সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ওসমানীনগরে মাঠছাড়া বিএনপি, বাড়ছে পদত্যাগের সংখ্যা

BNP daily sylhet 0-204 copyবিশেষ প্রতিনিধি::
বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর থেকে স্থবির হয়ে পড়েছে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পদধারী নেতা দলীয় কর্মকান্ডে গাঁ ডাকা দিয়ে সরকার দলীয় নেতাদের সঙ্গে আতাঁত করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এছাড়া বর্তমান সময়ে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির গুরুত্বপূর্ন পদ থেকে স্বেচ্চায় পদত্যাগ করার ঘটনাও বাড়ছে। সব মিলিয়ে ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোতে এখন হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে।

বিগত সরকার পতন আন্দোলনে অনেকটা নিষ্ক্রয় ভূমিকায় ছিল এ উপজেলায় বিএনপি। ২০১৪ সালের শেষ দিকে উপজেলা বিএনপির সম্মেলনকে ঘিরে উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর মধ্যো কিছুটা চাঙ্গা ভাব লক্ষ্য করা গেলেও সম্মেলন পরবর্তীতে আবারও চলে এসেছে পূর্বের সেই নিরবতা। ফলে সম্মেলনের ২০ মাস অতিবাহিত হলেও পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচী পালন তো দূরের কথা, বিএনপির নেতাদের অনেকেই এখন নিজ দলের নাম ব্যবহার করতে লজ্জাবোধ করছেন। সম্প্রতি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যন তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলার সাজা ও গ্রেফতারী পরোয়ান জারির প্রতিবাদে সারা দেশে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসুচি পালন হলেও ওসমানীনগর উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর কোনো কার্যক্রম পালন করতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে পদধারী নেতা দলীয় কর্মকান্ডে গাঁ ডাকা দিয়ে থাকলেও ইলিয়াসপতœী তাহসিনা রুশদি লুনার কাছে বিভিন্ন কৌশলে গুন কির্তন করিয়ে নিজেকে মূল নেতা হিসেবে প্রতিষ্টিত করার চেষ্টায় ব্যস্ত রয়েছেন। ফলে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্রমেই বাড়ছে গৃহযুদ্ধ।

জানা যায়, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর এ উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর কার্যক্রম ছিল অনেকটা নিরব। ২০১৪ সালের ১৩ই ডিসেম্বর উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে ইলিয়াসপতœী তাহশিনা রশদী লুনা ও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে গোপন ভোটের মাধ্যমে সভাপতি পদে নির্বাচিত হন সৈয়দ মোতহির আলী, সাধারণ সম্পাদক পদে আতাউর রহমান মানিক, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে শাহ মোহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া। সম্মেলনে নির্বাচিত হওয়া সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদককে ১ মাসের মধ্যে ১০১ সদস্য বিশিষ্ঠ পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেয়া হয়। এর মধ্যে উপজেলা বিএনপির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান মানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দল থেকে পদত্যাগ করায় সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনিত হন উপজেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এসটিএম ফখর উদ্দিন। ২০১৫ সালের শেষে দিকে পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষে তালিকা প্রনয়নের কাজে হাত দিয়েছিলেন উপজেলা বিএনপির পদবিধারী নেতারা। তৎকালিন সময়ে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্নাঙ্গ কমিটিতে স্থান দিতে উপজেলা বিএনপির পদধারী নেতাদের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগসহ গোপনীয় অনেক বিষয় প্রকাশ্য আসা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় নিরব হয়ে যায় পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন কার্যক্রম।

তৃনমূল নেতাদের অভিযোগ, সম্মেলনের পর থেকে উপজেলা বিএনপির পদবীধারীরা দলীয় কর্মসুচী ও আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ গ্রহন না করে কৌশলী ভূমিকা পালন করছেন। উপজেলা বিএনপির পদধারী নেতারা নিজেদের গাঁ বাঁচাতে আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে গোপন আতাঁতের মাধ্যমে সকল ধরনের আন্দোলন সংগ্রাম থেকে পিছিয়ে রয়েছেন। এ ছাড়া তাদের অনুগত কথিপয় নেতা-কর্মীকে দিয়ে ইলিয়াস পতœী লুনার কাছে তাদের প্রশংসার কাজটিও গোপনে চালিয়ে যাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা বিএনপির মতো এ উপজেলায় বিএনপির সহযোগি সংগঠনগুলোর কার্যক্রম রয়েছে নিরব। উপজেলা যুবদল,স্বেচ্চাসেবক দল ও ছাত্রদলের পদধারী নেতারা মাঠ ছাড়া অবস্থানে রয়েছেন। মাঠের রাজনীতি ও দলীয় কর্মসূচি পালনে দেখা না গেলেও কৌশলী অবস্থান নিয়ে ফেইসবুক ও ভুঁইফুখোর অনলাইন গুলোতে বিভিন্ন রকমের প্রচারনা চালিয়ে ইলিয়াসপত্মী তাহসিনা রুশদি লুনার দৃষ্টি আকর্ষনসহ নিজেদের বড় নেতা হিসাবে জাহির করার চেষ্ঠায় চালিয়ে যাচ্ছেন উপজেলা যুবদল,স্বোচ্চাসেবক দল ও ছাত্রদলের পদধারী নেতাদের। ফলে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের পদধারী নেতাদের এমন কর্মকান্ডে তৃর্ণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বর্তমান পদধারী নেতারা যে ভাবে গাঁ ডাকা দিয়ে আছেন এমন অবস্থা অব্যাহত থাকলে আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে এ উপজেলায় বিএনপির অস্থিত্বও খোঁজে পাওয়া যাবে না এমন মন্তব্য নাম প্রকাশে অনিচ্চুক উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতা-কর্মীদের।

উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া বলেন, উপজেলা বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে আমরা দলীয় সকল কর্মকান্ড সক্রিয় ভাবে পালন করার চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছি। এখানে আমাদের মাঝে কোনো বিরোধ নেই। শিগগিরই উপজেলা বিএনপির পূর্নাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হবে।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মোতাহির আলী দলীয় কর্মসূচি পালনে নিজেদের নিরব থাকার ব্যাপারে পুলিশি বাঁধাকে দ্বায়ি করে বলেন,থানা পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালনে আমরা হিমশিম খেতে হচ্ছে। উপজেলা বিএনপি পূনাঙ্গ কমিটি গঠনের ব্যাপারে তিনি জানান কমিটির তালিকা তৈরি করে কেন্দ্রের অনুমোদনের জন্য ঢাকায় প্রেরন করা হয়েছে। তবে কেন্দ্র ঘোষিত সকল কর্মসূচি পালনে আমরা উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দরা সজাগ রয়েছি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: