াবে মানুষের পিছে, তাকে বধ করে পেটের জ্বালা মেটাতে। তবে গ্রামবাসী বাঘিনী ও তার শাবকদের ওপর কোনো হামলা চালায়নি বা তাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করেনি। বাঘে-মানুষে একসঙ্গে বাস করছে মোহনাপুর গ্রামে।

এ ধরনের আরেকটি ঘটনার কথা জানা যায় উত্তর প্রদেশের পিলিবহিট জেলার আমারিয়া গ্রামে। বছর দুই হলো এ গ্রামেও একটি বাঘিনী তার দুই শাবক নিয়ে বাস করছে। মোহনাপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মতো আমারিয়া গ্রামের মানুষও বাঘিনী ও তার শাবকদের কোনো ক্ষতি করেনি। কিন্তু গ্রামবাসী সব সময় আতঙ্কে থাকে। খাবারের কমতি হলে কখন আবার ঘাড় চিবাতে হামলে পড়ে অরণ্যের হিংস্রতর এ প্রাণী। তবে আজ অবধি কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

ভারতে ৪৯টি বাঘ সংরক্ষণ অঞ্চল রয়েছে। উত্তর প্রদেশের পিলিবহিট তার মধ্যে একটি এবং এ প্রদেশের একমাত্র স্থান যেখানে বাঘ আছে। এখানে ৩৬টি বাঘ আছে। সংরক্ষিত এলাকায় তারা বিচরণ করে। পিলিবহিট জেলার গ্রাম আমারিয়া। ফলে সেখানে ভুল করে চলে আসতে পারে বাঘ। কিন্তু শাহজাহানপুর জেলার মোহনাপুর গ্রাম পিলিবহিট থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে। সেখানেও ভুল করে বাঘিনী তার দুই শাবককে নিয়ে চলে গেছে- শুনলেই বিস্মিত হতে হয়। তবু এটিই সত্যি।

বাঘের সঙ্গে মানুষের সখ্যের সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় টাইগার টেম্পেলে। সেখানে বাঘের গলা জড়িয়ে ধরতে পারে মানুষ। আরেকটি চিড়িয়াখানা আছে আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আয়ার্স প্রদেশে। লুজান নামে এ চিড়িয়াখানায় চাইলে বাঘের মুখে চুমু দেওয়া যায়। এ দুই জায়গায় বাঘ শাবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ফলে তাদের মুখে মুখ রাখারও সুযোগ হয়। কিন্তু মোহনাপুর ও আরামিয়া গ্রামের মানুষ সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে বসবাস করছে বাঘের চরাচরের মধ্যেই। সত্যিই, প্রকৃতিতে কত কিইনা সম্ভব!

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: