সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিয়ে নিয়ে ইমামের প্রতারণা, অন্ধকারে মা-মেয়ের জীবন

148770_1নিউজ ডেস্ক: মসজিদের ইমাম, কাজী পরিচয়ে টুকটাক বিয়েও পড়ান। সেই সূত্রেই পড়ানো পবিত্র কালেমায় চিরদিনের বন্ধন গড়েন শাজাহান মল্লিক মগবা (৩০) ও হামিদা বেপারী (২৬)।

দু’বছর সব ঠিকই ছিল। হামিদার কোলজুড়ে এল আরজান আক্তার। তার বয়স পাঁচ মাস হতেই সব উল্টে গেল।

সুখের আশায় যে বন্ধন, তার মূল্য এভাবে দিতে হবে ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি হামিদা। এখন স্বামীর স্বীকৃতি দূরে থাক, মেয়ের পিতৃত্ব পেতেই দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি।
ঘটনাটি মানিকগঞ্জের, জেলার দৌলতপুর উপজেলার রৌহা গ্রামের ইমাম মো. সবিল উদ্দিনের (৪৫) প্রতারণায় মা-মেয়ের জীবনে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার।

ইমাম সবিল কাজী সেজে ভুয়া কাবিননামায় স্বাক্ষর ও কালেমা পড়িয়ে পার্শ্ববর্তী শিবালয় উপজেলার কোলা গ্রামের মৃত হাতেম মল্লিকের ছেলে শাজাহান মল্লিক মগবার সঙ্গে হামিদার বিয়ে দেন।

গোপনে দু’বছর ঘর-সংসার করলেও বিয়ের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় স্ত্রী এবং মেয়েকে এখন অস্বীকার করছেন শাজাহান। নিজের ও সন্তানের অধিকার দাবিতে হামিদা স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বার, গণ্যমান্য ও মাতুব্বরদের দ্বারস্থ হলেও তাতে খুব একটা কাজ হচ্ছে না।

সরেজমিনে রৌহা, কোলা ও উথলী গ্রামে গিয়ে জানা গেছে, সবিল উদ্দিন রৌহা গ্রামের মৃত গেন্দু মিয়ার ছেলে, সাতয়ানি জামে মসজিদের ইমামতি করেন। আর টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ভাবনাপাড়ার আবদুল হামেদ বেপারীর মেয়ে হামিদা শিবালয়ের উথলী বাসস্ট্যান্ডের পাশে আবদুল রহিমের বাড়িতে ভাড়া থাকেন।

হামিদা বেপারী জানান, স্ত্রী ও ১১ বছর বয়সী এক ছেলে থাকার পরও তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন শাজাহান। দুই বছর আগে গোপনে তাকে সবিল ইমামের বাড়ি নিয়ে গিয়ে কাবিননামায় স্বাক্ষর ও কালেমা পড়িয়ে বিয়ে করেন।

এরপর অনেকটা গোপনে উথলীর ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করে আসছেন তারা। বাসা ভাড়া থেকে শুরু করে সাংসারিক সব খরচ বহন করে আসছেন শাজাহান। পাঁচ মাস আগে তাদের কোলজুড়ে আসে মেয়ে আরজান।

এর কিছুদিন পরেই শাজাহান সাংসারিক খরচ দেয়া বন্ধ করে দেন। প্রথমে মেনে নিলেও দিন গড়ানোর সঙ্গে হামিদার পরিবারে নেমে আসে অভাব। যোগাযোগ করেও হামিদা শাজাহানের নাগাল পাচ্ছেন না।
এমতাবস্থায় গত ৮ মে বিকেলে মেয়েকে নিয়ে শাজাহানের বাড়ি গিয়ে ওঠেন হামিদা। কিন্তু চেনা স্বামী উল্টে যান, স্ত্রী ও মেয়েকে অস্বীকার করে বসেন। এখানেই শেষ না, বিয়ে হয়ে থাকলে কাগজপত্র দেখাতে বলেন। সেটি সম্ভব হলে স্ত্রী-সন্তানকে মেনে নিবেন জানিয়ে শাজাহান উপস্থিত লোকজনের সামনেই তাদের তাড়িয়ে দেন।

সবিল ইমামের করানো স্বাক্ষর হামিদার স্মরণে এলে রাতেই মেয়েসহ স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে ছুটে যান। এ সময় ইমাম সবার সামনে স্বীকার করেন, শাজাহান এবং হামিদা স্বামী-স্ত্রী। তাদের বিয়ে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু কাবিননামা না করে সেদিন সাদা কাগজে দু’জনের স্বাক্ষর নেয়া হয়েছিল।

ইমামের এই মৌখিক স্বীকারোক্তির ওপর নির্ভর করে হামিদা নিজের ও মেয়ের স্বীকৃতির দাবিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ও মাতুব্বরদের দ্বারস্থ হন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তারাও কোনো সমাধান দিতে পারেননি।

পরে এ বিষয়ে উথলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন হামিদা। কিন্তু বিষয়টির এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।

এ বিষয়ে শাজাহান মল্লিক মগবা বলেন, ‘হামিদাকে চিনতাম। কিন্তু, আমাদের বিয়ে হইনি। বিয়ে করলে অবশ্যই কাবিননামা থাকতো। সে কাবিননামা এনে সবাইকে দেখাতে পারলে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিব।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘ওই মেয়ে আমার হতে যাবে কেন? বিয়ে করলে না মেয়ে হবে! মেয়ে কার তা হামিদা-ই ভালো বলতে পারবে।’

ইমাম সবিল উদ্দিন জানান, দুই বছর আগে তার বাড়িতে শাহাজাহানের সঙ্গে হামিদার বিয়ে দেয়া হয়। সে সময়ে কাবিননামা বলে সাদা কাগজে দু’জনের স্বাক্ষর নেয়া হয়েছিল।

কাজীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খলসী ইউনিয়নের নিবন্ধিত কাজী আবদুর রশিদের সাব-কাজী আমি।’

এ সময় ইমাম সবিল স্বীকার করেন, সেদিন শাজাহান ও হামিদার বিয়ের কাবিননামা না করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়া ভুল হয়ে গিয়েছিল।

যোগাযোগ করা হলে কাজী আবদুর রশিদ জানান, সাব কাজী দেয়ার নিয়ম নেই, তারও কোনো সাব কাজী নেই। তার নাম ভাঙিয়ে কেউ প্রতারণা করে থাকতে পারেন।

তিনি আরো জানান, সাধারণত কাজী বিয়ে নিবন্ধন করলে এলাকার ইমাম অথবা মোল্লা কালেমা পড়িয়ে থাকেন। সবিল উদ্দিন মসজিদের ইমাম। তার পক্ষে বিয়ে নিবন্ধন করা সম্ভব নয় বলেও নিশ্চিত করেন আবদুর রশিদ।

এ বিষয়ে উথলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান মাসুদ জানান, স্বীকৃতির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পরিষদে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন হামিদা বেপারী। শিগগিরই নোটিস পাঠিয়ে সবাইকে হাজির করে পরিষদে সালিশ বসানো হবে।

প্রতিবেদকের পাদটীকা
এ ঘটনার তথ্য সংগ্রহে রৌহা, কোলা ও উথলী এলাকায় গেলে বিষয়টি নিয়ে আর না এগোনোর জন্য সবিল ইমাম ও শাহাজানের পক্ষ থেকে একাধিক দেনদরবার করা হয়।আরটিএনএন

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: