সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সাইকেলে বিশ্বভ্রমণ দুই বাংলাদেশির

24707_34নিউজ ডেস্ক:
পরিবেশ বিপর্যয়ের ব্যাপারে বিশ্বকে সচেতন করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন দুই তরুণ। একজন গোপালগঞ্জের মো. জহিরুল ইসলাম। অন্যজন সাতক্ষীরার মো. আজাদ হোসেন। তারা বাইসাইকেলে বিশ্বভ্রমণের উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতিমধ্যে তারা প্রতিবেশী ভারত ভ্রমণ শেষ করেছেন। পরিবেশের পক্ষে সচেতনতামূলক স্লোগান লেখা গেঞ্জি গায়ে ওই দুই যুবক গত এক বছরে ভ্রমণ শেষ করেছেন ভারতের ২২টি প্রদেশ। দক্ষিণে কেরালা থেকে শুরু করে উত্তরে কাশ্মীর পর্যন্ত সাইকেলে চড়ে ঘুরেছেন এই দুই যুবক। একান্ত আলাপে তারা বলছিলেন তাদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ও আগামী পরিকল্পনার কথা। তাদের কাছ থেকে জানা গেল, গোপালগঞ্জের জহিরুল ইসলামের নানার বাড়ি সাতক্ষীরায়। সেখানেই তার সঙ্গে পরিচয় আজাদের। বিশ্বভ্রমণের এই সাহসটা তারা পান বাংলাদেশ ভ্রমণ থেকেই।

তারা বলছিলেন, ২০০৭ সালের সিডর আর ২০০৯ সালের আইলায় দক্ষিণাঞ্চলের সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই বন্যায় দুর্গত মানুষের অবস্থা দেখতে সাইকেলযাত্রা করেন এই তিন জেলায়। তখন তারা ৮ম শ্রেণির ছাত্র। তারা কথা বলেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে এবং বিভিন্ন সংস্থার লোকদের সঙ্গে। জানতে পারেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন ও তার প্রেক্ষিতে বিশ্বের তাপমাত্রা বাড়ার কারণে নানামুখী প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। তখনই তারা এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার জন্য কিছু করার কথা ভাবেন। তারা বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ জলবায়ু অভিঘাতের। দক্ষিণের সেই সব জেলার বাসিন্দা হিসাবে আমরা আমাদের এই ঝুঁকির কথা জানিয়ে দিতে চাই বিশ্বকে। তাই আমরা বিশ্বভ্রমণের উদ্যোগ নিয়েছি। উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তাদের লেখাপড়াও থেমে যায়। দুজনই কোনো রকমে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন। কিন্তু, ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আর বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে মিশে তারা বেশ পরিপক্ব হয়েছেন।

এরই মধ্যে তারা ভ্রমণ করেছেন দেশের ৬৪টি জেলা। রপ্ত করেছেন বিভিন্ন ভাষা। ত্রুটিপূর্ণ হলেও ইংরেজিতেও তারা কথা বলছেন অনর্গল। প্রথমবার ভারতীয় ভিসা নিয়ে তারা ৫ মাস ১৯ দিনে দক্ষিণ ভারত বেড়িয়ে ফিরে আসেন। পুনরায় ভিসা নিয়ে যান ৫ মাস ২৫ দিনের জন্য উত্তর ভারতে। বলেন, ভারতের একেক এলাকার মানুষ একেক রকম। কাশ্মীরিদের আতিথেয়তায় তারা বিমুগ্ধ। কারগিল থেকে কিশতোয়ার, শ্রীনগর, জম্মুসহ জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন জেলায় তারা প্রায় এক মাস কাটিয়েছেন বিভিন্ন মানুষের ঘরে। অন্যান্য জায়গায় তারা হোটেলে থেকেছেন। আন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানা রাজ্যে তারা সমস্যায় পড়েছেন ভাষা নিয়ে। কারণ, সেখানে হিন্দি, ইংরেজি বা বাংলার কোনোটাই কাজ করেনি। হায়দরাবাদে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয়ের পর তার সঙ্গে সেখানকার বিয়ে অনুষ্ঠানেও যোগ দেন এই দুই বাংলাদেশি যুবক। দ্বিতীয় দফায় ভারত ভ্রমণ শেষে এখন তারা উদ্যোগ নিয়েছেন শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ ভ্রমণের।

তারা জানান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা তাই ওই দুই দেশে যেতে চাই এবার। রাস্তা না থাকায় সরাসরি যেতে পারছেন না তারা। বিমানে করে যেতে হবে তাদের। নিজেদের সাইকেল ব্যাগের মধ্যে নিয়ে তারা বিমানে উড়তে চান। ভারত ভ্রমণের জন্য পরিবারের সদস্যরা অর্থসহয়তা দিয়েছেন। কিন্তু, এখন বাকি দেশগুলো ভ্রমণের জন্য আমরা কিছু সহায়তা খুঁজছি। তারা ভারতে যেসব জায়গায় ঘুরেছেন সেখানেই সরকারি দপ্তরে গিয়ে হাজিরা দিয়েছেন। সংগ্রহ করেছেন তাদের মন্তব্য ও প্রশংসাপত্র। ২০১৩ সালের জুলাই মাসে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব এক পত্রে তাদের ভ্রমণে সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহায়তার অনুরোধ জানান। পরে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারত, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষকে পত্র দেন তাদের ভ্রমণের ভিসা প্রদানের জন্য। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকেও তাদের প্রত্যয়ন করা হয়।মানবজমিন

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: