সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ৩ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জঙ্গি আস্তানায় নিহত কে এই শেহজাদ?

full_1727319272_1469699256নিউজ ডেস্ক: সোমবার দিবাগত রাতে কল্যাণপুরের বিভিন্ন মেসে অভিযান চালাতে গিয়ে ৫ নম্বর সড়কের জাহাজ বিল্ডিংয়ের পাঁচ তলায় একটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। পরে ওই আস্তানায় সোয়াতের এক ঘণ্টার অভিযানে ৯ জঙ্গি নিহত হয়।

সেখানে নিহত এক জঙ্গির নাম শেহজাদ রৌফ। পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠানে নিজে গিটার বাজিয়ে অঞ্জন দত্তের গান গাইত ছেলেটি। লেখাপড়া করত বাংলাদেশের নামকরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে। শুধু তাই নয়, ছেলেটির বাবা একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী যিনি দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ করেন। ছেলেটির দাদা, যিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। সেই তরুণ ছেলেটিই নাম লিখিয়েছিলেন ‘জঙ্গি’দের দলে। অবিশ্বাস্য শোনালেও বাস্তবে এমনটিউ ঘটেছে।

অপারেশন ‘স্টর্ম ২৬’ চলাকালীন সময়ে নিহত হয় জঙ্গি শেহজাদ রৌফ। এই জঙ্গি গুলশান হামলায় নিহত অন্যতম মাস্টারমাইন্ড নিবরাসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। শেহজাদও তার বন্ধু নিবরাস ইসলামের মতই আমুদে ছিল। সে বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পছন্দ করত এবং পারিবারিক অনুষ্ঠানগুলোতে গান গাইত – এমনটিই জানানো হয়েছে টেলিগ্রাফ অফ ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে।

আমেরিকান নাগরিক শেহজাদ শিকাগো থেকে তার পরিবারের সাথে কয়েক বছর আগে ঢাকায় ফিরে আসে এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়াশুনা করে। এরপর, সে ও নিবরাস নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত। তারা দুজনই ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নিখোঁজ।

টেলিগ্রাফে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অজ্ঞাতনামা এক পারিবারিক সদস্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয় – শেহজাদের পরিবারের সদস্যরা আমেরিকান নাগরিক এবং তার বাবা একজন কোটিপতি। তিনি বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি সরবরাহ করেন। তার দাদা প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রাক্তন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন।

তার এক আত্নীয় টেলিগ্রাফকে বলেন – “শেহজাদ ছিল আমোদপ্রিয় এবং আর সবার মতোই একজন। সে বাদ্যযন্ত্র বাজাতে ভালবাসত… আমার এখনও মনে আছে, এ বছরের জানুয়ারিতে পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে সে অঞ্জন দত্তের ‘চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি বেলা শুনছো’ গানটি গেয়েছিল।”

“শেহজাদের পরিবার শিকাগোতে বসবাস করত। কিন্তু তার মায়ের ক্যানসার ধরা পড়ার পর তারা দেশে ফিরে আসে। এরপর সে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়াশুনা করে এবং ইন্টারন্যাশনাল ব্যাকালরিয়েট সম্পন্ন করে। সে বিবিএ শেষ করে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ পড়ছিল” – টেলিগ্রাফ অফ ইন্ডিয়া তাকে উদ্ধৃত করে বলে।

তিনি বলেন, “তার পরিবার অনেকটাই উদারপন্থী। তারা প্রায়ই বাড়িতে পার্টির আয়োজন করত যেখানে অতিথিরা আসতেন এবং গান বাজনা করতেন।”

“২০০৯ সালে শেহজাদের মা মারা যান। তারপর থেকে সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ধরে, কিন্তু আমরা কখনোই ভাবতে পারিনি সে একজন সন্ত্রাসী হয়ে উঠবে,” বলেন তিনি।

“সে যা করেছে তাতে আমাদের সমর্থন নেই, এবং দ্ব্যার্থহীন ভাবে সন্ত্রাসবাদের নিন্দা জানাই। যারা শেহজাদের মতো তরুণদের মগজধোলাই করেছে এবং তাদের এই পথে ঠেলে দিয়েছে, কর্তৃপক্ষের উচিৎ তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা,”।

পহেলা জুলাই গুলশানে জঙ্গি হামলার পর কর্তৃপক্ষ যখন নিখোঁজ যুবকদের তালিকা প্রকাশ করে সেখানে শেহজাদ নাম ছিল। “পুলিশের প্রকাশিত ছবি দেখে আমরা তাকে সনাক্ত করতে পারি,”।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার কল্যাণপুরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে যে নয়জন জঙ্গি নিহত হয় শেহজাদ তাদের মধ্যে একজন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: