সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ৬ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কল্যাণপুরে এখনো আতঙ্ক, জাহাজ বিল্ডিংয়ে তালা

gg-3নিউজ ডেস্ক : কল্যাণপুরের ৫ নম্বর রোডের জাহাজ বাড়ির আশপাশের বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক কাটেনি। স্কুল পড়–য়া শিশুদের স্কুলে যাওয়া বন্দ রয়েছে। তাজ মঞ্জিল ( জাহাজ বাড়ি)’র গেটে ঝুলছে পুলিশের তালা। মঙ্গলবার রাতেই ওই ভবনের ভাড়াটিয়াকে বের করে দেয়া হয়েছে। একজন সাব ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে ২১ পুলিশ সেখানে নিরাপত্তা দায়িত্বে নিয়োজিত আছে।
জাহাজ বিল্ডিংয়ের দরজার পাশে আরেকটি ভবনের সামনে ভাই ভাই নামে একটি টেইলার্স। এই দোকানটি ঘটনার দিন থেকে বন্ধ রয়েছে। গতকাল দুপুরে দোকান মালিক শান্ত এসে দোকান খোলে। এ সময় পুলিশ কনস্টেবল এসে দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।
শান্ত তখন জবাবে জানায়, এখনতো আর কিছু নেই। এখন কেন দোকান বন্ধ রাখতে হবে। কনস্টেবল ইব্রাহিম কিছুটা রাগান্বিত হয়ে শান্তকে বলেন, দেখেন এটা ওপরের নির্দেশ, সেটা পালন করতে ই হবে। কনস্টেবল চলে যাওয়ার পর শান্তর সাথে কথা হয়, শান্ত বলেন ঘটনার রাতে তার ছোট ভাই প্রকাশ টেইলার্সেই ঘুমিয়ে ছিলেন, রাত সাড়ে ১২ টায় মুহুর্মূহু গুলিও গ্রেনেডের শব্দে এতটাই ভয় পায় যে সে বিছনাতেই প্রশ্রাব করে দেয়।
ওই বাড়ির পাশের ভবনটিতে শিশু কল্যাণ কেজি ইন্টার ন্যাশনাল স্কুলটিও বন্ধ রয়েছে। ঢুকেই দেখা গেল সদর দরজা খোলা থাকলেও ভেতরে কেচি গেট তালাবদ্ধ রয়েছে।
পাশেই নিউ শাহীন ট্রেডার্স নামে একটি ফোন ফ্যাক্স ও শামীম এন্টারপ্রাইজ নামে একটি কনফেকশনারীর দোকানও তালাবদ্ধ। আশপাশে একাধিক বাড়ি থেকে শিশুরা দরজায় উকি দিয়ে আবার ভেতরে চলে যাচ্ছিল এ সময় ৪৭ নম্বর ভবনে ঢুকে শিশুর মা গৃহবধু তাসলিমা খাতুন জানালেন ওইদিন রাত সাড়ে ১২ টা থেকে গুলি ও বোমার শব্দে তারা ঘুমাতে পারেন নি। শিশুরা আতঙ্কিত। তাই জানলা দিয়ে উকি দিয়ে পুলিশ দেখে আর বলে আম্মু পু-লি–শ ।
৪৮/৩ নম্বর ফ্ল্যাটের বাসিন্দা গৃহবধু খালেদা বেগম। স্বামী কাতারে থাকেন তিন ছেলেকে নিয়ে ভবণের ৪ তলায় থাকেন। ঘটনার রাতে তার বড় ছেলে সাদ জানায় আম্মু বাইরে অনেক পুলিশ। এরপর সাড়ে১২ টা থেকে পর্যন্ত গোলাগুলির শব্দ শুনতে পান। তারা রাত আড়াইটা পর্যন্ত গোলাগুলি শুনেছেন। ঘটনা জেনেছেন পরদিন। পরদিন তারা প্রতিবেশীর কাছ থেকে শুনতে পান জাহাজ বিল্ডিংয়ের ৫ তলায় জঙ্গি আস্তানা ছিল পুলিশ ৯ জঙ্গিকে
হত্যা করেছে। খালেদা বলেন, আমার ৫ বছরের শিশু এখনো ভীত সন্ত্রস্ত। ঘটনার পর থেকে তার স্কুলে যাওয়া বন্দ রয়েছে।
পাশেই নিউ মর্ডান নামে একটি ফার্নিচার দোকান খোলা আছে স্বাভাবিক গতিতেই কাজ চলছে। জঙ্গিদের আগে তারা দেখেছে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে কর্মচারী সামসুল আলম বলেন, শুনেছি ওরা এখানে নতুন এসেছে। তিনি আরো বলেন, ওই বাসায় আরো কয়েকটি মেসে বহু ব্যাচেলর থাকে। জঙ্গিরাওতো মানুষের মতই তাদেরে আলাদা করে চেনার কোনো উপায় নেই।
কনস্টেবল ইব্রাহিম বললেন ভাই আমাদের কথাও একটু লিখবেন, কি লিখবো এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, এইযে ডিউটি করছি।
তার বয়স ৫০ এর ওপরে এখনো কনস্টেবল আছেন কনে পরীক্ষা দেননি জীবনে। বললেন এইটাইতো দু:খ আমার ব্যাচমেট এখন মিরপুর জোনের সহকারী কমিশনার। অবশ্য পরিচয় দেইনা স্যার বলি।
তবে উনি পরিচয় দেন – তুই করে বলতে বলেন। এ প্রতিবেদককে হাসিমুখে প্রশ্ন করেন বলেনতো উনাকে এখন তুই করে বলা যায়? পাশে অন্যান্য নবীন কনস্টেবলদের উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, আমার মত ভুল করোনা এখন থেকে সময় মত পরীক্ষা দাও প্রমোশন নাও আজীবন কনস্টেবল থেকোনা।
ঘটনাস্থল দেখতে এসেছেন ঢাকা টোবাকোর ৪ অফিসার।
এরমধ্যে একজন একজন মিরপুর টেরিটোরির। নাম রাশেদুল। প্রতিক্রিয়ার জানালেন, কি হচ্ছে -কেন এমন হচ্ছে। দেশটা কি দিন দিন রসাতলে যাচ্ছে। এর জন্য দায়ীকে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিরা আর সুবিধা করতে পারবে না। মানুষ জেগে উঠেছে- জেগে উঠছে- যদি কোনো রাজনৈতিক দলও জঙ্গিবাদকে পুঁজি করে ফায়দা লুটার চেষ্টা করে মানুষ তাদেরকে বয়কট করবে-ছুড়ে ফেলে দিবে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: