সর্বশেষ আপডেট : ৭ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আসামে জঙ্গি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

149182_1আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের আসামের কোকরাঝাড়ে জঙ্গি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে পৌঁছেছে। পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে এক জঙ্গি।

এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আসঙ্কাজনক।

জঙ্গি হামলার পরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে ২-৩ জন জঙ্গি – যাদের ধরার জন্য পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী আর সেনা সদস্যরা যৌথ অভিযান চালাচ্ছে। বিশেষ করে নজর দেওয়া হচ্ছে কোকরাঝাড় আর ধুবরী জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে।
বোড়োল্যান্ড এলাকার অতিরিক্ত পুলিশ মহানির্দেশক এল আর বিশ্নোই বলেছেন, নিহত জঙ্গি ন্যাশনাল ডেমক্র্যাটিক ফ্রন্ট অফ বোড়োল্যান্ড বা এনডিএফবি-র সংবিজিত গোষ্ঠীর সদস্য। এটি দীর্ঘদিন ধরেই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, শুক্রবার দুপুরে বোড়োল্যান্ড স্বশাসিত এলাকার প্রধান শহর কোকরাঝাড় থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তরে বালাজান তিনিয়ালী বাজারে ওই হামলা চালানো হয়। দ্বিসাপ্তাহিক ওই হাটে সে সময়ে প্রচুর মানুষ হাজির ছিলেন। সম্ভবত একটি অটোরিক্সায় চেপে হামলাকারীরা সেখানে পৌঁছায়।

প্রথমেই একটি গ্রেনেড ছোঁড়ে তারা। ওই বিস্ফোরণে আতঙ্কিত মানুষজন যখন ছুটে পালাতে যান, তখনই বৃষ্টির মতো গুলি ছুঁড়তে থাকে জঙ্গিরা। কয়েকটি দোকানে আগুন ধরে যায় গ্রেনেড বিস্ফোরণে। বোড়োল্যান্ড এলাকা উপদ্রুত অঞ্চল বলে সবসময়েই কড়া পুলিশ-আধাসেনাদের পাহারা থাকে।

বিস্ফোরণ আর গুলির আওয়াজ শুনেই নিরাপত্তাবাহিনীও পাল্টা গুলি চালাতে থাকে। একজন মারা গেলেও বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

অন্য দিকে বাজারে আসা মানুষজনরাই আহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় সাইকেল বা ভ্যানে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে শুরু করেন। এই হামলায় মৃতদের মধ্যে যেমন বোড়োরা রয়েছেন, তেমনই আছেন বাংলাভাষী হিন্দু ও মুসলমান, রাজবংশীরাও।

মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল মৃত ও আহতদের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেছেন। রাজ্য মন্ত্রীসভার সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বে এক মন্ত্রী দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

কোকরাঝাড়সহ বোড়োল্যান্ড স্বশাসিত অঞ্চলটিতে কয়েক দশক ধরেই জঙ্গি তৎপরতা চলছে। পৃথক বোড়োল্যান্ডের দাবী নিয়ে গড়ে ওঠা এই সশস্ত্র আন্দোলন প্রায় ১৫ বছর আগে কিছুটা স্তিমিত হয়েছিল। জঙ্গিদের একটি গোষ্ঠী মূলস্রোতে ফিরে এসে বোড়োল্যান্ড শান্তি চুক্তিতে সই করে।

হাগ্রামা মইলারীর নেতৃত্বাধীন ওই গোষ্ঠীটির হাতেই এখনো পর্যন্ত বোড়োল্যান্ড স্বশাসিত এলাকার শাসনভার রয়েছে। তারা রাজ্যে ক্ষমতাসীন সরকারে বিজেপি-র জোটসঙ্গী।

তবে আই কে সংবিজিতের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীটি এখনো সশস্ত্র পথ থেকে সরে আসেনি। তারা মাঝে মাঝেই হামলা চালায় ওখানকার বাংলাভাষী মুসলমান, কখনো বা ক্রিশ্চান আদিবাসীদের ওপরে।

বোড়ো জঙ্গিদের অভিযোগ তাদের এলাকা দখল করে নিয়েছে বহিরাগত মুসলমান আর আদিবাসী ক্রিশ্চানরা। ২০১২ সাল থেকে একের পর এক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে ওই হামলার পরে পরেই। ওই হামলার পরে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বোড়োল্যান্ড এলাকার এই গণহারে বাস্তুচ্যুতির ঘটনাকে ‘এথনিক ক্লেনসিং’ বলে মন্তব্য করে থাকেন।

সূত্র: বিবিসি, এনডিটিভি

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: