সর্বশেষ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ২৭ জুন, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নিয়তিই যখন পতিতা পল্লী (ভিডিও)

Nari-Pachar-550x350নিউজ ডেস্ক : সীমান্তের ৩২ জেলায় বহুদিন ধরে স্বক্রিয় নারী পাচারকারী চক্র। চাকরির লোভ দেখিয়ে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় ভারতে পাচার করা হচ্ছে গ্রামের সহজ-সরল মেয়েদের। গবেষরা বলছেন, দেশটির সীমান্ত এলাকায় পাচারকারীদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মুম্বাই, পুনেসহ নানা রাজ্যে পাচার হওয়া কায়েক লাখ বাংলাদেশী নারী বন্দি জীবন যাপন করছে ভারতের পতিতা পল্লীতে।
যশোরের পুটখালী, সাতক্ষীরা ভোমরা, দর্শনার জীবন নগর ও ঝাউডাঙ্গা সীমান্তসহ ১৮ রুটে প্রতিবছর পাচার হয় প্রায় ২০ হাজার নারী ও শিশু। পাচার হওয়া নারীদের মধ্যে একজন ১৪ বছর বয়সী রুখসানা (ছদ্মনাম)। ভাগ্য ফেরানোর আশায় দুঃসম্পর্কের এক মামার হাত ধরে পাড়ি জমায় ভারতে। অবশেষে দুর্বিষহ জীবন থেকে কোনভাবে দেশে ফিরলেও ভাগ্য ফেরেনি তার। মাঝ পথে হারিয়েছে কৈশর। কলকাতা ও পুনের পতিতা পল্লীতে ৪ বছর অমানুসিক নির্যাতনের পর পালিয়ে ধরা দেয় পুলিশের হাতে।
বয়সে একুশ। নাম রাবেয়া। ২১ বছর বয়স হলেও দেখতে প্রায় কিশোরী। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আগে মুম্বাইয়ের পতিতা পল্লীতে নির্যাতনের নিয়তি মেনে নিয়ে কাটিয়েছে ৫ বছর। প্রথম অবস্থায় প্রচ- মারধরের মুখে অবশেষে নিজেকে সঁপে দেয় পতিতা পল্লীর অন্ধকারে। সেখানে থাকাকালীন সময়ে অন্তত ১০ বাংলাদেশীর সাথে পরিচয় হয়। সহকর্মী হিসেবে ১২ থেকে ১৩ বছরের ২/৩টি নতুন মেয়ের আগমনে দুর্বিষহ জীবন থেকে মুক্তির আকাঙ্খা জন্মে তার। অবশেষে ফিরে আসতে পারলেও আনতে পারেনি অপূরণীয় যা কিছু তার।
ভারতের সমাজকল্যাণ বোর্ড বলছে, দেশটির বিভিন্ন পতিতা পল্লীতে ৫ লাখ যৌনকর্মীর বেশিরভাগই বাংলাদেশী। ২০০৪ ধেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিন লাখ নারী ও শিশু ভারতে পাচার হয়েছে বলে জানাচ্ছে জাতিসংঘ। গত বছর সেখান থেকে প্রায় ৮’শ নারী ও শিশুকে দেশে ফিরিয়েছে রাইটস যশোর নামের একটি সংগঠন। রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, তাদের নেটওয়ার্ক সারা বাংলাদেশ ব্যাপী। আমার মনে হয় দালাল চক্রকে যদি চিহ্নিত করা হতো এবং গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা যেত তবে এসব প্রতিরোধ করা যেত।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দরিদ্র নারীদের বিয়ে করে ভারতে নিয়ে যায় চক্রটির সদস্যরা। প্রসাশন বলছে, জেলা-উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে রয়েছে পাচার প্রতিরোধ কমিটি। কিন্তু মামলার পর চক্রটি অর্থের বিনিময়ে সাক্ষীকে কিনে নেয়। গবেষকরা বলছেন, নানা নির্যাতনের শিকার এসব নারী ও শিশুর নগন্য অংশ ফিরিয়ে আনা হলেও হচ্ছে না পূর্নবাসন। স্বাধীন চলাফেরাতো দূরের কথা, পরিবারের সদস্যদের পাশেও অবহেলার পাত্র হয়ে থাকছেন তারা।
সূত্র: ইনডিপেন্ডেন্ট টিভি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: