সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিএনপির সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে বরফ গলেনি

modi-khaleda-550x309নিউজ ডেস্ক : জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করতে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বুধবার বৈঠক করেছে বিএনপি। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না ভারতের কোন প্রতিনিধি। এর আগে ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারি পৌর নির্বাচনের অনিয়ম তুলে ধরতে কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি নেতারা। তখনও ভারতের কান প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তবে ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে ১২টি দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে যে বৈঠক করেছিল বিএনপি তাতে ভারতের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছিলন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপির ভারত নীতিতে অতীতের অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে। ২০১২ সালে ৭ নভেম্বর ভারত সফর শেষে সাংবাদিকদের বেগম জিয়া বলেন, সমতার নীতিতে ভারত-বাংলাদেশ সমস্যার সমাধান চায় বিএনপি। এই সফরের কারণে বিএনপি’র ভারত নীতিতে কোনো পরির্তন আসবে না।
এরই প্রেক্ষাপটে ভারতে সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক মজবুত করতে দিল্লিতে অবস্থান করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ। ২৬ জুন তিনি ভারতের একটি পত্রিকায় সাক্ষাতকারে বলেছেন, বিএনপি যদি আবার বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসে তবে এই ভূখন্ডে ভারত বিরোধী কোনো কর্মকা- অনুমোদন করবে না। ভারতের সঙ্গে করা আওয়ামী লীগ সরকারের সব চুক্তি বিএনপি সমর্থন করবে। একই সঙ্গে যে চুক্তিগুলো বাকি আছে সবগুলো চালিয়ে নেওয়া হবে। এরপরও ভারত আশ্বস্ত হতে পারেন নি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে বুধবার এ বৈঠকে
প্রায় ঘণ্টাব্যাপী কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপির নেতারা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকে বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, স্পেন, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, সৌদি আরব, পাকিস্তান, নেপাল, সিঙ্গাপুর ও জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার সহ অন্তত ২২টি দেশের কূটনীতিক অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কূটনীতিকদের তিনটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে অবহিত করেছে বিএনপি।
বিএনপি নেতারা গুলশানের হলি আর্টিজান ক্যাফে ও শোলাকিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলার বিষয়ে দলের অবস্থান কূটনীতিকদের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছেন। জঙ্গিবাদ দমনে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তাসহ এ ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রস্তাবের ব্যাপারে আলোচনা করেছেন। জঙ্গিবাদ দমনে খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্যের প্রস্তাবকে কূটনীতিকরা ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বৈঠকে উপস্থিত একজন বিএনপি নেতা জানান, মূলত সাম্প্রতিক সময়ে দেশের জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী হামলা, খালাস পাওয়া মামলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাজার রায় ঘোষণাসহ বিএনপির নেতাদের মামলায় হয়রানি করাসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ে বিএনপির বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
তবে বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের কোনো ব্রিফ করা হয়নি। বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা আলমগীর বলেন, রুটিন ওয়ার্কের অংশ হিসেবে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে এ বৈঠক হয়েছে। ভারত বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের সঙ্গে থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে বিএনপি। জঙ্গি দমনে সরকারের সাঁড়াশি অভিযানের পক্ষে ভারতের সমর্থন দেয়ার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০ জুন একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে- আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন যে, বাংলাদেশের সরকার সঠিক কাজটি করছে, তারা জঙ্গি দমনে সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, ভারত আমাদের শুধু প্রতিবেশী নয়, অকৃত্রিম বন্ধু। তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিকভাবে এদেশের জনগণের প্রত্যাশা সকল গণতান্ত্রিক দেশ যারা গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াই-সংগ্রাম করছে তাদের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করবে। আমরা সব সময় প্রত্যাশা করবো, ভারত বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের সঙ্গেই থাকবে। তারা এমন কোন শক্তি বা সরকারকে প্রশ্রয় দেবে না, সহযোগিতা করবে না, যারা জনগণের ওপর জোর করে চেপে বসে রয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সে দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ২৪ জুন প্রেসক্লাব একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর মমতা ব্যানার্জি শেখ হাসিনাকে বললেন, দিদি আমরা আপনার পাশে আছি। এটা আমরাও (বিএনপি) জানি আপনারা তার পাশে আছেন। কারণ আপনারা যদি তার পাশে না থাকেন তাহলে তার তো আর কোনো ঠিকানা নেই। বাংলাদেশেও হবে না। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে বাংলাদেশের জনগণ ও গণতন্ত্রের সঙ্গে নরেন্দ্র বাবু নাই।
সম্প্রতি বাংলাদেশে বিদেশিদের টার্গেট করে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা হামলা চালাচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতা মওদুদ আহমদ। দিল্লি সফররত মওদুদ আহমদ ২৬ জুন ইকোনোমিক টাইমসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান। সাক্ষাতকারে মওদুদ আহমেদ এককভাবে আওয়ামী লীগকে সমর্থন না করতে ভারতের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। বিএনপির শীর্ষ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চায়। ভারত বিরোধী কর্মকা- সমর্থন করেন না বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। গণতন্ত্রের অনুপস্থিতির জন্যই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে বিএনপি মনে করে। গণতন্ত্র না থাকায় সন্ত্রাসী কর্মকা-ের উপদ্রপ বেড়েছে দেশে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মকা-ের শূন্যতার কারণেই সন্ত্রাসের জন্ম হচ্ছে। বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের অভাব রয়েছে। বাংলাদেশে জবাবদিহী সরকারের জন্য একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজন। অবাক হওয়ার মতো বিষয় বর্তমান সরকার সন্ত্রাসবাদ রোধ করতে সফল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছে না।
মওদুদ আহমদ আরো বলেন, ২০০১ সালে আমরা জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে শুধুমাত্র নির্বাচনী জোট করি। জামায়াতে ইসলামের আদর্শের সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শের অনেক অমিল রয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক আদর্শ সম্পূর্ণ আলাদা ও স্বতন্ত্র। ওই জোটটি ছিল কৌশলগত জোট। আর জোটটি নির্ভর করে পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপর। আগামী নির্বাচনে আমরা অন্য কারো সঙ্গে জোট করতে পারি।
আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকে যা বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এধরনের আস্থায় অভাব হতে পারে? এ প্রশ্নে জবাবে মওদুদ আহমেদ বলেন, ভারতের নীতি একচোখা। আমাদের নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সর্বশেষ দিল্লি সফরে ভারতকে নিশ্চয়তা দিয়ে বলেছিলেন বিএনপি যে কোনো সন্ত্রাসের বিরোধী।
বিএনপি যদি আবার বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসে তবে এই ভূখন্ডে ভারত বিরোধী কোনো কর্মকা- অনুমোদন করবে না। ভারতের সঙ্গে করা আওয়ামী লীগ সরকারের সব চুক্তি বিএনপি সমর্থন করবে। একই সঙ্গে যে চুক্তিগুলো বাকি আছে সবগুলো চালিয়ে নেওয়া হবে। বিগত সরকারের করা চুক্তি চলমান রাখার আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রতিবেশি দেশ ভারত। একজন স্বামী বা স্ত্রী পরিবর্তন করা যায় তবে প্রতিবেশি পরিবর্তন করা যায় না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলা ও ব্লগার হত্যার পেছনে আইএস জড়িত কি না ব্যক্তিগতভাবে আমার জানা নেই। তবে আামি জেএমবি, হুজি ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমকে সন্দেহ করছি। যেহেতু বাংলাদেশে আইএস দৃশ্যমান নয় তাই তা বলা মুশকিল। স্থানীয় সন্ত্রাসীরাই হামলা করছে বলে আমি মনে করি। তবে স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসীর আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজস থাকতে পারে।-আমাদের সময়.কম

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: