সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সরকারি অফিসে কমেছে কাগজ-কলমের ব্যবহার

mirzapur-picture--3_122916নিউজ ডেস্ক: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সরকারি অফিসের দাপ্তরিক কাজে কাগজ-কলমের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। মানবসভ্যতার অন্যতম এ দুই উপকরণ কাগজ-কলমের ব্যবহার কমলেও বেড়েছে কাজের গতি, কমেছে ভোগান্তি। অফিসের ফাইল, টেন্ডার, চিঠিপত্র, সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- ও দিক নির্দেশনাসহ অধিকাংশ কাজই ই-মেইল, ফেসবুক ও মোবাইল ম্যসেজের মাধ্যমে আদান-প্রদান হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্র জানিয়েছে।

জনগণকে সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-, দিক-নির্দেশনা জানানো ছাড়াও সরকারি সব ধরনের সেবা দিতে কাগজ-কলমের ব্যবহারের বিকল্প ছিল না। অফিস থেকে অন্য অফিসে চিঠিপত্র ও ফাইল চালাচালির করতেও কাগজ-কলমে লেখে তা পিয়নের সাহায্যে পাঠানো হতো। এতে সময় ও অর্থের অপচয় হতো।

কিন্তু বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় এর নির্দেশনায় ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু হলে সকল ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করা হয়। ইতোমধ্যে এ উপজেলার প্রায় সকল সরকারি অফিসে কম্পিউটার সরবরাহ ও ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান এবং তা ব্যবহারের উপর নির্দেশাও দেয়া হয়। এতে উপজেলার সকল অফিসের কর্মকর্তারা তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার শিখে তা ব্যাপকভাবে শুরু করেন। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার শিখতে জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাকরিভাবে বিনামূল্যে ট্যাব দেয়া হয়।

সরকারের এসব পৃষ্ঠপোষকতা ও নির্দেশনার কারণে বদলে গেছে মির্জাপুর উপজেলার সরকারি অফিসের চিত্র। এখন হাতেকলমে লেখে ফাইলের কাজ আর তেমন করতে দেখা যায় না। টেবিলের সামনে ফাইল ও চিঠিপত্রের স্তূবও নেই।

জানা গেছে, সরকারিভাবে ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে পেপার লেস অফিস গড়ার। সে লক্ষ্যে সারাদেশে পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে মির্জাপুর উপজেলায় পেপার লেস অফিস চালু করতে ওই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হতে মির্জাপুর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুম আহমেদ ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

মির্জাপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আহসান হাবিন খান ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম, সমাজ সেবা কর্মকর্মা মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, আমাদের অফিসের অধিকাংশ কাজ এখন অনলাইনের মাধ্যমেই সেরে থাকি। এতে কাগজ-কলমের ব্যবহার কমলেও কাজের গতি বেড়েছে অনেক বেশি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আকতারুজ্জামান খান বলেন, কম্পিউটারে লেখে ইমেল, ফেসবুক ও মোবাইলের মাধ্যমে ঘরে বসে অল্প সময়ে যে কাজ করা যায়। কাগজ-কলমে তা সাত দিনেও সম্ভব নয়।

উপজেলার সকল অফিস ও কর্মকর্তাদের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুম আহমেদ ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার নিজ উদ্যোগে টেনিংও করিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ফলে টাঙ্গাইল জেলায় অনুষ্ঠিত ডিজিটাল মেলায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেয়েছে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ও জেলার শ্রেষ্ঠ টেকনিশিয়ান হিসেবে মির্জাপুর উপজেলা টেকনিশিয়ান শাহ আলম পুরস্কার জিতেছেন।

মির্জাপুর উপজেলা টেকনিশিয়ান মো. শাহ আলম জানান, মাসিক উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা সভার নোটিস, রেজিলেশনসহ সরকারি উন্নয়ন ও দিক নির্দেশনা এখন আর কাগজ-কলমে লেখে কোন অফিসে পাঠানো হয় না।

তিনি বলেন, এখন কম্পিউটারে কম্পোস করে উপজেলার সকল কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, এনজিও কর্মকর্তা, সাংবাদিকদের মেইল নম্বরে এবং মোবাইলে ম্যসেজ পাঠিয়ে জানিয়ে দেয়া হয়। তাতে সভায় উপস্থিতি আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুম আহমেদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে কাগজ-কলমের ব্যবহার কমেছে। সরকারের পেপার লেস অফিস করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। পেপার লেস অফিস হলে ভোগান্তি কমে কাজের গতি বেড়ে যাবে তিনি উল্লেখ করেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: