সর্বশেষ আপডেট : ২৫ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সবজি চাষে সফল ‘বিজ্ঞানী’ বাবলু কোম্পানি

Sobjiডেইলি সিলেট ডেস্ক :: বাবলু কোম্পানি। এটা কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম নয়। গ্রামের এক দরিদ্র নিরক্ষর কৃষকের নাম। তার বাবা মোতালেব সর্দ্দার একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বাবার পরিচয়ে পরিচিত নয় বাবলু। ভূমিহীন নিরক্ষর সফল সবজি চাষী বাবলু এখন নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান। ‘বিজ্ঞানী’ হিসেবেও এলাকায় তার পরিচিতি রয়েছে।

কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের ছাতিয়ান মালিথাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বাবলু সর্দ্দার ওরফে বাবলু কোম্পানি। স্ত্রী ও ছেলে মোমেনুল ইসলামকে নিয়ে তার সংসার। দু’বেলা দু’মুঠো খাওয়ার জন্য কয়েক বছর আগেও অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন তিনি। অভাব আর অনটনের মধ্য দিয়ে চলত তার সংসার।

তবে ভূমিহীন নিরক্ষর হওয়া সত্ত্বেও তিনি স্বপ্ন দেখতেন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। এ স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে তিনি শুরু করেন সবজি চাষ।

২০০০ সালে নিজ গ্রামের তাজ আলী মালিথার ১ বিঘা জমি ৪ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে ফুলকফি লাগানোর মধ্য দিয়ে সবজি চাষ শুরু করেন। পরের বছর একই গ্রামের বগা বিশ্বাসের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকায় ২ বিঘা জমি লিজ নিয়ে বেগুন, লাউ ও বাঁধা কপি, পর্যায়ক্রমে অঞ্জনগাছীর খোকনের কাছ থেকে ২ বিঘা জমি লিজ নিয়ে কলাবাগান, ছাতিয়ানের ছানু মোবারের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকায় ৪ বিঘা জমি লিজ নিয়ে করলা, লাউ, বাঁধাকফি, অঞ্জনগাছীর সিআই হাজীর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ৫ বিঘা জমি লিজ নিয়ে কলাবাগান, লাউ, চিচিঙ্গা এবং অঞ্জনগাছীর ধুন্দার কাছ থেকে ২৫ কাঠা জমি ৭ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে পুঁইশাকের আবাদ করেন। এভাবেই বাড়তে থাকে বর্গাচাষী বাবলুর সবজি চাষের প্রসার।

সরকারি বা বেসরকারি কোনো ঋণ বা অনুদান ছাড়াই একসঙ্গে এতগুলো জমি লিজ নিয়ে ভূমিহীন বাবলু এলাকায় সবজি চাষে রীতিমতো বিপ্লব ঘটান। এরপর থেকে আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।এলাকার মানুষ বাবলুর সবজি চাষের সাফল্য দেখে তাকে ডাকতে শুরু করেন বাবলু কোম্পানি নামে। সেই থেকে বাবলু কোম্পানি নামে তিনি তার এলাকায় পরিচিতি।

বাবলু শুধু সবজি চাষীই নন একই সাথে ঢেড়শ গাছ থেকে পাটের বিকল্প আঁশ উদ্ভাবন করে নাম লিখিয়েছেন বিজ্ঞানীর খাতায়।

২০১১ সালের শেষের দিকে বাবলু কোম্পানি ঢেড়স গাছ থেকে পাটের মতো আঁশ উদ্ভাবন করে রীতিমতো দেশ-বিদেশে ব্যাপক সাড়া ফেলে। দেশের সকল ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়া বাবলুর ঢেড়স গাছ থেকে পাটের মতো আঁশ উদ্ভাবনের সংবাদটি বেশ গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করে। স্থান পায় শাইখ সিরাজের মাটি ও মানুষের কৃষি পত্রিকায়।

এর মধ্যে তিনি কলা গাছ থেকে রাসায়নিক সার, আতা ও নিম পাতা থেকে কীটনাশক তৈরি, ঢেঁড়স গাছ থেকে পাটের আঁশ ও বেগুন গাছে টমেটো তৈরির উদ্ভাবক হিসেবে দেশব্যাপী ব্যাপক সাড়া ফেলে।

বাবলু কোম্পানি বলেন, ‘শুধুমাত্র মানুষের জন্যই আমার এ প্রচেষ্টা। আমি সকলকে দেখাতে চাই বর্তমান সময়ে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াও ভালো সবজি উৎপাদন করা সম্ভব।’

বর্তমানে বাবলু উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শে এবার এক একর জমিতে চাল কুমড়া ও লাউ এবং এক একর জমিতে বেগুন আরো এক একর জমিতে শিমের আবাদ করেছেন। তবে কোনো প্রকার কীটনাশক ছ্ড়াই এসব উৎপাদন করছেন তিনি।

তার এই কীটনাশক ব্যবহার ছাড়া উৎপাদিত সবজির স্বাদই অন্যরকম। তাই স্থানীয় বাজারে তার সবজির চাহিদাও একটু বেশি।

মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘বাবলু কোম্পানির নিরাপদ ফসল উপজেলার মানুষের চাহিদা মেটাচ্ছে। তাই তার আবাদকৃত সবজির চাহিদাও ব্যাপক। আমরা তার উৎপাদিত ক্ষেত পরিদর্শন করে আবাদ সম্প্রসারণে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকি।’

তিনি আরো জানান, শীতকালীন শিমের সাথে সবাই মোটামুটি পরিচিত হলেও গ্রীষ্মকালে বাজারে শিমের সহজলভ্যতা কম। ইপসা শিম-২ (সাদা ফুল)ও ইপসা শিম-১(রঙিন ফুল) গ্রীষ্মকালীন শিমের দুটো জাত আছে। যার মধ্যে ইপসা শিম-২ জাতটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল মিরপুর উপজেলায়। যেটি বাবলু কোম্পানি আবাদ করেছে।

-বাংলামেইল

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: