সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘হুঁশিয়ার সাবধান, সবাই সাবধানে ঘুমান’

1469552666শ্রীমঙ্গল সংবাদদাতা: ‘হুঁশিয়ার সাবধান, সবাই সাবধানে ঘুমান’হুঁশিয়ার সাবধান, সবাই সাবধানে ঘুমান, হুঁশিয়ার সাবধান … রাতের বেলা গ্রামের সবাই যখন নিন্দ্রায় আছন্ন ঠিক তখনই এমনি হাক-ডাক শোরচিৎকার চেঁচামিচি নিয়েই রাতের পাহারায় ব্যস্ত থাকেন একদল গ্রামবাসী।
অন্যের উপর ভরসা না করে প্রতি পরিবার থেকে একজন পরে পালাক্রমে পুরো গ্রামবাসী নিজেরাই রাতের বেলা হাতে লাঠি আর টর্চ লাইট নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে নিজেদের গ্রাম পাহারায়।
আর তেমনি একটি গ্রাম শ্রীমঙ্গল উপজেলার রামনগর মনিপুরি পাড়া। হিন্দু -মুসলিম খ্রিস্টানের প্রায় ১৬০টি পরিবার এই গ্রামে বাস করে। মনিপুরিদের তাতেঁর কাপড়, এবং সাত রঙের চা খেতে প্রতিদিনই এই গ্রামে দেশি বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা সব সময় লেগেই আছে।
রাতে চোরের উপদ্রব কিংবা ডাকাতের ভয়ে গ্রামবাসীর নিজেদের উদ্যোগে রাতে পাহারা বসিয়েছে। যাতে রাতে গ্রামের মানুষ নির্ভয়ে শান্তিতে ঘুমাতে পারেন।
উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের রামনগর গ্রামবাসীরমতো এরকম পাহারা উপজেলার অনেক গ্রামেই শুরু হয়েছে গ্রামবাসীদের নিজ উদ্যোগে গ্রাম পাহারা।
রামনগর মনিপুরি পাড়ায় রাতের বেলা সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাতে লাঠি, বল্লম, ছাতি, বাঁশি, টর্চলাইট নিয়ে ৮ জনের একটি দল গ্রাম পাহারা দিচ্ছে।
কথা হয় রামনগর মনিপুরী পাড়া কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি মো. শহীদ মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানালেন, প্রতি রাতে তিনি গ্রাম পাহারায় অংশ নেন। প্রতি মাসে গ্রামের প্রতিটি বাড়ি থেকে ১ দিন বা ২ দিন পাহারায় থাকতে হয়।
রাত ১২ টায় সকলে এসে উপস্থিতি খাতায় স্বাক্ষর করেন। পাহারা চলে ভোর ৪টা পর্যন্ত। দুই ভাগে ভাগ হয়ে গ্রামের দুই দিকে পাহারা বসানো হয়।
প্রতি রাতেই পেট্রল ডিউটিতে আসা থানা পুলিশ এসে স্বাক্ষর খাতা চেক করে স্বাক্ষর করে পাহারাদারদের নানা দিক নির্দেশনা ও তাদের কাজে উৎসাহ দিয়ে যান।
রামনগর মনিপুরী পাড়া কমিনিউটি পুলিশিং এর সহ-সভাপতি হিরন্ময় সিংহ , সাধারণ সম্পাদক অজিত সিংহ, কোষাধ্যক্ষ বিপুল সিংহ, দফতর সম্পাদক রাজু রাম গৌড়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক সময় সকাল হলেই চুরি ডাকাতির খবর নিয়ে ঘুম ভাঙত।
এখন এই গ্রাম পাহারার ফলে গ্রামে এখন আর চোর ডাকাতের ভয় নেই। সবাই নির্ভয়ে ঘুমাতে পারে।
গ্রাম পাহারার এই উদ্যোগটি নেয়ায় ও সহযোগিতার জন্য শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং গ্রামের চেয়ারম্যান রনেন্দ্র প্রসাদ বর্ধন ও গ্রামের মেম্বার (ইউপি সদস্য) মো. আরজু মিয়ার প্রতি তারা কৃতজ্ঞতাও জানান।
এদিকে শ্রীমঙ্গল থানাও গ্রামের এই পাহারা ব্যবস্থায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এই পাহারা দিতে সাহায্যের ব্যপারে ছাতা, বাঁশি, টর্চ লাইট তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন।
শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ জানায়, উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের ৬টি গ্রাম, মির্জাপুর ইউনিয়নের ৫টি গ্রাম, শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নে ৪টি গ্রাম, কালাপুর ইউনিয়নে ৪টি গ্রাম, ভূনবীর ইউনিয়নের ৩টি গ্রাম, রাজঘাট ইউনিয়নের ৩টি গ্রাম ও সিন্দুরখান ইউনিয়নের বাজারসহ ২টি গ্রামে গ্রামবাসীর নিজ উদ্যোগে রাত জেগে পাহারা বসানো হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম ইদ্রিস আলী বলেন, গ্রামবাসীদের এই পাহারা একটি ভালো উদ্যোগ। এভাবে যদি উপজেলার সব গ্রামে নিজেদের উদ্যোগে এরকম পাহারার ব্যবস্থা করা হয় তাহলে এলাকার চুরি ডাকাতি অনেকাংশে কমে যাবে।
এ প্রসঙ্গে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, উপজেলায় মোট ২২৮টি গ্রাম রয়েছে। এর মধ্যে কমিউনিটি পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ৫০টিরও অধিক গ্রামে গ্রামবাসীদের সঙ্গে উঠান বৈঠক করেছি। এরপর চলতি বছরের ১৯ মে থেকে গ্রামে পাহারা চলছে জোরদার ভাবে এই সময়ের ভিতর কোন রকম চুরি ডাকাতি ঘটনা ঘটেনি।
তিনি বলেন পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রামবাসীদের পাহারার ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। আমার সহযোগিতা অব্যাহত রাখবো। প্রয়োজনে পাহারাদের সুবিধার্থে পোশাকের ব্যবস্থা করে দেব।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: