সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ১৭ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কল্যাণপুরে জঙ্গি অভিযান সম্পর্কে একটি গোয়েন্দা সংস্থা আগেভাগে জানত না

1469622880-550x324নিউজ ডেস্ক : কল্যাণপুরে পুলিশের স্ট্রম টুয়েন্টি সিক্স অভিযানে মঙ্গলবার নয় জঙ্গি নিহত হওয়ার ঘটনার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করার কথা জানানো হয়নি বিশেষ একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে। পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়নি। এমনকি এত বড় একটি অভিযানের জন্য চাওয়া হয়নি ওই বিশেষ সংস্থাটির সহায়তাও। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর নির্দেশ ছিলো জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিহত ও প্রতিরোধ করার জন্য সকল গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান প্রদান করতে হবে। সেই সঙ্গে এটাও বলেছেন, কোন সংস্থার কাছে এই ব্যাপারে কোন তথ্য থাকলে তারা এই ব্যাপারে বৈঠক করে সমন্বয় করবে। একে অপরকে সহায়তা করবে। এর আগে জঙ্গিবাদ বিরোধী বেশিরভাগ অভিযানের পুলিশ ওই সংস্থাকে জানিয়েছে। এবং সহায়তাও চেয়েছে। কিন্তু এবারই ব্যতিক্রম। কোন সহায়তা চাওয়া হয়নি। অপারেশন শেষ হওয়ার পর ওই সংস্থার উর্ধ্বতন দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তার কাছে মঙ্গলবার সকাল সোয়া সাতটার দিকে একটি এসএমএস পাঠানো হয়। এসএমএস পাঠিয়ে বলা হয় অভিযানের কথা। এই কথাগুলো জানা গেছে বিশেষ একটি সূত্রে।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, কল্যাণপুরে জঙ্গি অভিযান অনেক বড় ঘটনা। ওই ধরণের একটি বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার জন্য সবগুলো গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যেও সমন্বয় হয়। সহযোগিতা চাওয়া হয়। কিন্তু কল্যাণপুরের ঘটনাটি ব্যতিক্রম। এই ক্ষেত্রে ওই সংস্থার কোন সহযোগিতা না চাওয়ার কারণে তারা বিষয়টি নিয়ে সন্দিহান। কেন জানানো হয়নি এনিয়েও তারা পেছনের কারণ বের করেছেন। ইতোমধ্যে তারা বেশ কিছুও তথ্য পেয়েছে। অভিযানের বিভিন্ন দিক তারা খতিয়ে দেখছে।
অভিযানের খবর পুলিশ না জানালে কি তারা জানবেন না , ওই সংস্থার কি নিজস্ব কোন সোর্স নেই যে তারা আগাম জানতে পারেনি। এই ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, আমাদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক রয়েছে। ওই নেটওয়ার্কে এই ধরণের অভিযানের আগাম কোন খবর ছিলো না। ওই বাসায় এত জঙ্গি থাকে সেটাও তথ্য ছিলো না। তবে ওই বাসার নম্বর কোথাও উল্লেখ ছিল না তবে কল্যাণপুরে জঙ্গি রয়েছে এটা অনেক আগেই ওই সংস্থার তরফ থেকে সরকারকে জানানো হয়েছে। পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে বৈঠকেও জানানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, জঙ্গি দমনের জন্য বাংলাদেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। জিরো টলারেন্স নীতিতে অপারেশন করেছে। এই ব্যাপারে পুলিশ, র‌্যাব কাজ করছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করছে। এছাড়াও জঙ্গিবাদের জন্য বিশেষ ভাবে কাজ করছে বিশেষ একটি গোয়েন্দা সংস্থা। ওই সংস্থার এই জন্য বিশেষ একটি শাখাও রয়েছে। তারা জঙ্গিবাদ দমনে বিশেষভূমিকা পালন করে যাচ্ছে শুরু থেকে এই পর্যন্ত। গুলশান হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনায় ওই সংস্থাটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে অভিযান পরিচালনার জন্য তথ্য দিয়ে ও পরিস্থিতির সার্বিক বর্ণনা করে বিশেষভাবে সহায়তা করে।তাদের তথ্যের ভিত্তিতেই পরিচালিত হয় গুলশানে হলি আর্টিজানে অপারেশন থান্ডারবোল্ট।
সূত্র জানায়, ১ জুলাই গুলশানের ঘটনায় ওই সংস্থার জঙ্গি নির্মূলের সঙ্গে জড়িত শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ওই সংস্থার ১৫-২০ জনের একটি টিম গুলশানের হলি আর্টিজানের কাছাকাছি অবস্থান নেয়। অন্য সদসরাও বিভিন্ন স্থান থেকে দায়িত্ব পালন করে। তারা ১ জুলাই ঘটনা শুরু হওয়ার পর পরই ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রাত ১০টা ১০ মিনিটে তারা সেখানে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তার করা ও ভেতরকার পুরো অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার জন্য যা যা করার তা করে। রাত ১০-১০ মিনিট থেকে রাত আড়াইটা পর্যন্ত ভেতরের অবস্থান সম্পর্কে একটা ধারনা পায়। এরপর অভিযান কিভাবে পরিচালিত হয়। এই ব্যাপারে চারটি সুপারিশ করে। এরমধ্যে এক নম্বর ছিলো ভেতরে রাতের বেলায় অভিযান পরিচালনা করা ঠিক হবে না। তা করা হলে সবাই মারা যেতে পারে। কিন্তু ভোরে অভিযান পরিচালনা করা হলে অন্তত কিছু মানুষকেও জীবীত উদ্ধার করা যাবে। তাদের লক্ষ্য ছিলো বেশি মানুষকে বাঁচানো। জঙ্গিদের নির্মূল করা।
এরপর পরামর্শ ছিলো ওই সময়ের অভিযান সরাসরি কোন মিডিয়াতে প্রচার করা যাবে না। কারণ মিডিয়া কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয় ছিলো এছাড়াও যারা অপারেশনে ছিলো ও অপারেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল তাদের নিরাপত্তার বিষয় ছিল। অভিযানের সব কিছু দেখানো হলে জঙ্গিদের অন্য সদস্যরা বাইরে থেকে হামলা করতে পারে। অন্য যে কোন ঘটনা ঘটাতে পারে। আশে পাশের স্থাপনায়ও হামলা হতে পারে। তাদের নিরাপত্তার ব্যাপার ছিলো। এরপরের পরামর্শ ছিলো ওই ঘটনার পর পর যেহেতু দুইজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছে আরো ২৫ জনের মতো আহত হয়েছেন তাই ওই সময়ে পুলিশের মধ্যে এক ধরনের ভীতি তৈরি হয়েছিলো। ওই সময়ে পুলিশের পক্ষে একটি সফল অপারেশন করা সম্ভব হবে না। অভিযান করতে হলে অবশ্যই সেনাবাহিনী সহায়তা নিতে হবে। কারণ ভেতরের পরিস্থিতি যা আছে তাতে করে ভেতরে খুব অল্প সময়ের জন্য অভিযান পরিচালনা করতে হবে। নাহলে জঙ্গিরা সুযোগ পেলে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। সেই জন্য কমান্ডো অভিযান পরিচালনা করতে হবে। ওই অভিযানে সেনাবাহিনীর প্যারাকমান্ডো ব্যাটলিয়ন ছাড়াও অন্যান্যরা অংশ নিবে। বিমান, নৌ বাহিনীও এই ব্যাপারে নৌ পথে এবং আকাশ পথে সহায়তা করবে। এছাড়াও পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্যরাও অংশ নিবে।
সূত্র জানায়, এছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি বিষয় সুপারিশ করা হয়েছিলো যাতে করে অভিযান ব্যর্থ না হয় ও জঙ্গিরা পালিয়ে যেতে না পারে। ওই সংস্থার গোয়েন্দাদের সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয় অপারেশন থান্ডারবোল্ড।
সূত্র জানায়, বিশেষ ওই সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে কমান্ডো অপারেশন হলেও কল্যাণপুরে জঙ্গিদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করার ব্যাপারে পুলিশের তরফ থেকে ওই সংস্থাকে কোন তথ্য আগাম জানানো হয়নি। কিন্তু কেন এর জবাব খুঁজছেন তারা।
জঙ্গিবাদ নির্মূল করার মতো এই ধরনের অভিযান করার জন্য যে শক্তি দরকার সেটা একক পুলিশের পক্ষে নেই। এই কারণে সম্মিলিতভাবেই সবাই কাজ করার জন্য স্বরাষ্ট্র নির্দেশ দিয়েছেন। না হলে অভিযান ব্যর্থ হতে পারে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদ্যসরা তা করার জন্য সমুহ বিপড় হতে পারে। সেই বিপদ বিবেচনা করে এর আগে গোয়েন্দা তথ্য সহায়তা ও পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। এবং তারা মাঠে থেকেছে। কিন্তু এবার না নেওয়ার কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ঘটনা ঘটিয়ে দেখছে। নিহত জঙ্গিদের ব্যাপারেও খোঁজ খবর করছে। তারা কে কবে কোথায় ছিলো এই ব্যাপারে তাদের জঙ্গিবাদী কর্মকান্ড সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করছে। তাদের সযুক্ত কোন লিঙ্কে কোন তথ্য মিলে কিনা সেই চেষ্টাও চলছে।
সূত্র জানায়, এই ধরণের একটি অভিযান পরিচালিত করা হবে এই ব্যাপারে কিছুই জানতাম না। কোন তথ্যও দেওয়া হয়নি। চাওয়া হয়নি কোন সহায়তাও। রাতে অভিযান পরিচালনা করে ও সকালে অভিযানের সমাপ্তি টানে। ওই ঘটনায় কেন জানানো হলো না তা নিয়ে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থার কাছে বিষয়টি গোপন করার কারণও বের করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, কল্যাণপুরের ঘটনায় যারা নিহত হয়েছে তাদের মধ্যে তিনজন চিহ্নিত জঙ্গি। ওই গোয়েন্দাদের কাছে তিনজনের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে তারা অনেক দিন ধরেই তাদেরকে খোঁজ করছিলো। তবে বাকি ছয় জঙ্গির ব্যাপারে কোন তথ্য ছিলো না। তাদের তালিকায় ওইসব জঙ্গির নামও নেই। পুরো কল্যাণপুরের অভিযানের আদ্যপান্তও তারা দেখছে।-আমাদের সময়.কম

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: