সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

চলচ্চিত্র সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে হোক : আমজাদ হোসেন

photo-1469523317নিউজ ডেস্ক: চলচ্চিত্র বিনিময়ের নামে কলকাতার ছবি দেশের বাজারে মুক্তির বিরোধিতায় একজোট হয়েছেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও নাট্যশিল্পীরা। গতকাল সোমবার বিকেল ৫টায় বিএফডিসির পরিচালক সমিতিতে এক মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশের সংস্কৃতি বাঁচাতে একজোট হয়ে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে নাট্য নির্মাতাদের প্রতিষ্ঠান ডিরেক্টর্স গিল্ডের সভাপতি গাজী রাকায়েত, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতা ঝুনা চৌধুরী, মামুনুর রশীদ, প্রযোজক নেতা খোরশেদ আলম খসরু, আমজাদ হোসেনসহ এফডিসির সব সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের খ্যাতিমান পরিচালক ও লেখক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এখন সময় এসেছে একতাবদ্ধ হওয়ার। চলচ্চিত্র যদি একটা বৃত্ত হয়, তাহলে নাটক-সংগীত-নৃত্য হচ্ছে তার একেকটি শাখা। এখানে আমাদের চলচ্চিত্র ধ্বংস হয়ে যদি অন্য কালচারের চলচ্চিত্র প্রবেশ করে, তবে আমাদের সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে যাবে। আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে আমাদের চলচ্চিত্র তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে। তারা অনেক দুর্বল, কোনো কিছু জানার আগেই তারা কলকাতাওয়ালাদের সব অনুমতি দিয়ে দিচ্ছে। এখন আমাদের এক অসম প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দিচ্ছে। অসম কারণ আমাদের চলচ্চিত্র হঠাৎ করেই ডিজিটাল হয়ে গেছে। কোনো টেকনিক্যাল সাপোর্ট নেই, এমনকি সেন্সর বোর্ডে ছবি যে সেন্সর করে, সেখানে ডিজিটাল প্রজেক্টর নেই। এভাবেই তারা ছবি সেন্সর দিচ্ছে, জাতীয় পুরস্কার পর্যন্ত দিচ্ছে। যেখানে ভালোভাবে ছবি দেখার কিছু নেই, তাই দেখে তারা বিচার করছে ভালোমন্দ। তথ্য মন্ত্রণালয় চলচ্চিত্র তার অধীনে রাখার যোগ্যতা রাখে না। আমরা অনেক দিন ধরেই বলছি আমাদেরকে, চলচ্চিত্রকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালনা করা হোক। শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, এফডিসিসহ আমরা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকতে চাই। কারণ, আমরা বাংলাদেশের সংস্কৃতির চর্চা করছি, এটা রক্ষা করা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাজ। সেটি তথ্য মন্ত্রণালয় রক্ষা করতে কখনো পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না।

ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি গাজী রাকায়েত বলেন, “কেলোর কীর্তি’ নামের যে ছবিটি এখন মুক্তি পেতে যাচ্ছে সেটি আমাদের সংস্কৃতি ধ্বংস করবে। আমি যা শুনেছি ছবিটি অশ্লীল কথায় ভরপুর, এক দৃশ্যের মধ্যে এমন কিছু আছে যা বাংলাদেশের ছবি হলে কখনোই ছাড় পেত না। এই ছবিটি উদাহরণ মাত্র। তাদের কালচার আর আমাদের কালচার এক নয়। এমন ছবি যদি দেশে প্রবেশ করে, তা হলে সবই শেষ হয়ে যাবে। এরই মধ্যে আমাদের টেলিভিশন দর্শক তারা দখল করেছে, চলচ্চিত্র দখল করার চেষ্টা হচ্ছে। আমাদের সংস্কৃতি রক্ষায় এক হয়ে মাঠে থাকব।’

নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, ‘প্রয়োজনে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে হবে। নায়ক রাজ্জাক, আলমগীরসহ সব সিনিয়রদের নিয়ে মাঠে নামতে হবে।’

এর আগে ভারতীয় ছবি এ দেশে মুক্তির বিরোধিতা করে গত ২০ জুলাই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) সব সংগঠন মানববন্ধন করে। সম্প্রতি ‘কেলোর কীর্তি’ ছবির মুক্তিকে কেন্দ্র করেই সরব হয়ে উঠেছে বিএফডিসির সংগঠনগুলো। তবে আগেও ভারতীয় ছবি বাংলাদেশে মুক্তির বিরোধিতা করেছিল বিএফডিসি-ভিত্তিক চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সংগঠন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: