সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৬০ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ির পুত্র সাজাদ

24709_31 (1)নিউজ ডেস্ক:
ঢাকার কল্যাণপুরে পুলিশি অভিযানে নিহত জঙ্গি মোহাম্মদ সাজাদ রউফ অর্ক ছিলেন এমবিএ শিক্ষার্থী। তার বয়স বিশের কোঠায়। পিতা ‘মিলিয়নিয়ার’ ব্যবসায়ী। পারিবারিক অনুষ্ঠানে গিটারে টুংটাং শব্দ করে গাইতেন অঞ্জন দত্তের গান। বাংলাদেশ পুলিশ নিজেদের ফেসবুক পেজে সেদিনের অভিযানে নিহত ৮ জনের ছবি প্রকাশের পর আমেরিকা ফেরত রউফ পরিবার সাজাদকে চিনতে পারে। তার আত্মীয়স্বজন বলেছেন, পরিবারের সদস্যরা মার্কিন নাগরিক। সাজাদের বাবা ‘ডলার মিলিয়নিয়ার’। বাংলাদেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে ‘ক্রাউড কন্ট্রোল গ্যাজেট’ ও বিভিন্ন সরঞ্জাম সরবরাহ করেন তিনি।

কলকাতার ইংরেজি দৈনিক দ্য কলকাতা টেলিগ্রাফে দেবদীপ পুরোহিতের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। এতে বলা হয়, সাজাদ বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) শিক্ষার্থী ছিলেন। দেশে সামপ্রতিক কিছু সন্ত্রাসী হামলায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন কিছু শিক্ষার্থীর যোগসূত্র ছিল। এ কারণে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর তোপের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ১লা জুলাই ঢাকার অভিজাত একটি ক্যাফেতে হামলাকারীদের একজন ছিল এনএসইউর প্রাক্তন শিক্ষার্থী নিবরাস ইসলাম। সাজাদ ও নিবরাস ছিল পরস্পরের বন্ধু। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে জঙ্গিদের একটি গ্রুপের গোপন আস্তানায় হানা দেয় পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানতে পেরেছে, এ গোষ্ঠী একটি সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করছিল। সেখান থেকে ৩ জনকে আটক করে পুলিশ। এ তিন জন জানায়, সাজাদ রউফ আরও কয়েকজন তখন পালিয়ে যায়। এসব জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র মাসুদুর রহমান।

ওদিকে, নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে আরও বলা হয়, সেদিন পালিয়ে যাওয়াদের মধ্যে নিবরাস ইসলামও ছিলেন। পাশাপাশি কল্যাণপুর অভিযানে নিহত আরেকজনও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি। তার নাম তাজ-উল-হক-রশিক।

মাসুদুর রহমান আরও বলেন, এটি স্পষ্ট যে সাজাদ ও কল্যাণপুরের বর্তমান গ্রুপটির অন্যান্য গোষ্ঠীর সঙ্গে হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় হামলা চালানো গোষ্ঠীটির যোগসূত্র ছিল। সাজাদের এক আত্মীয় বলেন, ‘সে ছিল আমোদপ্রিয়, সাধারণ একটি ছেলে। সংগীত সরঞ্জাম চালাতে ভালোবাসতো সে। এ বছরের জানুয়ারিতে একটি পারবারিক অনুষ্ঠানের কথা আমি মনে করতে পারি। সেখানে সে অঞ্জন দত্তের ‘চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি বলা শুনছো’ গানটা গেয়েছিল।’

১লা জুলাইয়ের সন্ত্রাসী হামলার পর, বাংলাদেশ এ উদঘাটনের দরুন আত্মস্থ হতে চাইছে যে, পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত ও ধন্যাঢ্য পরিবারের তরুণরা বাড়ি থেকে পালিয়ে সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগ দিচ্ছে। ফেব্রুয়ারি থেকে খোঁজ নেই সাজাদের। ওই আত্মীয়ের মতে, সাজাদের পিতা তওহিদ স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ১লা জুলাইয়ের হামলায় তরুণদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। এরপর কর্তৃপক্ষ নিখোঁজ তরুণদের একটি তালিকা প্রকাশ করে। তাতে নাম ছিল সাজাদের। পরিবারের ওই সদস্য বলেন, ‘পুলিশের প্রকাশ করা ছবি থেকে আমরা তাকে চিনতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা আগে শিকাগোয় ছিল। কিন্তু সাজাদের মায়ের শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ার পর তারা দেশে ফিরে আসে। দেশে ফেরার পর ঢাকার আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়ে সাজাদ। এরপর বিবিএ শেষ করে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করছিল সে।’

ওই আত্মীয়ের ভাষায়, ‘পরিবারটির এক উদারমনা আবহ আছে। তারা ঘরে পার্টি আয়োজন করতো, যেখানে মানুষ আসতো আর গান গাইতো। এমন পরিবারের কেউ কীভাবে সন্ত্রাসী হতে পারে? সাজাদের মা ২০০৯ সালে মারা যান। এরপর থেকে সে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো। কিন্তু আমরা কখনও ভাবিনি সে সন্ত্রাসী হবে।’

তার ভাষ্য, ‘সে যা করেছে তা আমরা সমর্থন করি না। আমরা দ্ব্যার্থহীন ভাষায় সন্ত্রাসবাদের নিন্দা জানাই। কিন্তু কর্তৃপক্ষেরও উচিত তাদের খুঁজে বের করা যারা সাজাদের মতো তরুণদের ব্রেনওয়াস করে ও তাদের এসবের মধ্যে ঠেলে দেয়।’ খবরে বলা হয়, নয় সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীর ৭ জনের পরিচয় সমপর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদের অন্তত ৩ জন ধন্যাঢ্য পরিবারের বলে বলা হচ্ছে।

এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সামপ্রতিক মাসগুলোতে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোর যে কাজের ধরন প্রকাশ পেয়েছে, তাতে ইঙ্গিত মেলে যে, সদস্য সংগ্রাহকরা দেশের উচ্চবিত্ত ও প্রত্যন্ত পরিবারের তরুণদের টার্গেট করছে। এর একটি কারণ হতে পারে যে, তারা একটি বার্তা পাঠাতে চায় যে, শ্রেণী নির্বিশেষে ছড়িয়ে আছে তাদের সংযোগ।

এদিকে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে বাংলাদেশে নিজেদের কার্যালয়গুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে বৃটিশ কাউন্সিল। যদিও এটা উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর সংগঠনটি তাদের কার্যালয় পুনরায় খুলবে ও কাজ চালিয়ে যাবে, কিন্তু কোন সময়সীমা জানানো হয়নি।
বাংলাদেশের বৃটিশ কাউন্সিলের পরিচালক বারবারা উইকহ্যাম এক বিবৃতিতে বলেন, প্রকাশ্যে নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে, এ বিষয়টি আমরা স্বীকৃতি দিই। আমাদের কর্মী ও গ্রাহকদের নিরাপত্তা সবসময়ই আমাদের শীর্ষ অগ্রাধিকার।’
বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসগুলো তাদের কর্মী ও আমেরিকান নাগরিকদের এ সপ্তাহে অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: