সর্বশেষ আপডেট : ২৩ মিনিট ১১ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বস্তাবন্দী লাশ; নেপথ্যে পরকীয়া

full_213279697_1470223330নিউজ ডেস্ক: যমুনা নদী থেকে বস্তাবন্দী এক মেয়ে শিশু সহ দুই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর এলাকায় তাদের লাশ পাওয়া যায়। লাশ উদ্ধারের পরই এর তথ্য উদঘাটনে নেমে পড়ে পুলিশ।

ঘটনার তদন্তের পর পরকীয়ার কারণে এ হত্যাকান্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার উজিলাব গ্রামের হাদিকুল ইসলামের স্ত্রী মেহেরুন আক্তার (৫০), টেংরা গ্রামের বাদল মণ্ডলের স্ত্রী নাসরিন আক্তার (২৫) ও নাসরিনের বোনের মেয়ে জাইমা খাতুন (৫)।

স্বজনরা জানায়, নাসরিন ছিলেন থ্যালাসেমিয়া রোগী। অন্যদিকে জাইমার কপালে টিউমার ছিল। পাশের মাওনা চৌরাস্তায় চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলে তারা বাড়ি থেকে বের হন। গত রোববার সকাল ১১টার দিকে বাড়ি থেকে বের হলে দুপুর ২টার দিকে নাসরিনের সঙ্গে তার স্বামীর সর্বশেষ কথা হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত তারা বাড়ি না ফেরায় মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। সোমবার দুপুরে যমুনা নদী থেকে বস্তাবন্দি মৃতদেহ উদ্ধারের খবর টেলিভিশনে দেখে তারা সিরাজগঞ্জ হাসপাতালে এসে লাশ শনাক্ত করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ে হলেও নিঃসন্তান ছিলেন নাসরিন। ছয় বছর আগে কাপড়ের দোকানের এক বিক্রয়কর্মীর সঙ্গে পরিচয় ঘটেছিল তার। পরিচয়ের সূত্র ধরে জড়িয়ে পড়েন পরকীয়ায়। এরপর স্বামী, সংসার ছেড়ে ওই বিক্রয়কর্মীর হাত ধরে ঘরও ছেড়েছিলেন। ১১ দিন পর তার স্বজনরা তাকে ফের বাড়ি ফিরিয়ে আনে। সর্বশেষ ফুফু ও এক শিশুকে সঙ্গে নিয়ে নাসরিন গত রোববার সকালে ওই পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। শ্রীপুরের গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী এলাকায় গত রোববার সবার অগোচরে কথা বলার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয় কথিত প্রেমিক। আরো দুজনের সহযোগিতায় নাসরিনকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে মেহেরুন ও শিশুকেও হত্যা করে।

শ্রীপুর থানা পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে কথিত প্রেমিক সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার চালা অফিসপাড়ার আল আমীন, তার দুই সহযোগী পাশের রায়গঞ্জ উপজেলার জাঙ্গিয়াদি গ্রামের নয়ন ও জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার লোহাপাড়া গ্রামের রবিউলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নাসরিনের চাচাতো বোন ফেরদৌসী আক্তার জানান, প্রায় চার বছর আগে আল আমীনের হাত ধরে পালিয়েছিলেন নাসরিন। পরে তার স্বামী, বাবা ১১ দিন পর তাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন। এরপর নাসরিনের স্বজনরা আমীনকে মারধর করে। ঘটনা জেনে দোকানের মালিকও তাকে তাড়িয়ে দেন। তিনি পাশের গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ীর রিজভী ইলেকট্রনিক্সে ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকরি পান। পরে গাজীপুর মহানগরের লক্ষ্মীপুরায় এক অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে বাদলকে ছুরিকাঘাত করে আমীন। গত শনিবার বাড়ির উঠানে বসে আমীনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছিলেন নাসরিন।

শ্রীপুর মডেল থানার এসআই মাহমুদুল হাসান বলেন, ”গত সোমবার মধ্যরাতে গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে আমীন, রবিউল ও নয়নকে আটক করা হয়।”

ওই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ বলেন, ”গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনই ঘটনা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, দোকানের পেছনে নাসরিনের সঙ্গে কথা বলছিল আমীন। তাত্ক্ষণিক নাসরিনকে তার সঙ্গে পালিয়ে যেতে বলে। রাজি না হলে ক্ষিপ্ত হয় আমীন। এরপর ওই দোকানের দুই কর্মচারীকে ডেকে পেছনে নিয়ে তাদের সহযোগিতায় নাসরিনকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। ঘটনা টের পাওয়ার আশঙ্কায় জাইমা ও মেহেরুনকে পেছনে ডেকে নিয়ে একই কায়দায় হত্যা করে। মরদেহগুলো দুটি বস্তায় ভরে রাখে। রাত ১১টার দিকে একটি প্রাইভেট কার নিয়ে বস্তাগুলো ভরে তারা তিনজন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর যায়। সেখানে যমুনা নদীতে বস্তা ফেলে রাতে তারা শ্রীপুর ফেরে।”
শ্রীপুর মডেল থানার পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, ”আটক আসামিরা সিরাজগঞ্জ আদালতে জবানবন্দি দেবে।”

এনায়েতপুর থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাস বলেন, ”গত সোমবার রাতে এ ঘটনায় এসআই আজগর আলী বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন।”

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: