সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ৫ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বড়লেখায় ধর্ষণের শিকার তরুণী এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেল

2. daily sylhet dhorshonবড়লেখা প্রতিনিধি::
মৌলভীবজারের বড়লেখায় পাশবিকতার শিকার মেয়েটি ৭দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মারা গেছে। ঘটনার ৭ দিন পর সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়েটি মারা যায়। এ ঘটনায় ওইদিন রাতে ধর্ষিতার পিতা বাদী হয়ে ঘটনাকারী দুই পাষণ্ড উপজেলার কুমারশাইল গ্রামের জহির আলীর ছেলে নিজাম উদ্দিন (৩৫) ও বিছরাবাজার গ্রামের গুজা মিয়ার ছেলে আমির উদ্দিনের (২৫) বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। কিন্তু এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

সূত্র জানায়, উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কুমারশাইল গ্রামের জনৈক কিশোরীর (১৭) সাথে সদর ইউনিয়নের বিছরাবাজার গ্রামের (বর্তমানে কুমারশাইল গ্রামে বসবাসরত) আমির উদ্দিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। গত ১৭ জুলাই রাত ১২টার দিকে প্রেমিক আমির উদ্দিন প্রেমিকাকে বিয়ের প্রলোভনে নিজ বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায়। এরপর স্থানীয় চা বাগানের হুঙ্গালাটিলায় জোরপূর্বক রাতভর তাকে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে গ্রামের নিজাম উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে আমিরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে তাড়িয়ে সেও ধর্ষণ করে। ভোররাতে সে মেয়েটিকে বেরেঙ্গা চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোর উত্তর পাশে ফেলে যায়।

এদিকে নিজাম কর্তৃক আমিরকে তাড়িয়ে দেয়ার পর প্রেমিক আমির মেয়েটির পিতার মোবাইল ফোনে হুঙ্গালাটিলা থেকে মেয়েকে উদ্ধারের জন্য বলে। অপরিচিত নম্বর থেকে কল পেয়ে মেয়েটির পিতা তার ছেলেকে নিয়ে মেয়ের খোঁজে বের হন। কোথায়ও না পেয়ে তারা বাড়ি ফিরে যায়। এরপর অন্য মাধ্যমে খবর পেয়ে ১৮ জুলাই সকালে পরিবারের লোকজন বেরেঙ্গা চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোর উত্তর পাশ থেকে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় কিশোরীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সে চিকিৎসার ভর্তি করেন। তখন লোকলজ্জার ভয়ে মেয়েটির পিতা ডাক্তারকে ধর্ষণের ঘটনাটি চাপা রাখেন। ২৩ জুলাই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মেয়েটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্স ও পরে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৫ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়েটি সেখানে মারা যায়। সোমবার (২৫ জুলাই) লাশটি উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ। ময়না তদন্ত শেষে রাতে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। সোমবার রাত ১২টায় জানাযা শেষে তার লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

কিশোরীর পিতা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আমি গরিব মানুষ, টাকার অভাবে মেয়ের চিকিৎসা করাতে পারিনি। মান-সম্মানের চিন্তা করে স্থানীয় মেম্বার ছাড়া কাউকে প্রথমে ঘটনা জানাইনি। আমি এতো অসহায় যে, একদিন কাজ বন্ধ করলে পরিবার দু’দিন উপোস থাকে। আমি মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই। আমার মতো আর কোনো বাবাকে যেনো এভাবে মেয়ের লাশ দেখতে না হয়।
এ বিষয়ে বড়লেখা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। ২জনকে আসামী করে থানায় মামলা হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: