সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ২ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

গিটার বাজানো ছেলেটিই এখন নিহত ‘জঙ্গি’

photo-1469704609নিউজ ডেস্ক: পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠানে নিজে গিটার বাজিয়ে অঞ্জন দত্তের গান গাইত ছেলেটি। লেখাপড়া করত বাংলাদেশের নামকরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে। শুধু তাই নয়, ছেলেটির বাবা একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী যিনি দেশের সামরিক বাহিনীর কাছে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা পণ্য সরবরাহ করেন। ছেলেটির দাদা, যিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল।

সেই তরুণ ছেলেটিই নাম লিখিয়েছিলেন ‘জঙ্গি’দের দলে। অবিশ্বাস্য শোনালেও বাস্তবে এমনটিউ ঘটেছে।

যে ছেলেটির কথা বলা হচ্ছে, তাঁর নাম দেশের প্রায় সব মানুষ এতক্ষণে জেনে গেছে। নাম শেহজাদ রউফ ওরফে সাজ্জাদ রউফ অর্ক। গত মঙ্গলবার রাজধানীর কল্যাণপুরে পুলিশ ও সোয়াতের অভিযানে নিহত ‘জঙ্গি’ হিসেবে এরইমধ্যে পুলিশ অর্কের নাম পরিচয় প্রকাশ করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার ভারতের গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে অর্কের বিষয়ে বিভিন্ন বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করেছে।

সেখানে বলা হয়, নিহত জঙ্গিদের ছবি বাংলাদেশের পুলিশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের পর বেরিয়ে আসে অর্কের পরিচয়। জানা যায়, শেহজাদ রউফ অর্ক একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত মার্কিন নাগরিক। তাঁর বাবার নাম তৌহিদ রউফ। তিনি বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর কাছে ভিড়-নিয়ন্ত্রক যন্ত্র এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ক যন্ত্রপাতি সরবরাহের ব্যবসা করেন। তৌহিদ রউফের বাবা বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রউফ। যিনি একসময় সশস্ত্র বাহিনীর গোয়েন্দা শাখার প্রধান ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেহজাদ বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির বেশ কিছু শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

শেহজাদ রউফ অর্ক গত পহেলা জুলাই ঢাকার গুলশানে হামলার ঘটনায় নিহত জঙ্গি নিব্রাস ইসলামের বন্ধু ছিল বলে বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্কের এক আত্মীয় বলেন, ‘সে ছিল খুবই আমুদে স্বভাবের ছেলে। সে গান ভালোবাসতো। আমি এখনো মনে কর পারি যে, এ বছরের জানুয়ারি মাসে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে গিটার বাজিয়ে অঞ্জন দত্তের চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি বেলা শুনছ গানটি শুনিয়েছিল সে।’

পহেলা জুলাইয়ের হামলার ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখতে পাচ্ছে যে, পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত এবং উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা বাড়ি থেকে পালিয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগ দিচ্ছে।

আত্মীয়স্বজনরা জানিয়েছেন, অর্ক গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নিখোঁজ ছিল। এ বিষয়ে স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়রিও করেছিলেন তাঁর বাবা তৌহিদ রউফ। তবে এরপরেও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

গুলশান হামলার পর যখন পুলিশের পক্ষ থেকে নিখোঁজের তালিকা প্রকাশ করে তখন সেই তালিকায় অর্কের নাম দেখা যায়।

পরিবারের ওই সদস্য বলেন, ‘অর্কের পরিবারের সদস্যরা শিকাগোতে বাস করতেন। সেখানে অর্কের মায়ের ক্যান্সার ধরা পড়ে। এর পরই তাঁরা দেশে ফিরে আসেন। বাংলাদেশে এসে অর্ক আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ঢাকায় ভর্তি হয়। এরপর নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ শেস করে এমবিএতে ভর্তি হয়।’

ওই আত্মীয় আরো জানান, অর্কের পরিবারটি উদারমনা ছিল। তাঁরা প্রায়ই বাড়িতে পার্টির আয়োজন করতেন যেখানে সবাই একসাথে হতেন, গানবাজনা হতো। অর্কের দাদা প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা পরিদপ্তরের একসময়কার প্রধান ছিলেন। সেই পরিবারের একজন সদস্য কীভাবে সন্ত্রাসী হতে পারে তাই তাঁর বোধগম্য হচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্কের ওই আত্মীয় আরো বলেন, ‘২০০৯ সালে অর্কের মা মারা যান। এরপর থেকেই সে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়তে শুরু করে। কিন্তু সে যে জঙ্গি হয়ে যেতে পারে তা আমরা কখনো ভাবিনি। সে যা করেছে আমরা তা সমর্থন করি না। আমরা অবশ্যই সন্ত্রাসবাদের নিন্দা জানাই। তবে কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই সেসব ব্যক্তিদের ধরতে হবে যারা অর্কের মতো তরুণদের মগজধোলাই করে সন্ত্রাসবাদের পথে নিয়ে যাচ্ছে।’

ঢাকার কল্যাণপুরে পুলিশ ও সোয়াটের অভিযানে নিহত নয়জনের মধ্যে আটজনেরই পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদের মধ্যে অন্তত তিনজন সমৃদ্ধশালী পরিবারের সন্তান।

এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলাগুলো পর্যবেক্ষণ করে এটা বোঝা যাচ্ছে যে, উচ্চবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত উভয়শ্রেণির তরুণদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে। এর এটাও অর্থ হতে পারে যে, তারা শ্রেণি বৈষম্যের মূলে আঘাত হানছে বলে এর মাধ্যমে বার্তা দিচ্ছে। -এনটিভি

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: