সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ১৮ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৫ জুন, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এক হাতে দিয়ে গাড়ি চালিয়ে জীবন সংগ্রামে বিশ্বনাথের সমুজ

87451245বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে এক হাতে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন সমুজ আলী (৩৫) নামের এক চালক। সে উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের চাঁন্দভরাং গ্রামের মৃত মছদ্দর আলীর পুত্র। অভাব অনটনের সংসার চালাতে কারো কাছে হাত না পেতে এক হাতে দিয়েই জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাও তার ডান হাত নেই। শুধু বাম হাত দিয়েই দীর্ঘ ১৬বছর ধরে গাড়ি চালিয়ে টাকা উপার্জন করে সংসার চালিয়ে আসছেন। তবে তিনি অন্যের গাড়ি ভাড়া নিয়ে রোজগার করে পরিবারের পাঁচ সদস্যের সংসার চালাচ্ছেন।

সমুজ আলী জানান, প্রায় ২৮বছর পূর্বে আমগাছ থেকে নিচে পড়ে তার হাত ভেঙে যায়। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ৮বছর। অনেক চিকিৎসা করেও কোনো উন্নতি না হওয়ায় হাতটি কেটে দেয়া হয়। পূর্ণ বয়স হওয়ার পর তার গ্রামের আশরাফ আলী নামের অপর এক অটোরিকশা চালকের সঙ্গ নেন। উস্তাদ হিসেবে তার সঙ্গে কাজ করেতন। তখনকার সময়ে উস্তাদের গাড়ি ছিল টু’ষ্ট্রোক (বেবীটেক্সি)। গাড়িটি প্রতিদিন পানি দিয়ে ধুয়ে মুছে পরিস্কার করতেন। এতে পারিশ্রমিক হিসেবে কিছু টাকাও পেতেন। উস্তাদের কাছে গাড়ি চালানো শেখার প্রস্তাব করলে একহাত না থাকার ভয়ে তিনি তার প্রস্তাবে রাজি হননি। কিন্তু হাল ছাড়েনি সমুজ। ভবিষ্যতে পথচলার কথা চিন্তা করে গাড়ি চালানো শিখতেই হবে। তার মনে এমনটাই বিরাজ করছিল। কিভাবে চালকরা গাড়ি চালান চালকদের সঙ্গে থেকে সেটা অনুমান করতেন। অবশেষে তার ওই অনুমান নির্ভরই কাজে লাগে।

একদিন গাড়ি ধোয়ার পর উস্তাদের অনুমতি না নিয়ে ইঞ্জিন সূইচ দিয়ে গাড়িটি চালাতে শুরু করেন। বাম হাত দিয়ে ক্লাস আর হাটু দিয়ে এক্সলেটার ধরে গাড়ি চালালেন। ধীরে ধীরে তার গাড়ি চালানো শেখা হয়ে যায়। তার পরেও আশরাফ আলীকে উস্তাদ বলে পরিচয় দিচ্ছেন। কিন্তু পেশা হিসেবে আর হাত ছাড়া গাড়ি চালানো যাবেনা। তার ডান হাত না থাকায় এক্সলেটার ধরার জন্য বিকল্প পদ্ধতি খোঁজতে থাকেন। হঠাৎ একদিন ভাগ্যক্রমে গাড়ি ধোয়ার সময় এক্সলেটারের সঙ্গে একটি সুতলি আটকে (পেছকি) লেগে যায়। সুতলি খুলতে গিয়ে এক্সলেটার ঘুরতে দেখেন। ঘুরে যায় সমুজ আলীর ভাগ্যের চাকা। তিনি ওই পদ্ধতি ধরে সুতলি বেঁধে বড় গাড়ির মতো পা-দিয়ে এক্সলেটার ধরে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালাচ্ছেন।

সকল নিয়ম মেনে দক্ষ একজন চালকের মতো গাড়ি চালাতে পারেন। তার গাড়ির সামনের গ্লাসে লেখা থাকে ‘চালক প্রতিবন্ধি’। তাই গাড়ির গ্যাস আনতে মহা-সড়ক দিয়ে গেলেও মানবিক দৃষ্টিতে পুলিশ তাকে নিষেধ করেনা। আর ওই উপার্জনের টাকা দিয়ে দুই ছেলে, একমেয়েসহ পাঁচ জনের সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন। বড় ছেলে সোহাগ মিয়া (৯) তৃতীয় শ্রেনীতে পড়ছে। ছোট ছেলে মেহেদী হাসানের বয়স (৮) বছর ও মেয়ে হাবিবার বয়স আড়াই বছর। তবে নিজের একটি গাড়ি থাকলে তার অভাবের সংসারে অনেকটা উপকার হতো।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: