সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ১০ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিরাজগঞ্জে চার নারী ‘জঙ্গি’ গ্রেপ্তার : ব্যবসায়ী পরিচয়ে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল তারা

downloadনিউজ ডেস্ক: সিরাজগঞ্জে গ্রেপ্তার করা সন্দেহভাজন চার নারী জঙ্গিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই চারজন নারীকে পৌরসভার মাসুমপুর উত্তরপাড়া এলাকার একটি টিনশেড বাড়ি থেকে আটক করা হয়। পুলিশ বলেছে, বাড়িওয়ালার স্বজনরা জানিয়েছে, কাপড় ব্যবসায়ী পরিচয়ে বগুড়ার শিবগঞ্জের এক ব্যক্তি বাড়িটি বাড়া নেয়। তবে সেই বাড়িতে তারা দুজন পুরুষ ও দুজন নারীকে থাকতে দেখেছে।

মাসুমপুর উত্তরপাড়ার হুকুম আলীর টিনশেড বাড়িটি তিন কক্ষের। মাসিক পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়েছিল বাবুল শেখ নামের এক ব্যক্তি। সে নিজেকে বগুড়ার শিবগঞ্জের বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে বলেছিল, সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে সে কাপড়ের ব্যবসা করে। বাড়িওয়ালা হুকুম আলীর মেয়ে ডলি বেগম পুলিশকে এ তথ্য জানিয়েছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ বলেছেন, তাঁরা এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করছেন।

গত রবিবার ভোরের দিকে নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য সন্দেহে এই চার নারীকে আটক করা হয়। তারা হলো গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পার্বতীপুর গ্রামের মাহবুবুর রহমানের স্ত্রী নাদিরা তাবাসুম রানী (৩০), একই এলাকার বোচাদহ দক্ষিণপাড়া গ্রামের মামরুল ইসলাম সরদারের স্ত্রী রুনা বেগম (১৯), বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খালিদ হাসানের স্ত্রী হাবিবা আকতার মিশু (১৮) ও একই উপজেলার পড়ানবাড়িয়া গ্রামের সুজন আহমদ বিজয়ের স্ত্র্ত্রী রুমানা আকতার রুমা (২১)। তাদের কাছ থেকে ছয়টি হাতবোমা, গ্রেনেডের চারটি খোল, ৯টি জিহাদবিষয়ক বই, ডেটোনেটর, বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে ডিবি।

চারজনের মধ্যে নাদিরা তাবাসুম রানী সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার বাদুল্লাপুর গ্রামের মৃত সুজাবত আলীর মেয়ে। দুই ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে নাদিরা সবার ছোট। তার বড় ভাই নজরুল ইসলামের (৫৫) সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছয় বছর আগে মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে নাদিরার বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। মাহবুব কবিরাজি করে বলে বিয়ের সময় নাদিরার পরিবারকে জানিয়েছিল।

নজরুল বলেন, বিয়ের পর থেকে নাদিরার সঙ্গে স্বামীর সুসম্পর্ক ছিল না। বেশির ভাগ সময়ই তার স্বামী বাড়ির বাইরে অবস্থান করত। স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ করত না বলে নাদিরা প্রায়ই অভিযোগ করত। একাধিকবার এ ব্যাপারে নাদিরার স্বামীর সঙ্গে তাঁরা কথা বললেও কোনো লাভ হয়নি। ভালো উপার্জন হয়—এমন কাজের কথা বললেও মাহবুব আগ্রহ দেখাত না। ঢাকায় কোথায় কবিরাজি করে তা জানতে চাইলেও বলত না।

নজরুল জানান, হঠাৎ করে এক বছর ধরে নাদিরার সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় নাদিরা ও তার স্বামী কোথায় অবস্থান করছিল সেটা তাঁরা জানেন না। এ সময়ের মধ্যেই হয়তো নাদিরাকে তার স্বামী প্রভাবিত করে জেএমবিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে বলে মনে করেন নজরুল। তিনি বলেন, ‘আমি গত রবিবার টিভিতে খবরটি দেখে জানতে পারি, নাদিরা জেএমবি সদস্য। জানতে পারি তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে।’

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নাদিরার স্বামী মাহবুবুর রহমান আগে থেকেই এ ধরনের উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল। যে কারণেই স্বামীর দ্বারা প্রবাবিত হয়ে নাদিরা জেএমবিতে যোগ দিয়ে থাকতে পারে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চার নারীর স্বামীর হদিস পাওয়া যায়নি। তাদের স্বজনদের কেউ কেউ গা ঢাকা দিয়েছে।

তবে বাড়িওয়ালা হুকুম আলীর মেয়ে ডলি বেগম জানান, বাবুল শেখ নামের যে ব্যক্তি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল সে প্রায়ই বাড়িতে কাপড়ের বান্ডিল নিয়ে আসত। সন্দেহজনক তেমন কোনো আচরণও তাঁর চোখে পড়েনি।

হুকুম আলীর স্ত্রী জহুরা বেগম জানান, তিনি গোশালা এলাকার বাসায় থাকেন। বাড়ি ভাড়া দেওয়ার পর তিনি একবার এসেছিলেন ভাড়ার টাকা নিতে। তখন বাড়িতে দুজন নারী ও দুজন পুরুষ থাকত। তারা একজনের নাম বাবুল শেখ বলে পরিচয় দিয়েছে। এই ব্যক্তির সঙ্গেই তাঁর কথা হয়েছে। অন্য পুরুষটি সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।

পুলিশ বলছে, আটক চার নারীর কারোরই স্বামী বা বাবার নাম বাবুল শেখ নয়। অথচ এই বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে চারজন অবস্থান করে আসছিল।-কালেরকন্ঠ

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: