সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হাসনাতের বিষয়ে মুখ খুলছে না পরিবার

full_602945934_1470039730নিউজ ডেস্ক:: গুলশানের হলি আর্টিজানের জিম্মিদের মধ্যে জীবিত উদ্ধার হন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক প্রকৌশলী হাসনাত রেজা করিম।

পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে ছেড়ে দেয়ার কথা বার বার বলা হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন ভিন্ন কথা।মন্ত্রীর ভাষ্য, ‘হাসনাত করিমকে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

এদিকে, হাসনাত করিমের পরিবারও এতোদিন ধরে তার ফিরে না আসার কথা বলে আসছিলেন। কিন্তু, ৩১ জুলাই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন তারা।

হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার ঘটনার ১৫ ঘণ্টা পরে গত ২ জুলাই সকালে জীবিত উদ্ধার হওয়া ১৩ জন জিম্মির মধ্যে ছিলেন নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক প্রকৌশলী হাসনাত করিম এবং তার স্ত্রী- সন্তানেরা।

অন্য জিম্মিদের সঙ্গে তাদেরও রাজধানীর মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদের পরপরই ছেড়ে দেয়া হলেও হাসনাত করিম ছাড়া পাননি।

এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জীবিত অবস্থায় যে ৩২ জনকে উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে, সে তালিকায় হাসনাত করিমের নাম ছিল না। তার স্ত্রী শারমিন পারভীন ও দুই সন্তানকে ৩ জুলাই রাতে বাসায় ফিরতে দেয়া হয়।

তবে নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরিচ্যুত ওই শিক্ষককে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ৮ জুলাই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

ঘটনার পর থেকে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া হাসনাতের বিরুদ্ধে হামলায় সম্পৃক্ততার সন্দেহের কথা জানান।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমে একাধিকবার জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের পর হাসনাত করিমের সম্পৃক্ততার প্রমাণ না-পাওয়ায় গত গত ৮ জুলাই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

তবে, ১৬ জুলাই ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ডিএমপি কমিশনার জানান, আটক হাসনাত করিম জিজ্ঞাসাবাদের পর্যায়ে রয়েছেন। এমনকি পুলিশ কমিশনার এও বলেন যে, ‘তিনি (হাসনাত করিম) কোথায় আছে তা তদন্তকারীরা বলতে পারবেন। তাদের জিজ্ঞাসা করুন।’

হাসনাতের বাবা এম রেজাউল করিম গত ৯ জুলাই বলেন, ‘ডিবি ওকে নিয়ে যাবার সময় বলেছিল বাসায় পৌঁছে দেবে। কিন্তু এখন তো ওর সঙ্গে দেখাও করতে পারছি না। তার বিরুদ্ধে মামলা না হলে করার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবিরা।’

হাসনাত কোথায় জানতে চাইলে ডিএমপির উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘যাদের উদ্ধার করা হয়েছিল তাদের প্রত্যেককে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কেউ এখন পুলিশের কাছে নেই।’

হাসনাত করিমকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে ২৬ জুলাই জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, ‘হাসনাত করিমকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কোনো কিছুই নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিশ্চিত হলে সবকিছু জানানো হবে।’

এদিকে, লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার নাদিম কাদির ৩০ জুলাই বিবিসিকে এক সাক্ষাতকারে বলেন, ‘৩০ জুলাই পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হাসনাত করিমকে দু-তিন সপ্তাহ আগে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।’

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিক হাসনাত করিমকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও পুলিশের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করে কিছু না বলায় বিষয়টি নিয়ে তদন্তের জন্য জাতিসংঘের কাছে আবেদন করেছেন তার ব্রিটিশ আইনজীবী রডনি ডিক্সন।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় হাসনাতে বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তার বাবা রেজাউল করিম বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য নেই।’ তার কোনো খোঁজ পরিবার জানে কিনা, সে বিষয়েও কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

হাসনাত করিম লল্ডনে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশলে পড়াশোনার পর যুক্তরাষ্ট্রে এমবিএ করেন। দেশে ফিরে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন বেসরকারি নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ফ্যাকাল্টিতে। ২০১২ সালে নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরিরের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে যে চার শিক্ষককে বহিস্কার করা হয় তাদের মধ্যে হাসনাত করিম একজন।

নর্থসাউথ থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর একটি প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের চাকরি নিয়ে ফের লন্ডন চলে যান। বেশ কিছুদিন হাসনাত কাতারেও ছিলেন, দেশে ফিরেছেন দেড় বছর আগে।

প্রসঙ্গত, গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় গত ১ জুলাই রাতে হামলা চালায় ‘জঙ্গিরা’। হামলার প্রাথমিক প্রতিরোধেই প্রাণ হারান পুলিশের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তা। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডো অভিযানে ছয় জঙ্গি নিহত হলেও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে দেশি-বিদেশি ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: