সর্বশেষ আপডেট : ২১ মিনিট ২০ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৮ মে, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

৪০ বছর ধরে গুহায় বাস

full_1289945168_1470308919নিউজ ডেস্ক: মানুষ অনেক অনেককাল আগেই গুহা ত্যাগ করেছে। গড়ে তুলেছে গ্রাম, শহর, দেশ। এই সময়ে এসে গুহাবাসী মানুষের দেখা পাওয়ার চিন্তা করাও পাগলামি। তবে বিশ্বাস করুন, আর নাই করুন- গুহাবাসী এখনো আছে, অন্তত একজন হলেও আছে। তার নাম পেদ্রো লুকা, বয়স ৭৯। অরণ্য না থাকলেও শিকার করে পেট চালান। একটা পেট তো, তাই শিকারের অভাব হয় না। পিপাসা লাগলে ঝরনার পানি খান। নেই লাইনের পানি, নেই বিদ্যুৎ। এভাবেই আর্জেন্টিনার উত্তরের টুকুম্যান প্রদেশের একটি পাহাড়ের গুহায় কাটিয়ে দিলেন ৪০ বছর।

যখনই ক্ষুধা লাগে তখনই হাতে তুলে নেন তার প্রিয় রাইফেল। তারপর বেরিয়ে পড়েন শিকারের খোঁজে।

তার খাওয়ার পানির প্রধান উৎস একটি ক্রিকের (ঝরনার পানির ধারা) পানি।
‘একেবারে টলটলে পানি, খেতেও খুব ভালো লাগে,’ বললেন তিনি। গুহায় তার সঙ্গে থাকে ১১টি মোরগ-মুরগি আর দুটি ছাগল। সারা দিন পাহাড়ের এখানে সেখানে আপন মনে ঘুরে বেড়ায়। রাত হলে আশ্রয়ের সন্ধানে আবার ফেরে গুহায়। পুমা ও অন্যান্য শিকারি প্রাণীর হামলার ভয় তো তাদেরও আছে!

ভোরে মোরগ ডাকার সঙ্গে সঙ্গে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন তিনি। এরপর আগুন জ্বালান। তার তাপে পুরো গুহায় উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় তার অনুভূতি হয় খুবই আরামদায়ক, ‘আগুন যেন জাদুর মতো। মনও ভরে যায় উষ্ণতায়।’

তার গুহায় শৌখিন কোনো কিছুই নেই। তবে ব্যাটারিচালিত ছোট্ট একটি রেডিও আছে। কিন্তু তা বাজানোর সময় পান না বললেই চলে। আর বাজলেও ঘ্যার ঘ্যার করে। পাহারের ওপর ভালো সিগনাল পাওয়া দুষ্কর।

প্রতিদিন তাকে তিন ঘণ্টা হাঁটতে হয়। গুহায় পৌঁছাতে উঠতে হয় পাহাড়ের ঢাল বেয়ে। তার ত্বক সামান্য কুঁচকে গেছে। দাঁতও পড়ে গেছে বেশ কয়েকটি। কিন্তু দেখতে তাকে ৮০ বছরের নয়, অনেক কম বয়সের মানুষ মনে হয়।

‘নিঃসঙ্গ জীবন আমার খুব ভালো লাগে। ভালো লাগে বন্য জীবনের স্বাদ নিতেও। আসলে ছেলেবেলা থেকেই এ রকমই একটি জীবন চেয়েছিলাম,’ নিজের চাওয়া-পাওয়ার কথা বললেন পেদ্রো। তিনি বেড়ে ওঠেন দাদার কাছে। বাড়ি ছেড়ে জীবিকার সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন ১৪ বছর বয়সে। প্রথমে যান উত্তর আর্জেন্টিনা, পরে কয়লা পরিবহনের কাজ নিয়ে যান বলিভিয়ায়।

‘আমি কখনো আমাকে জিজ্ঞেস করে দেখিনি যে, এই জায়গা কেন আমি বেছে নিলাম। কাছাকাছি আরেকটি গুহা আছে। কিন্তু এটিকেই আমার বেশি ভালো লাগে,’ বলেন তিনি। এরপর আরো বললেন নিজের ইচ্ছার কথা, ‘কখনো কখনো আমার মনে হয় ঘুরেফিরে পৃথিবী দেখতে পেলে খুব ভালো লাগত।’

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: