সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

গুলশান হামলাকারীদের সঙ্গে ২ দিন আগে সিলেটের তামিমের বৈঠক

full_487361643_1470551331নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরী গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার সমন্বয়কারী ছিলেন বলে পুলিশ ধারণা করেছেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছে, হামলার দুই দিন আগে তামিম হামলাকারীদের সঙ্গে সর্বশেষ ও চূড়ান্ত বৈঠক করেছিলেন। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ভাড়া বাসায় ওই বৈঠক হয়েছিল এবং সেখান থেকেই হামলাকারীরা হলি আর্টিজানে গিয়েছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রটি বলেছে, গুলশানে হামলার পরিকল্পনাকারী, সমন্বয়ক, অর্থদাতা এবং হামলায় সহযোগিতা করেছেন এমন ১০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা সবাই ‘নব্য জেএমবির’ নেতা-কর্মী। তাদের মধ্যে তামিম পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। তবে মূল পরিকল্পনাকারী আরেকজন।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান বলেন, বসুন্ধরার একটি বাসায় তামিম চৌধুরীর বৈঠক করার বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরেছে।

এ ছাড়া মূল পরিকল্পনাকারী, সমন্বয়ক, অর্থদাতাসহ গুলশানের হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের ব্যাপারে তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। তাদের ধরতে অভিযান চলছে।

পুলিশ ইতিমধ্যে গুলশানে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী তামিম চৌধুরী এবং ব্লগার হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে সন্দেহভাজন চাকরিচ্যুত সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল হককে ধরিয়ে দিতে ২০ লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, তামিম ও জিয়া যেখানেই থাকুন, কেউ দেখলে বা সন্ধান পেলে যেন সরাসরি পুলিশকে জানান। প্রয়োজনে তার (আইজিপি) সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও জানান তিনি।

মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, কল্যাণপুরে পুলিশের অভিযানে আহত জঙ্গি রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যানসহ বিভিন্ন ঘটনায় গ্রেপ্তার থাকা জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গুলশানে হামলাকারী জঙ্গিরা প্রথমে রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় ভাড়া করা একটি বাসায় উঠেছিলেন। সেখান থেকে তারা হামলার দুই দিন আগে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ভাড়া করা বাসায় গিয়ে ওঠেন। ওই দিনই সেখানে তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তামিম চৌধুরী। ওই বৈঠকে হামলাকারীদের হামলার ছক বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ১ জুলাই রাতে ওই বাসা থেকেই পাঁচ জঙ্গি গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর সড়কে হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় হামলা চালান।

জঙ্গি তৎপরতা নজরদারিতে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তামিম চৌধুরী ২০১৪ সালে বাংলাদেশে এসেছেন। দুবাই থেকে এক ব্যক্তি হুন্ডিতে তামিমের কাছে টাকা পাঠিয়েছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। অন্তত ছয় মাস আগে গুলশানে হামলার পরিকল্পনা করেছেন জঙ্গিরা। এরই অংশ হিসেবে জঙ্গিরা প্রথমে ঢাকার তিনটি স্থানে মেস ভাড়া নিয়ে হামলাকারীদের প্রশিক্ষণ দেন। এরপর গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরের একটি চরে নিয়ে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষকদের মধ্যে একজন হলেন রায়হান কবির ওরফে তারেক, যিনি কল্যাণপুরে পুলিশের অভিযানে নিহত নয়জনের একজন। কল্যাণপুরের ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় তামিম চৌধুরীকেও আসামি করা হয়েছে।

তদন্তের সঙ্গে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তা বলেন, পুলিশের কাছে তথ্য আছে যে তামিম চৌধুরী বর্তমানে ঢাকায় আছেন। তিনি দ্রুত স্থান পরিবর্তন করেন। কয়েক দিন আগে পর্যন্ত পুলিশের কাছে খবর ছিল, তামিম ঘুরেফিরে বনানী, বারিধারা ও গুলশান এলাকায় অবস্থান করছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজমের ভারপ্রাপ্ত উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, হাসনাত করিমের মুঠোফোনটি পরীক্ষার জন্য সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। হাসনাত ও তাহমিদকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

হাসনাত রেজা করিম ও তাহমিদকে গত বৃহস্পতিবার পুলিশ গুলশানে হামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায়। এরপর তাদের আট দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: