সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

প্রেমে বাধা দেয়ায় বৃদ্ধা মাকে জবাই করে খুন

148088_1নিউজ ডেস্ক: চট্টগামের ফটিকছড়ির ভুজপুর এলাকার মতিননগরে ১৩ জুলাই সংঘটিত বৃদ্ধা জয়নব বিবির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। নিহতের পুত্র মোহাম্মদ আলী (১৮) সোমবার মাকে হত্যা করার দায় স্বীকার করে।

রবিবার রাতে সে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মোহাম্মদ আলী জানায়, ‘প্রেমে বাধা দেয়ার কারণে সে ও তার খালু হোসেনসহ তিনজনে মিলে বৃদ্ধা মা জয়নাব বিবিকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করেছে।’

ভুজপুর থানা পুলিশ বলছে, ১৩ জুলাই গভীর রাতে ভুজপুর থানার বাগানবাজার ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম মতিননগরে জয়নাব বিবি (৫৫) কে কুপিয়ে ও জবাই করে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহতের পুত্র জালাল হোসেন বাদি হয়ে ভুজপুরে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর-৭, তারিখ- ১৪/৭/১৬। হত্যার রহস্য উদঘাটন ও খুনীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ নানা কৌশল গ্রহণ করে।

প্রকাশ্যে ও গোপনে চলে তদন্ত কার্যক্রম। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত রবিবার রাতে মতিন নগর গ্রামের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় নিহতের ছেলে মোহাম্মদ আলীকে। থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করে সে।

সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট হোসেন মো: রেজা’র আদালতে গ্রেপ্তার হওয়া মোহাম্মদ আলী তার মাকে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।

ভুজপুর থানার উপ পরিদর্শক মো: হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মোহাম্মদ আলী আদালতকে জানায়, তার খালু হোসেনের সাথে স্বামী পরিত্যক্তা খালা কমলা বিবির সাথে অবৈধ সম্পর্ক ছিল। বোনের এ অবৈধ সম্পর্কে বাধা দেন তার মা। এছাড়া তার বড় ভাই জালাল হোসেনের শ্যালিকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তার নিজের। সে তাকে বিয়ে করতে চাইলে মা রাজী না হয়ে উল্টো তাদের প্রেমে বাধা দেয়। এ অবস্থায় প্রেমের পথে মায়ের বাধা চিরতরে দূর করতে খালু হোসেন ও সে নিজে সিদ্ধান্ত নেয় বৃদ্ধা মাকে খুন করার।’

এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ি ১৩ জুলাই গভীর রাতে খালু হোসেন, বন্ধু আব্দুর রহিম ও সে নিজে এ তিন জনে মিলে ঘরের ভিতরে ঘুমন্ত অবস্থায় মা জয়নাব বিবিকে প্রথমে দারালো দা’দিয়ে কুপিয়ে কাবু করে। পরে জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা।

জবানবন্দিতে মোহাম্মদ আলী জানায়, ‘সে মায়ের পা দুটি এবং আব্দুর রহিম মাথা চেপে ধরে আর খালু হোসেন দা দিয়ে জবাই করে। খুনের পর তারা দা’টি বাড়ির পরিত্যক্ত টয়লেটের গর্তে ফেলে দেয়।’

ভুজপুর থানার উপ পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দা’টি ১৪ জুলাই তারা ঐ গর্ত থেকে উদ্ধার করেন।’
তিনি বলেন, ‘হত্যার সঙ্গে জড়িত হোসেন, আব্দুর রহিম ও কমলা বিবি গা ঢাকা দিয়েছে। পুলিশ তাদের ধরতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।’ তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘শীর্ঘ্রই তারা ধরা পড়বে।’

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: