সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

প্রেমিকের পরিকল্পনায় দুই সন্তানকে খুন করেন নাসরিন

love20160728145612নিউজ ডেস্ক::
নিজের ভাগ্নি জামাইয়ের সঙ্গে স্ত্রীর পরকীয়া মেনে নিতে পারেনি স্বামী জিয়াউর রহমান। সে কারণে নিজ বাড়ি থেকে ভাগ্নি জামাই কেরু মানিককে বের করে দেয়া হয়। কিন্তু অবৈধ সে সম্পর্ক থেমে থাকে নি। একইভাবে সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে ছেলের চোখেও ধরা পড়েন মা নাসরিন। এরপর সন্তানকে খুন করার পরিকল্পনা করেন তিনি। প্রেমিক কেরু মানিকের পরিকল্পনায় খুন করেন নিজের দুই সন্তান ও ভাগ্নেকে।

ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর এ তথ্য পেয়েছে র‌্যাব। র‌্যাব-৪ দীর্ঘ সময়ের নিবিড় তদন্তকালে নাসরিন ও কেরু মানিক আটকের পর বেড়িয়ে আসে ট্রিপল মার্ডারের নেপথ্যের কারণ মায়ের অবৈধ সম্পর্ক। তাও আবার ভাগ্নি জামাইয়ের সঙ্গে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মিরপুরের পাইকপাড়াস্থ র‌্যাব-৪ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য তুলে ধরেন, র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) লুৎফুল কবীর।

সাভারের হেমায়েতপুরে প্রান্ত ডেইরি ফার্ম-২ এর কেয়ারটেকার মো. জিয়াউর রহমান ও স্ত্রী নাসরিন (২৮) তাদের দুই সন্তান জীবন (১৮), নাসির (১৭) ও ভাগ্নে শাহাদাত (১৯) কে নিয়ে ফার্মের ভেতরে থাকতেন। গত ১৪ মে সকাল বেলা ঘুম থেকে না উঠায় দরজা খুলে দেখা যায় জীবন, নাসির ও ভাগ্নে শাহাদাত মারা গেছে।

ওই ঘটনায় সাভার থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়। মৃত্যুর কারণ নিয়ে দেখা দেয় রহস্য। ওই ঘটনায় র‌্যাব-৪ ছায়া তদন্ত শুরু করে।

র‌্যাব-৪ অধিনায়ক (সিও) লুৎফুল কবীর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ২৭ তারিখে সন্দেহজনকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জিয়াউর রহমানের স্ত্রী নাসরিনকে র‌্যাব-৪ এর নবীনগর ক্যাম্পে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে নাসরিন ঘটনার সব কিছু খুলে বলেন। ভাগ্নি জামাই কেরু মানিকের সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্কের কথা জানায় নাসরিন। কেরু মানিকের পরিবার ও জিয়াউর রহমান একই সঙ্গে থাকতেন। অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি কেরু মানিককে বাসা থেকে বের করে দেন। কেরু মানিক চলে আসে মিরপুরে। কিন্তু তাদের সেই অবৈধ সম্পর্ক অব্যাহত থাকে।

পরবর্তীতে কেরু মানিকের সঙ্গে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক চলাকালে নিজের ছেলের চোখে হাতেনাতে ধরা পড়েন নাসরিন। আবারো কেরু মানিককে শাসিয়ে ঘর থেকে বের করে দেয়া হয়।

এরপর থেকে প্রেমিক কেরু মানিককে নিয়ে নিজ সন্তানদের হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকেন। খুনের ঘটনার তিন মাস আগে বিষ পানে হত্যা করে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পরিকল্পনা করেন।

যথারীতি গত ১৩ তারিখ রাতে কেরু মানিক মেয়ের বিয়েতে হেমায়েতপুরে যায়। সেখানে মধ্য রাতে জিয়াউর রহমানের বাসায় খাবার খাওয়ার কথা বলে যায়। রাতে নিজে খাবার খায়। বাকি কিছু খাবারে বিষ মিষিয়ে জিয়াউর রহমানের দুই ছেলে জীবন ও নাসির এবং ভাগ্নে শাহাদাতকে খাওয়ানো হয়। সকালে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

নাসরিনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কেরু মানিককে মিরপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। কেরু মানিক ও নাসরিন জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। আদালতে নাসরিন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। ওই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সাভার থানায় গতরাতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

র‌্যাব-৪ অধিনায়ক (সিও) বলেন, আমাদের মধ্যেকার বৈধ সম্পর্কগুলো খারাপ হচ্ছে। সম্পর্কগুলো অটুট রাখার ক্ষেত্রে সামাজিকভাবে সবাইকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: