সর্বশেষ আপডেট : ৩ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিশ্বনাথের রামপাশা গ্রামে হাছন রাজার বাড়ির ধ্বংসাবশেষ ছাড়া কোনো স্মৃতি নেই

hatan-king-BG20160801093907ডেইলি সিলেট নিউজ :: ‘মাটিরও পিঞ্জিরার মাঝে বন্দি হইয়ারে, কান্দে হাছন রাজার মন মুনিয়ারে,’ পৃথিবী মায়ার মোহে ‘আটকে’ কেঁদে কেঁদে এমনই অনেক কালজয়ী গান সৃষ্টি করেছেন মরমি কবি হাছন রাজা।

কিন্তু যেখানে ১৮৫৪ সালে তার জন্ম, বিশ্বনাথের সেই রামপাশা গ্রামে তার বাড়ির ধ্বংসাবশেষ ছাড়া তেমন কোনো স্মৃতি নেই। চোখে পড়েনি তার একটি ছবি কিংবা গানও।

অযত্নে অবহেলায় পড়ে থেকে যেনো সেই গানের মতোই বিলাপ করছে। স্মৃতি চিহ্নের অভাবেই যেনো কাঁদছে হাছন রাজার যৌবন-বৃদ্ধে কাঁটানো পিঞ্জিরাগুলো!

সরেজমিনে জন্ম ভিটা রামপাশা ঘুরে এমন চিত্রই চোখে পড়েছে। চোখে পড়েছে হাছনের থাকার ঘর, যেটি কদিন আগে পর্যন্ত রামপাশা পোস্ট অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এখন তা পরিত্যক্ত।

তাই বিভিন্ন পশু-পাখির মূলমূত্রও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। দুর্গন্ধে কারও সেখানে যাওয়ার জো নেই। এরপরও হাছনের স্মৃতির খোঁজে সেখানে যান অনেকেই।

হাছন রাজার রামপাশার সম্পদের ওয়াকফ এস্টেটের ম্যানেজার আবদুল মতিন জানালেন, তৎকালীন জমিদার রাজা বাবু খাঁ হাছন রাজার দাদা। পরবর্তীতে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন তিনি। তাদের পূর্বপুরুষদের আধিবাস অয্যোধ্যায়।’

হাছন রাজার ভক্তরা ছাড়াও প্রায়ই দেশি-বিদেশি ফোকলোর গবেষকরা এখানে আসেন বলে জানালেন তিনি।

তার ভাষ্যে, ‘৫ লাখ ২০ হাজার বিঘা জমির মালিক ছিলেন হাছন রাজারা। এখনও সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ, বিশ্বনাথ, সুনামগঞ্জ, লক্ষণছিড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব রয়েছে।’

অনেক জায়গায়, সুনামগঞ্জের সুনামগঞ্জ শহরের নিকটবর্তী সুরমা নদীর তীরে লক্ষণছিরি (লক্ষণশ্রী) পরগণার তেঘরিয়া গ্রামে হাছনের জন্ম হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

এ বিষয়ে বংশানুক্রমিকভাবে হাছন রাজার পরিবারের ঘনিষ্ট মতিন বলেন, ‘এটাই হাছন রাজার পৈত্রিক ভিটা। এখানে তার বাবা, দাদার জন্ম হয়েছে।’

‘সুনামগঞ্জ ছিলো তার হালগড়া (জমিদারি)। সেখানেও থাকতেন তিনি। যখন তিনি যখন মারা যান (১৯২২) তখন ছিলো এয়ত (শুষ্ক) মাস। তখন রামপাশায় নৌকা আসে না। গাড়ি-ঘোড়ার ব্যবস্থাও ছিলো না। নাওয়ের (নৌকা) সময় না থাকায় সেখানেই তাকে কবর দেওয়া হয় ।’

‘লন্ডনি’ অধ্যুষিত এলাকা বিশ্বনাথের উত্তরে সিলেট ও ছাতক। পূর্-দক্ষিণের অংশ বালাগঞ্জ আর পশ্চিম অংশটি ঘিরে সীমানা একেঁছে ছাতক এবং জগন্নাথপুর।

কথিত আছে, বিশ্বনাথ রায় চৌধুরীর নাম থেকেই এসেছে ১৯২২ সালে প্রতিষ্ঠিত থানা বিশ্বনাথের।

২৮৭.৩৩ বর্গকিলোমিটারের এ উপজেলা শহর থেকে পশ্চিম-উত্তরে রামপাশা বাজার, এর ঠিক আগেই হাছন রাজার জন্মভিটা চোখে পড়বে।

আলাপ করে করেই আবদুল মতিন ঘুরে দেখালেন হাছন রাজার পুরো বাড়ি। বিশাল এলাকা নিয়ে তৎকালীন জমিদার বাড়িটি।

পুকুর, শান বাঁধানো ঘাট, ঘাটের পুরানো পাথর। নারীদের পর্দার জন্যে বাড়ির উঠোনে তৈরি প্রাচীন দেয়াল। যা লতাগুল্মে ছেয়ে গেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: