সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নতুন জেএমবির শীর্ষ নেতা উত্তরবঙ্গের ‘বড় হুজুর’ (ভিডিও)

8WNgeqe9MsIzনিউজ ডেস্ক : নতুন জেএমবি। পুরনো জেএমবির ভগ্নাংশ। বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলাগুলোর মূল হোতা নতুন ধারার এই জেএমবি সদস্যরা। একের পর এক জঙ্গি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। সর্বশেষ কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে যে নয় সদস্য নিহত হয়, তারা সবাই নতুন জেএমবির সদস্য। এই গ্রুপের সদস্যরাই গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়েছিলো। হামলা করেছিলো কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদগাহ মাঠেও।
এর আগে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ভিন্নমতাবলম্বী ও ধর্মাবলম্বীদের ওপরও একাধিক হামলা চালিয়েছে তারা। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক তামিম আহম্মেদ চৌধুরী এই গোষ্ঠীর অপারেশনাল কমান্ডার। মাস্টারমাইন্ডদের অন্যতম একজনও বলা হয় তাকে। কিন্তু তার ওপরে কে আছেন নিষিদ্ধ এই সংগঠনে?
ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, উত্তরাঞ্চলের এক ‘বড় হুজুর’ এই সংগঠনের শীর্ষ নেতা। জেএমবির এই ভগ্নাংশের আমির তিনি। তাত্ত্বিক নেতাও বলা হয় তাকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বড় হুজুর আসলে ময়মনসিংহের বাসিন্দা ডাক্তার নজরুল। জেএমবি সদস্যরা তাকে ‘ডাক্তার সাহেব’ বলেও ডাকেন। তিনিই বর্তমানে উত্তরাঞ্চলের একটি জেলায় অবস্থান করে নিউ জেএমবি সদস্যদের পরিচালনা করছেন। গোয়েন্দারা তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছেন।
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, উত্তরাঞ্চলের একটি জেলায় আত্মগোপন করে নতুন জেএমবির এই শীর্ষ নেতা সংগঠন পরিচালনা করছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্তের পর গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রস্তুতি-প্রশিক্ষণ নিয়ে ২০১৫ সালে এসে জেএমবি’র এই ক্ষুদ্রাংশটি মাঠে নেমেছে। এদের আমরা নিও জেএমবি বলছি।
১৯৯৮ সালে শায়খ আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ- জেএমবি আত্মপ্রকাশ করে। গোপনে এই সংগঠন তাদের কার্যক্রম চালালেও ২০০১ সালে জেএমবির সাংগঠনিক কাঠামো সম্পর্কে জানতে পারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এনজিওগুলোতে হামলাসহ জঙ্গি কার্যক্রমের অভিযোগে ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সরকার জেএমবিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তবে ওই বছরের ১৭ আগস্ট সারা দেশে বোমা হামলার মাধ্যমে নিজেদের শক্ত অস্তিত্ব জানান দেয় তারা।
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, ২০০৫ সালে গ্রেফতারের দুই বছর পর বিচার শেষে ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ শায়খ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাইসহ জেএমবির শীর্ষ ৬ নেতার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এছাড়া, বিভিন্ন সময়ে জেএমবির অসংখ্য নেতাকর্মী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ায় তাদের কার্যক্রমে কিছুটা ভাটা পড়ে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, জেএমবির শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর ভাটা পড়া সংগঠনের হাল ধরেন মাওলানা সাইদুর রহমান। ২০১০ সালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন তিনি। এরপর কারাগারে থেকেই সংগঠনটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন তিনি। জঙ্গি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করছেন এমন পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১১ সালে প্রথম জেএমবির মধ্যে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। জেএমবির কিছু নেতাকর্মী কারাবন্দি মাওলানা সাইদুর রহমানের নেতৃত্ব অস্বীকার করে। তারা গোপনে গোপনে নিজেরা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করে।
সিটির কর্মকর্তারা জানান,গত বছরের অক্টোবর থেকে নিউ জেএমবি হিসেবে পরিচিত মূল জেএমবির এই ভগ্নাংশটি ধারাবাহিক হত্যাকা- শুরু করে। উত্তরবঙ্গের তাত্ত্বিক নেতা বড় হুজুরের নেতৃত্বে প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন সম্প্রতি আলোচনায় আসা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক তামিম আহম্মেদ চৌধুরী। তামিম নিউ জেএমবিকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সিটি সূত্র জানায়, তামিম চৌধুরী ছাড়াও নিউ জেএমবির মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করছেন আরও কয়েকজন। তাদের মধ্যে রিপন, খালিদ, মামুন, মানিক, জুনায়েদ খান, বাদল, আজাদুল ওরফে কবিরাজ, রাজিব গান্ধী উল্লেখযোগ্য। তাদের নেতৃত্বেই মূলত: পরিচালিত হচ্ছে নিউ জেএমবির সামরিক শাখা। সিটির কর্মকর্তারা জানান, মূল জেএমবির বেশিরভাগ নেতাকর্মী মাদ্রাসা ছাত্র হলেও জেএমবির এই ভগ্নাংশে যোগ দিতে থাকে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, আধুনিক এবং উচ্চ শিক্ষিত তরুণেরা। এদের মূল দাওয়াতি কার্যক্রম ও অপারেশনাল তথ্য আদান-প্রদান সব চলে অনলাইনে।
সিটির একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলছিলেন, নিউ জেএমবির অধিকাংশ নেতাকর্মীই শিক্ষিত ও তথ্য-প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন। দুই বছর আগে আবু বকর আল বোগদাদী যখন কথিত আইএসের ঘোষণা করেন তখন জেএমবির এই ক্ষুদ্র অংশটি অনুপ্রাণিত হয়। তারা আইএসের যুদ্ধের ভিডিও দেখা শুরু করে। এরা স্বঘোষিত আইএস হওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। আইএসের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তারা নানারকম নাশকতামূলক জঙ্গি তৎপরতা শুরু করে।
জঙ্গি প্রতিরোধে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন,আমরা এখন পর্যন্ত নিউ জেএমবির দেড় শতাধিক সদস্যকে গ্রেফতার করেছি। তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই আইএসের আইডোলজি অনুসরণ করার কথা জানিয়েছে।
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এক কর্মকর্তা বলেন, জেএমবির নেতাকর্মীরা সবাই সালাফিজমে বিশ্বাস করে। এটার উপমহাদেশীয় ভার্সনকে আমরা ‘আহলে হাদিস’ বলি। রাজধানী ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় আহলে হাদিসের মসজিদ মাদ্রাসা রয়েছে। এরা ‘আহলে হাদিস’ কমিউনিটির মেম্বার। অনেকেই কনভার্টেট হয়ে এই মতবাদের অনুসারী হয়েছে। তারপর ধীরে ধীরে জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছে।
সূত্র : ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: