সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৪১ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২৪ জুন, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কুলাউড়াবাসীর প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক খসরুজ্জামান

474eeebc-f467-4d31-b6b1-e2cb013c63d9মোঃ তারেক হাসান::
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে স্বাধীন বাংলার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে বিশ্বের ইতিহাসে এক জঘন্যতম কালো অধ্যায় সূচিত হয়। যে আগস্ট মাসে প্রিয় নেতা শাহাদাৎ বরণ করেছিলেন সেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এক সৈনিক এই মাসের’ই ৮আগস্ট কুলাউড়া উপজেলাবাসীর প্রিয়নেতা, কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের প্রয়াত সভাপতি আমার বাবা মরহুম মোঃ খসরুজ্জামান আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যু আমার জন্য আমার গোটা পরিবারের জন্য তথা কুলাউড়াবাসীর জন্য বড়ই শোকের ও বেদনার। কেননা আমরা যেমন হারিয়েছি প্রিয় বাবাকে তেমনি কুলাউড়াবাসী তথা কুলাউড়া আওয়ামী পরিবার হারিয়েছে তাদের কাছের একজন প্রিয় মানুষকে। জীবনের প্রতিটি মুহুর্তে আমাদের অনুভূতিতে যার ছবি সবার আগে মনের পর্দায় ভেসে উঠে তিনিই তো প্রিয় বাবা, সকল প্রেরণার উৎস। তিনি এই পার্থিব জগতে বেঁচে নেই ঠিক’ই কিন্তু আমাদের হৃদয়ে তার নীরব উপস্থিতি আমাদের জাগতিক সকল কাজের প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে। যিনি ছিলেন একজন ত্যাগী ও আদর্শবান নেতা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করে গেছেন এবং দলের দুঃসময় দলকে সু-সংগঠিত করে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে নিবেদিত ভাবে কাজ করে গেছেন। আওয়ামী পরিবারের নিবেদিত ও বিশ্বস্থ এই নেতা আমৃত্যু বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কুলাউড়া উপজেলা শাখার সভাপতি ছিলেন। তিনি মৃত্যুর দিন পর্যন্ত দুই মেয়াদে ১৯৮৬সাল থেকে ২০০১সাল পর্যন্ত ১৫বছর যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

কুলাউড়া শহরের সর্ব প্রথম ট্রাভেলস ব্যাবসা ছিলো আমাদের তৎকালিন শহরের স্টেশন রোডের জহুরা মার্কেটে জামান ট্রেভেলস এর ব্যাবসার পাশাপাশি আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অংগ সহযোগি সংগঠনের সকল কর্মকান্ড জামান ট্রেভেলসকে গিরেই তখন পরিচালিত হতো। রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই প্রতিষ্ঠানটি। তিনি সে সময়ে থানা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। ঐ সময় কুলাউড়া থানাধীন ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ছিলো বর্তমান কুলাউড়া উপজেলা। যুবলীগের সব কটি ইউনিয়নে তখন কমিটি গঠনের মাধ্যমে দলকে সংগটিত ও শক্তিশালী করেন তিনি। স্বাধীনতা পরবর্তিতে কুলাউড়ায় যুবলীগের সকল ইউনিয়নের পুর্ণাঙ্গ কমিটি সে সময় গঠন করা হয়েছিল। সকল আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে তিনি অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিতেন। একবার বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালিন সময়ে কুলাউড়া ডাক বাংলোতে অনুষ্টিত বিজয় মেলায় বঙ্গবন্ধুর ছবি স্টেইজে না টানানোর করেনে সেদিন প্রিয় সংঘটন যুবলীগকে সাথে নিয়ে তিনি ঐ স্টেইজে বঙ্গবন্ধুর ছবি টানিয়ে রাতভর ছবিটি পাহারা দিয়েছিলেন যে কারনে সেদিন গোটা শহর উত্তপ্ত হয়েছিলো। সেদিন শক্ত হাতে সকল প্রতিকুলতা প্রতিহত করে অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন তিনি। মরহুম খসরুজ্জামান দলের দুঃসময় দলকে সু-সংগঠিত করে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে নিবেদিত ভাবে মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত কাজ করে গেছেন। দলের আদর্শকে বুকে লালন করে শ্রম ও মেধা দিয়ে সংগঠনকে নিজের পরিবারের করে নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন যুবলীগের দায়িত্বে থাকলেও তখন আওয়ামী ঘরোনার অনেক কর্মকান্ড তাকে ঘিরেই পরিচালিত হতো। নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কথা চিন্তা না করে সুযোগ থাকা সত্বেও বড় নেতা হওয়ার চিন্তা না করে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সংগঠন চালিয়েছেন। এই জন্য আজও কুলাউড়াবাসী তাদের এই প্রিয় মানুষটিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরন করেন।

মরহুম খসরুজ্জামান শুধু যে পরিবার পরিজনের তথা নিজ দলের প্রিয়পাত্র ছিলেন তা নয়, দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রিয়পাত্র ছিলেন তিনি। সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলতেন কুশল বিনিময় করেতেন। যে কোন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে সহজেই মিশে যাওয়ার এক অধম্য প্রতিভা ছিলো যার মধ্যে। কারো বিপদে চোঁখ কান বন্ধ করে বসে থাকতে পারতেন না। জীবনের অনেক কঠিন মুহুর্তেও ধৈর্য্যহারা হতে দেখিনি। তিনি কারো বিপদের কথা শোনামাত্র পরমাত্মীয়ের মতো পাশে গিয়ে দাড়াতেন। অসহায় বিপদগ্রস্থ মানুষকে যতটুকু সাধ্যের ভেতরে সাহায্য সহায়তা করে গেছেন, এসব অনেক কথা’ই আমরা পরিবারের সদস্যরাও অনেক সময় জানতাম না। যখন জেনেছি তখন তিনি আর আমাদের মাঝে নেই। তখন তার এই মহানুভবতার কথা ভেবে অন্তর ডুকরে কেঁদে উঠে।

‘মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মের মধ্যে বয়সের মধ্যে নয়’ এই প্রবাদ বাক্যটি আমার বাবার জীবনে পুরোপুরি সত্য। যার চলাফেরা ছিলো অত্যন্ত সাদামাঠা। যিনি জীবনে অনেক বড় নেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখেননি, ক্ষমতার দম্ভ কখনো কাউকে দেখাননি, বিত্ত বৈভবের উচ্চাকাঙ্খা যার মধ্যে ছিল না। প্রায়ই আমাদের একটি উপদেশ দিতেন তিনি, ‘জীবনে কারো উপকার করতে না পারো ক্ষতি করো না।’

সাংবাদিকতার মহান পেশার সাথে সম্পৃক্ত থাকায় আমাকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময় যেতে হয়। অনেক সময় আমার বাবার পরিচয় পাওয়ার পর মানুষের মধ্যে যে গভীর বেদনা আর প্রিয়জন হারানোর মতো শূন্যতা দেখতে পাই তখন সেই বাবার সন্তান হিসেবে নিজেকে বড় বেশি গর্বিত মনে হয়। জানি বাবাকে হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে আমাদের জীবনের বাকি পথটুকু পাড়ি দিতে হবে। এটা যে আমাদের জন্য কত কষ্টের আর বেদনার তা শুধু বাবাহারা সন্তানরাই উপলব্ধি করতে পারবে।

২০০১ সালের ৮আগস্ট রাত ১২টা ১৫ মিনিটে আমাদের সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে তিনি পৃথিবী থেকে চির বিদায় নেন। বাবার এই আকস্মিক মৃত্যুতে আমাদের গোটা পরিবারে নেমে এসেছিলো অন্ধকারের অমানিশা। হঠাৎ একটি কালবৈশাখী ঝড় এসে আমাদের সাজানো গোছানো পরিবারটি তছনছ করে দিয়েছিলো। শোক আর বেদনার পাশাপাশি জীবন তার আপন গতিতে এগিয়ে চলে, আমরাও এগিয়ে চলেছি। জীবনের এই পথ চলায় বাবাই একমাত্র আদর্শ। পরিশেষে পরম করুণাময় মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আল আমিনের কাছে একটাই মিনতি তিনি যেন আমার বাবাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: