সর্বশেষ আপডেট : ৫৬ মিনিট ২০ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জঙ্গিবাদের দীক্ষা মসজিদ থেকে কারাগারে

banani_mosque-550x310নিউজ ডেস্ক : ১০ম শ্রেণিতে পড়ার মোহাম্মদ ওমরের জীবন ছিল খুবই সহজ সরল। খুব অল্প বয়স থেকেই তিনি ছিলেন ধার্মিক। উত্তরায় তার বাসার পাশের মসজিদে তিনি প্রতিদিন নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন। কিন্তু একজন বয়স্ক মানুষের সাথে পরিচয়ের পর থেকেই তার মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
নামাজ আদায়ের জন্য বয়স্ক ব্যক্তিটি অন্যান্য মানুষ থেকে বেশি সময় মসজিদে কাটাতেন। তিনি নিজেকে ওমরের সাথে পরিচয় করান। প্রাথমিকভাবে তিনি ওমরকে ইসলাম সম্পর্কে ধারণা দেয়া শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে তারা একে অপরের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন।
তারপর হঠাৎ একদিন সেই লোকটি জিহাদ সম্পর্কে কথা বলা শুরু করেন। ২০০৫ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত প্রায় একবছর লোকটি ওমরকে চরমভাবাপন্ন চিন্তা ভাবনায় প্রভাবিত করেন।
ওমর ইসলামের জন্য নিজের জীবন দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে পড়েন। তিনি যে ধর্মের অপব্যাখ্যা শিখছেন সে ব্যাপারে তাকে সতর্ক করার কেউ ছিল না।
তিনি জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞে পরিণত হন। ২০১৪ সালের ২৫ অক্টোবর তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
ফয়জুল এবং রবি ছদ্মনামে তাকে বোমা তৈরির ল্যাবরেটরির দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তার গ্রেফতারের মাধ্যমে কারখানাটি আবিষ্কৃত হয়।
সে সময় ডিবি পুলিশ মো. রফিক আহমেদ ওরফে ইলিয়াস, নাঈম আহমেদ ওরফে সুমন এবং সালাহইদ্দিনকে রাজধানীর উত্তরা, টিকাটুলি এবং নারায়ণগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
তবে ওমর বর্তমানে জেলে রয়েছেন নাকি জামিনে রয়েছেন সে ব্যাপারে কিছু জানে না পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার(মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, আমরা তাকে গ্রেফতারকরেছি তবে তিনি জেলে রয়েছেন নাকি জামিনে সে ব্যাপারে আমাকে নিশ্চিত হতে হবে।
তৎকালীন সময়ে রসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পাশ ওমর নিজেই বর্ণনা করেন কীভাবে তিনি জঙ্গিতে রূপান্তরিত হয়েছেন।
ওমর বলেন, মসজিদে আমি কুরআন এবং হাদিসের জিহাদ সম্পর্কিত আয়াতগুলো সম্পর্কে জানতে পারি। ফলে আমি ইসলামের জন্য জীবন দানে প্রস্তুত হয়ে যাই।
ওমরের মধ্যে জঙ্গিবাদের এই বীজ যে ব্যক্তি বপন করেছেন আর কেউ নন, তিনি হরকাতুল জিহাদের শীর্ষস্থানীয় নেতা মাওলানা আবু জায়েদ ওরফে ড. জাফর।
পরবর্তী তদন্তে জানা যায়, ড. জাফর এবং হরকাতুল জিহাদের আরেক নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের র‌্যালিতে এবং ২০০১ সালে রমনা বটমূলে নববর্ষের অনুষ্ঠানে বোমা বিস্ফোরণের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন।।
২০০৬ সালে গ্রেফতার হওয়ার আগ পর্যন্ত ওমরকে ব্রেইনওয়াশড করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন ড. জাফর। এরপরও জাফরের সঙ্গ থেকে দূরে রাখা যায়নি ওমরকে। কাশিমপুর কারাগারে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে জাফরের সাথে দেখা করতেন ওমর।
জেলখানায় দেখা করতে গেলে কোন অসুবিধার সম্মুখিন হতেন কি না সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে ওমর হাসি দিয়ে বলেছিলন, এটা কঠিন কোন বিষয় নয়। জেল কর্মকর্তাদের ৫০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা ঘুষ দিলেই তারা যে কারো সাথে দেখা করতে দিতো।
জাফরকে জেলখানায় ফোনও করতেন বলে জানিয়েছিলেন ওমর। কীভাবে জানতে চাওয়া হলে তিনি আবার হাসি দিয়ে বলেন, টাকা দিলে নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের ফোন ব্যবহার করতে দিতো।-আমাদের সময় অনলাইন
তিনি বলেন, তবে সব সময় টাকার জন্য এমন করতো সেটি নয়। এমনও হতে পারে হয়তো কিছু জেল কর্মকর্তাও জাফরের সংস্পর্শে জঙ্গিবাদের আদর্শে বিশ্বাস করতেন।-আমাদের সময় অনলাইন

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: