সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ১৬ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘ইলিশায় উঠিয়া বলে আমার বড় পেটি, আমারে বানাইতে লাগে চেয়ারম্যানের বেটি’

elish daily sylhetজালাল আহমদ::
এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি। জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এই হাকালুকি। দেশীয় মাছের আধারও বলা হয় এই হাওরকে। কিন্তু এই হাওরে যদি বাঙালিদের প্রিয় মাছ ইলিশ যদি ঝাঁকে ঝাঁকে পাওয়া যায় তাহলে কেমন হয়। তীব্র স্রোত এবং গভীর জলের বাসিন্দা রূপালি ইলিশ এখন কালে-ভদ্রে নয়, সচরাচর ধরা পড়ছে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অবস্থিত হাকালুকি হাওরের বদ্ধ পরিসরে। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর হাওর হাকালুকিতে তাই ইলিশ ধরার প্রতিযোগিতা দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে গত এক মাস ধরে। পেশাজীবি জেলেদের বেড়জালের প্রতিটানে ১০/১৫টি ছোটো-বড়ো আকারের ইলিশ ধরা পড়ছে। এ নিয়ে কৌতূহলের দিগন্ত প্রসারিত হচ্ছে হাওরাঞ্চলে। তবে ইলিশ শিকার নিয়ে সিলেট অঞ্চলে কিংবদন্তি আছে অনেক। রয়েছে ধামালিও। মেয়েলি কণ্ঠের ধামালিতে উচ্চারিত হতো “ইলিশায় উঠিয়া বলে আমার বড় পেটি, আমারে বানাইতে লাগে চেয়ারম্যানের বেটি-ও মাছ ইলিশারে”।

ইলিশের এই আভিজাত্য গড়ে উঠেছিলো কুশিয়ারা অববাহিকার বিভিন্ন জনপদে। জনশ্রুতি আছে, আষাঢ় থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত কুশিয়ারা নদীর বিভিন্ন মোড়ে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়তো জেলেদের জালে। কুশিয়ারা এবং মনুনদীর সঙ্গমস্থল মৌলভীবাজারের অবলুপ্ত মনুমুখ নৌবন্দরকে ঘিরে ৫০ এর দশক পর্যন্ত ইলিশের হাট বিদ্যমান ছিলো। এছাড়া সিলেটের শেরপুর এবং হবিগঞ্জের মারকুলি ঘাটেও চাহিদামাফিক ইলিশ পাওয়া যেতো। কিন্তু প্রায় ৬ দশক থেকে বৈরী পরিবেশের কারণে ক্রমেই কুশিয়ারা নদীতে ইলিশের উপস্থিতি হ্রাস পেতে শুরু করে। বিশেষত, নদী ভরাট এবং ফেঞ্চুগঞ্জের সার কারখানার নির্গত বর্জ্য ইলিশ বসবাসের জন্য অনুপযোগী হয়ে ওঠে। জেলেদের জালে কালে-ভদ্রে ইলিশ ধরা পড়তো কম মাত্রায় এবং বিক্ষিপ্তভাবে। হালে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। এখন শুধু কুশিয়ারা নদীতে নয়, মনুনদীতেও জেলেদের জালে ইলিশের জাটকা ও মধ্যমানের ইলিশ ধরা পড়ছে। বাড়তি খবর হলো-হাকালুকি হাওরেও ইলিশের উপস্থিতি লক্ষ্যণীয় হয়ে উঠেছে। হাওর কিনারের জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ছে প্রায়ই।

এ ব্যাপারে মৎস্য বিশেষজ্ঞ নৃপেন্দ্র কুমার দাসের সাথে কথা হলে তিনি জানান, দিন বদলের পরিক্রমায় লুপ্ত অতীত এখন সম্ভাবনাময় বর্তমান হয়ে হাতছানি দিচ্ছে। তাঁর মতে, সিলেট অঞ্চলের কুশিয়ারা নদী একসময় ছিলো ইলিশের অন্যতম চারণক্ষেত্র। ভারতের বরাক নদীর এই শাখাটি সিলেটের অমলসিদ থেকে কুশিয়ারা নাম ধারণ করে একপর্যায়ে বিবিয়ানা ও ভেঁড়া মোহনায় রূপান্তরিত হয়ে মেঘনার সাথে মিশেছে। তাই সঙ্গত কারণে মেঘনা নদী থেকে মৌসুমকালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ উজানমুখী হয়ে ছুটে আসতো কুশিয়ারা অববাহিকায়।

একসময় বৈরী পরিবেশের কারণে ইলিশের উজান অবিযাত্রা ব্যাহত হলেও এখন ফিরে আসছে অনুকূল পরিবেশ। তাই ইলিশের উপস্থিতি বৃদ্ধি পচ্ছে কুশিয়ারাতে। বিশেষত নদীর ভাটিতে ড্রেজিং শুরু হওয়ায় এবং ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু হওয়াতে কুশিয়ারা তলের জলজ পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে, যা ইলিশ উপস্থিতির ক্ষেত্রে সহায়ক। এছাড়া প্রজনন মৌসুমে জাটকা সংরক্ষণে সরকারি পদক্ষেপ কার্যকর থাকায় নদীতে সামুদ্রিক ইলিশের উপস্থিতি বেড়েছে। অতীতের চাইতে কুশিয়ারা নদীতে বেশি মাত্রায় ছুটে আসছে ইলিশ। এটি এক নতুন সম্ভাবনা। নদীর ইলিশের হাওরে অবস্থান গ্রহণ সম্ভাবনার ক্ষেত্রকে করেছে প্রসারিত।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সিলেট ও মৌলভীবাজারের ৫টি উপজেলায় ১৮১ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট ও সুবিস্তৃত হাকালুকি হাওরের অথৈ জলরাশি ছোটো-বড়ো ৩টি সংযোগ নদী দিয়ে কুশিয়ারায় নির্গত হচ্ছে। সংযোগ নদীসমূহের স্রোত ঠেলে দলবদ্ধ ইলিশ ছুটে আসছে হাকালুকি হাওরে। হাওরের ৭/৮টি জলাশয় আছে, যেখানে পানির গভীরতা ২৫/৩০ ফুট পর্যন্ত। এই গভীর জলাশয়েই থিঁতু হবার পথ খুঁজছে ঝাঁকে ঝাঁকে আগত ইলিশ। আগত এই ইলিশের ঝাঁক থেকে দলছুট অবস্থায় কিছু কিছু ইলিশ ধরা পড়ছে শিকারিদের বেড়জালে।

সূত্র জানায়, বিশাল হাকালুকি হাওরে যে ৪/৫টি মৎস্য অভয়াশ্রম আছে তাতে যদি ইলিশের বসবাস নির্বিঘ্ন হয়, তাহলে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের কুশিয়ারাতে নেমে ডিম ছাড়া অসম্ভব কিছু নয়। যদি এই সম্ভাবনার ক্ষেত্র নিশ্চিত হয় তবে সিলেট অঞ্চলের কুশিয়ারার ইলিশ এক নতুন ব্র্যান্ড হিসেবে আবির্ভুত হবে বৈকি।

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সাল থেকে হাকালুকি হাওরে বর্ষাকালে জেলেদের জালে ইলিশ মাছ ধরা পড়ছে। তবে এবার আগাম বন্যার কারণে অন্য বছরের তুলনায় বেশি পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: