সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘ড. ছদরুদ্দিন চৌধুরীর হাত ধরেই সিলেটে উচ্চশিক্ষার বিস্তার ঘটেছে’

2852d277-54b4-47fe-8c8c-80868fab6c42‘অধ্যাপক ডক্টর ছদরুদ্দিন আহমদ চৌধুরী পেশায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেও তাঁর কর্মে উত্তরণ ঘটেছিল সমাজের শিক্ষক হিসেবে। বুদ্ধিভিত্তিক ও মানবিক উৎকর্ষের বিরল সম্মিলনে তাঁর এক বর্ণাঢ্য জীবন ছিল। গত ২৩ জুলাই সেই জীবনের পরিসমাপ্তি হলেও তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব সুচারুভাবে সম্পন্ন করে নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন।’

শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় নগরের বারুতখানা এলাকায় সদ্যপ্রয়াত ভাষা সৈনিক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য ছদরুদ্দিন আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুতে ‘মাটির মানুষ প্রাণের মানুষ’ শীর্ষক আয়োজিত শোকসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

শোকসভায় বক্তারা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নাম ‘ডক্টর ছদরুদ্দিন আহমদ চৌধুরীর’ নামে নামকরণ ও ভাষা সৈনিক শিক্ষা বিস্তারের বিশেষ ভূমিকা রাখায় তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করার দাবি জানান।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মো. সালেহ উদ্দিন। উল্লেখ্য, প্রয়াত ছদরুদ্দিন বাপা সিলেটের সভাপতি ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মো. সালেহ উদ্দিন বলেন, ডক্টর ছদরুদ্দিন আহমদ চৌধুরীর হাত ধরেই সিলেটে উচ্চশিক্ষার বিস্তার ঘটেছে। মানসিক ও শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে এনে দিয়েছেন দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি। পরিবেশ রক্ষা ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ বিনির্মাণে তাঁর ভূমিকা সিলেটবাসী কখনোই ভুলবে না।
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম কিমের সঞ্চালনে অনুষ্ঠিত শোকসভায় বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিশিষ্ট আইনজীবী মুজিবুর রহমান চৌধুরী, ওভারসিজ সিলেটের নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল আলম, প্রয়াত ছদরুদ্দিন আহমদ চৌধুরীর জামাতা অঙ্গিকার বাংলাদেশের পরিচালক অ্যাডভোকেট মঈনুদ্দীন আহমদ জালাল, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিশিস্ট অনুবাদক গোলাম হোসেন হাবিব (জিএইচ হাবীব), সোদি আরবের কিং খালিদ ইউনির্ভাসিটির সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুল আচপিয়া, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সরকার সোহেল রানা, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ডেপুটি রেজিস্ট্রার মিহিরকান্তি চৌধুরী, তথ্যচিত্র নির্মাতা নিরঞ্জন দে যাদু, সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামের ভেনু ম্যানেজার জয়দ্বীপ দাস সুজক, দৈনিক সবুজ সিলেটের বার্তা সম্পাদক ছামির মাহমুদ, আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী, পরিবেশবাদী সংগঠন ভূমিসন্তানের সমন্বয়ক আশরাফুল কবীর, প্রধীকারের সভাপতি মঞ্জুর কাদের চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম বলেন, সিলেটের সন্তান হিসাবে নিজেকে নিয়ে গর্ববোধ করতেন। আবার শিক্ষাক্ষেত্রে সিলেটের অনগ্রসরতা তাঁকে মর্মঃপীড়া দিতো। তাই শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালিন উপাচার্যের দায়িত্ব পেয়ে তিনি নিজেকে উজাড় করে দিতে চেয়েছেন। পরম মমতা ও দূরদৃষ্টি দিয়ে সিলেটের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা তিনি শুরু করেন। সিলেটবাসীর স্বপ্নের এ বিশ্বদ্যিালয়েক দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ করার ইচ্ছে নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়াগায় ছড়ি থাকা, বিদেশে থাকা ভালো শিক্ষকদের সিলেট নিয়ে আসার উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। তিনি বলেন, দলীয় রাজনীতির বাইরে একটি উচ্চ শিক্ষার তীর্থকেন্দ্র গড়ে তোলার প্রয়াসে ছদরুদ্দিন অনেকটাই সফল হয়েছিলেন।

স্বাগত বক্তব্যে বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম কিম বলেন, সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের অন্য যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনন্য রাখতে প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য হিসাবে তিনি নিরলসভাবে কাজ করছেন। তিনি ছিলেন স্বপ্নচারী, প্রকৃতই অগ্রসর চিন্তাধারক। ভারী তত্ত্বকথা বলতেন না। সহজ সরল কথাবর্তায় নিচের বিশ্বাসটুকু প্রকাশ করতে কুণ্ঠাবোধ করেননি কখনো। জীবনধারণে বিজ্ঞানের চর্চা করলেও ধর্মীয় অনুশীলন তাঁর দৈনিন্দিন কার্যসূচীর অংশ ছিল। প্রগতিশীল ও ধর্মভীরুতার সমন্বয় সাধন করে স্নিগ্ধ ও শুদ্ধভাবে জীবনযাপন যে করা সম্ভব তা তিনি দেখিয়ে গেছেন।

এদিকে, শোকসভা পরবর্তী এক সভায় বৃহত্তর পরিসরে ‘ডক্টর ছদরুদ্দিন আহমদ চৌধুরী স্মরণে ‘নাগরিক শোকসভা করার সিদ্ধান্ত হয়। মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মো. সালেহ উদ্দিনকে আহবায়ক ও সিলেট সিটি করপোশেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীবকে সদস্য সচিব করে ১০১ সদস্য বিশিস্ট ‘নাগরিক শোকসভা আয়োজন’ কমিটি গঠন করা হয়। বিজ্ঞপ্তি

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: