সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভূমিখেকোদের কবলে পড়ে ধ্বংসের মুখে বড়লেখার কেরামতনগর চা বাগান

1. daily sylhet 0-97বিশেষ প্রতিনিধি::
ভূমিখোকোদের কবলে পড়ে ধ্বংসের মুখে বড়লেখার কেরামতনগর চা বাগান। জায়গার খাজনা দিচ্ছেন বাগান মালিক। আর জায়গার ভোগদখলে রয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। দিন দিন বেদখল হচ্ছে বাগানের কাগজে কলমের জায়গা। এ সংকট ঘনীভূত হওয়ায় উদ্বিগ্ন বাগান কর্তৃপক্ষ। দখল, বেদখলের এমন দ্বন্ধে এখন ধ্বংসের দোর গোড়ায় বড়লেখার কেরামতনগর চা বাগান। স্থানীয় প্রভাবশালীরা নানা অপকৌশলে চা বাগানের জায়গা দখলে মরিয়া। আর হাতছাড়া হওয়া জায়গা পুনঃরুদ্ধারে তৎপর বাগান মালিক পক্ষ। দখল ও উদ্ধার উভয় পক্ষের এমন দৃঢ় মনোভাবে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কায় আতংকে চা শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্ধারা।

02f8dace-fb5a-4ad6-8cb4-19abca8f6989

এমন ভূমিখেকোদের ছত্রছায়ায় অবৈধ দখলদারীত্বে বিকাশমান চা শিল্পের অগ্রযাত্রা ব্যহতকরার পায়তারা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজস্ব আয়ের অন্যতম খাত চা শিল্পের কল্যাণে বাগানটিকে এমন বেহাল দশা থেকে উত্তরণে তারা চাচ্ছেন দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ। বাগান কর্তৃপক্ষ জানালেন স্থানীয় প্রভাবশালীদের এমন দখল প্রতিযোগীতায় ব্যহত হচ্ছে বাগানের টি প্লানটেশন কার্যক্রম। প্রতিবছরই চা গাছের চারা রোপনের সময় দেখা দেয় এই সমস্যা। নিজেদের জায়গায় নতুন করে চারা গাছ লাগাতে গিয়ে বাঁধার মুখে পড়েন বাগান কর্তৃপক্ষ। তাই সরকারের নিয়মানুযায়ী বছরান্তে শতকরা আড়াই শতাংশ চা বাগান বৃদ্ধি করতে অক্ষম হচ্ছেন তারা। আর এ কারণেই কমে যাচ্ছে বাগানের উৎপাদনও।

3b29114e-38f1-446a-9781-7184ed306ec3

উৎপাদন ও গুনগত মানের দিক দিয়ে দেশের র্শীষ দশের মধ্যে ৪র্থ স্থানে থাকা বড়লেখার কেরামতনগর চা বাগান এখন ধ্বংসের মুখে। অবৈধ দখলদারীত্বে এখন এমন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এই ঐতিহ্যবাহী চা বাগান। বাগান কর্তৃপক্ষ সুত্রে জানা যায় বড়লেখার মাধবকুন্ড লগোয়া দক্ষিণগুল ও লক্ষীছড়া ফাঁড়ি বাগান নিয়ে কেরামতনগর চা বাগান। কাগজে কলমে বাগানটির মোট আয়তন ২,২২৮ একর। কিন্তু বর্তমানে তাদের দখলে রয়েছে প্রায় ৭শ’একর। এরমধ্যে টি প্লানটেশন আছে মাত্র ৪শ’একর জায়গায়। আর ৩শ’একর জায়গাতে ফ্যাক্টরী, মালিক ও ম্যানেজার বাংলো, শ্রমিকদের বসতবাড়ি, ফিসারীসহ অনান্য। এই ৪শ’একর জায়গার টি প্লানটেশন দিয়েই বাগান পরিচালনা করতে হচ্ছে তাদের। অথচ বছারান্তে ২,২২৮একর জায়গার খাজনা পরিশোধ করছেন বাগান কর্তৃপক্ষ। ইতিপূর্বে আইনী লড়াই শেষে ৮শ’একর জায়গা ভূয়া মালিকদের কবল থেকে কাগজে কলমে পুনঃরুদ্ধার হলে সেখানেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের কারণে চা গাছের চারা লাগাতে পারছেন না বলে বাগান কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করছেন।

7bd4dcc1-407b-4d06-b20f-29c4f7d73b49

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে বাগান কর্তৃপক্ষের লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ সুত্রে জানা যায় সম্প্রতি তাদের লিজকৃত ভূমি জবর দখল হয়েছে লক্ষিছড়া চা বাগান এলাকার জেল নং ১১৭ বিওসি মাঠ গুদাম এলাকার ২৫.২০ একর জায়গা। বাগানের ওই জবর দখলকৃত জায়গায় বাগানের লাগানো ২টি টিলার চা গাছের চারা তুলে তাতে ও পাশের জমিতে চাষাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ওই এলাকার অবৈধ দখলদার মৃত মফজ্জির আলীর ছেলে মখলিছ মিয়া, মৃত তৈয়ব আলীর পুত্র শহীদ মিয়া ও মৃত মত্তাসীন আলীর পুত্র নাজিম মিয়া। একই এলাকার হামিদ মিয়া একটি ৯ একরের টিলা জবর দখল করে বসতঘর করে পুরো টিলায় নানা জাতের গাছের চারা লাগিয়েছেন। কেরামতনগর ৩নং চা সেকশন এলাকার ২৬ একর জায়গা জবর দখলে রেখেছেন আবু সালেহ মোঃ সাদেক নামের এক ব্যক্তি এমন অভিযোগ বাগান কর্তৃপক্ষের।

8c6c2703-69e8-48d7-8fea-008583fcb82a

সরজমিনে কেরামতনগর চা বাগানের বিওসি মাঠ গুদাম এলাকায় গেলে চা শ্রমিক বিনতা সিং, লক্ষি কুর্মি, সমিলা সিং, গীতা বুনার্জি, রিকমনসহ শ্রমিকরা বলেন আমাদের বাগানের জায়গা যদি এভাবে বস্তির প্রভাবশালী লোকেরা দখল করে আর আমাদের উচ্ছেদ করতে থাকে তা হলে আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে কোথায় যাব। তারা অভিযোগ করে বলেন ওই এলাকায় কাজে গেলে তাদের প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়া হয়। তারা বলেন কাজে গেলেও বিপদ আর না গেলে খাব কি করে। তারা প্রশাসনের কাছে দাবী রাখেন যাতে বাগানের জায়গা বাগানকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। চৈতন্য চাষা, নুরুদ্দিন, ও বাগানের পঞ্চায়েত প্রধান সুধন সিং বলেন বাগানের জায়গা জবর দখল করেছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোক। তারা ওই জায়গায় বাগানের চা গাছের চারা তুলে তাদের জায়গা দাবী করে সেখানে চাষাবাদের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

9cb41b84-c827-4fc1-a11c-65c519d2ea52

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্ধারা জানান তাদের পূর্ব পুরুষ থেকে ওই জায়গা গুলো চাষাবাদ করে তারা জীবীকা নির্বাহ করছেন। এখন হঠাৎ করে বাগান কর্তৃপক্ষ তাদেরকে ওই স্থানে চাষাবাদ না করতে বারণ করে সেখানে চা গাছ লাগাতে চাইলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। তবে উভয় পক্ষ সৃষ্ট জায়গা সংক্রান্ত এই জটিলতায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন। তারা সকলেই এর স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপের জোর দাবী জানাচ্ছেন। বিওসি মাঠ গুদাম এলাকার চা বাগানের জায়গা জবর দখলের অভিযোগ উঠা ব্যক্তিদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা বাড়িতে নেই জানিয়ে পরিবারের সদস্যরা বলেন আমরা কোন জায়গা দখল করিনি। আমাদের পূর্বপুরুষ থেকে এই জায়গা আমরা চাষাবাদ করে আসছি। এখন এই জায়গা বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের বলে দাবী করে অযতা ঝামেলা করছেন।

a5c586d9-3587-4293-a870-65a7639ae0af

কেরামত নগর চা বাগানের মহাব্যাবস্থাপক মিজানুর রহমান ও ব্যাবস্থাপক মারুফ আহমদ জানান, সম্ভাবনাময়ী এ বাগানটি ভূমিখেকোদের কবলে পড়ে এখন ধ্বংসের দোরগোড়ায়। সম্প্রতি আমরা আমাদের জায়গায় সরকারের নিয়মানুযায়ী টি প্লানটেশন করতে গেলে স্থানীয়রা বাধাঁ বিপত্তি দিয়ে আমাদের লাগানো চারা গাছ গুলো তুলে ফেলে সে জায়গা তাদের দাবী করে সেখানে তারা চাষাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানালে তারা প্রতিনিয়তই মুঠোফোনে আমাদের কর্মকর্তা ও শ্রমিকদেরকে প্রাণে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে আইনানুগ পদক্ষেপ নেবেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: