সর্বশেষ আপডেট : ৪১ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘দুর্নীতি ও ভুলনীতির কারণে লাউয়াছড়াসহ অনেক বন ধবংসের দ্বারপান্তে’

18085331279_0790ea55e1_b-1024x683ডেইলি সিলেট ডেস্ক:
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এবং লাউয়াছড়া বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা আন্দোলন, মৌলভীবাজার এর যৌথ উদ্যোগে গত শনিবার, সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি গোলটেবিল মিলনায়তনে ‘বিপন্ন লাউয়াছড়ায় ২৫ হাজার গাছ কাটার উদ্যোগের প্রতিবাদে’ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বাপা’র সহসভাপতি রাশেদা কে চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে মুল বক্তব্য রাখেন বাপা সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম কিম।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন বেলা’র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বাপা’র যুগ্মসম্পাদক শরীফ জামিল, বাপা’র নির্বাহী সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং লাউয়াছড়া বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা আন্দোলন, মৌলভীবাজার এর আহবায়ক জলি পাল। উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ মৌলভীবাজার জেলা সমিতির সভাপতি এডভোকেট তবারক হোসেনসহ আয়োজক সংগঠনসমূহের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আবদুল করিম কিম বলেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের অন্যতম চিরহরিৎ বন। দেশের চিরহরিৎ বনের মধ্যে লাউয়াছড়াই উল্লেখযোগ্য নমুনা হয়ে টিকে ছিল। কিন্তু এ বন আজ সর্বাংশে বিপন্ন হতে চলেছে। সুন্দরবন সহ দেশের অন্যান্য বনাঞ্চল ধ্বংসের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনাকাংখিত অপতৎপরতার অংশ হিসাবে লাউয়াছড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চল বিরান করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ে অবাধ ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করার নামে এ বনাঞ্চলের ২৫ হাজার বৃক্ষ কেটে ফেলার প্রস্তাব তুলেছে। যা এ বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশকে অস্তিত্ব সংকটে ফেলবে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের অন্যতম ৭টি বন্যপ্রানী অভায়রণ্র ও ১০ টি জাতীয় উদ্যানের অন্যতম। বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৬ সালে এই বনকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে। অথচ এই বনকে নিয়ে একের পর এক ষড়যন্ত্র এতদাঞ্চলের বাসিন্দাসহ সমগ্র সিলেট ও বাংলাদেশের জনগন এবং পরিবেশ ও প্রকৃতি প্রেমিদের ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ করেছে।

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারন্য হওয়ার পরও একে ধবংসের যে প্রচেষ্টা চলছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই জাতীয় সম্পদ যাতে বিনষ্ট না করা হয় সেজন্য নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, বনকে ধবংস করে যাতে কোন উন্নয়ন চিন্তা না করা হয় সে বিষয়টি অবশ্যই অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। লাউয়াছড়ার জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে অবাধে পর্যটকদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রন করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে অত্র অঞ্চল অন্যতম ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা, তাই বন বিনষ্ট করে এই ঝুকি আরো না বাড়িয়ে, বন নিয়ে যে কোন ধরণের আগ্রাসী পদক্ষেপ গ্রহন থেকে বিরত থাকার আহবান জানান তিনি। ভবিষ্যত প্রজন্ম এই বনকে কল্পনায় না ভেবে, বাস্তবে যেন দেখতে পারে এটি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, লাউয়াছড়া আজ বন নেই, এটি বাগান ও পার্কে পরিনত হয়েছে। বন বিভাগের গাফিলতি, দুর্নীতি ও ভুলনীতির কারণে লাউয়াছড়াসহ অনেক বন আজ ধবংসের দ্বারপান্তে। প্রাকৃতিক বনকে নিজস্ব চরিত্রে গড়ে উঠতে দিতে হবে এবং সহ-ব্যবস্থাপনার নামে প্রতারণা বন্ধ করতে হবে। বন বিধবংসী সকল পদক্ষেপ বন্ধ করার পাশাপাশি বন বিভাগকে ঢেলে সাজানোর আহবান জানান তিনি।

শরীফ জামিল বলেন, লাউয়াছড়া নিয়ে বহুমূখী ষড়যন্ত্র ও লুটপাট চলছে দীর্ঘদিন থেকে। সম্প্রতি রেলপথ উন্নয়নের নামে গাছ কাটার যে প্রক্রিয়ার কথা আমরা জানতে পেরেছি, এটি মুলত: লুটপাটের একটি ষড়যন্ত্র। লাউয়াছড়ার ভিতর দিয়ে যে সময় রেলপথ ও সড়ক পথ তৈরী হয়েছে, তখনকার প্রেক্ষাপট আর বর্তমান প্রেক্ষাপট মোটেই এক নয়। যদিও শুরু থেকেই রেলপথ ও সড়ক পথ লাউয়াছড়ার জীববৈচিত্র্যকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। তারপরও তখন অল্প সংখ্যক যানবাহন চলাচল করতো, এখন তা বহুগুন বেড়ে গেছে। যার ফলে এই বনে বসবাসরত জীববৈচিত্র্যের জন্য এই পথ মারাত্মক হুমকী হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই জাতীয় এই উদ্যানকে রক্ষা করতে গাছ কাটার প্রক্রিয়া বন্ধ করাসহ বনের ভেতর থেকে রেলপথ ও সড়ক পথ সরিয়ে নিতে হবে। এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয়দের জীবন-জীবিকার স্বার্থে এই বনকে অবশ্যই টিকিয়ে রাখতে হবে।

রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, জাতীয় এই উদ্যান সংরক্ষণে কোন উদ্যোগ কর্তৃপক্ষের নেই, বরং তাদের বানিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গীর কারণে এই বন ধবংস হতে চলছে। তিনি আগ্রাসী দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তণের আহবান জানিয়ে বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্তে বন ধবংসের যে প্রক্রিয়া চলছে তা বন্ধ করতে হবে। বনকে ধবংস করে নয়, বনকে সংরক্ষণ করে যাতায়াত ব্যবস্থার কিভাবে পুনর্বিন্যাস করা যায় সেটি ভাবতে হবে। তিনি বলেন, লাউয়াছড়াকে ধবংসের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

জলি পাল বলেন, লাউয়াছড়া আজ বিপন্ন। বনের ভিতরের গাছগুলো প্রায় শেষ করে, এখন আবার ২৫ হাজার গাছ কাটার যে চক্রান্ত হচ্ছে, তা শুধুমাত্র এই বন নয়, পুরো এলাকার জন্যও হুমকী হয়ে দাঁড়াবে। গাছ কাটার ফলে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার আশংকা থাকবে। যার ফলে চা উৎপাদন কমে যাবে, অন্যান্য ফসল উৎপাদনও কমে যাবে। এতে স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা হুমকীর মুখে পড়বে। তাই গাছ কাটার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বর্তমানে বা ভবিষ্যতে না নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, জীবন দিয়ে হলেও আমরা লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানকে রক্ষা করবো।
সংবাদ সম্মেলন থেকে নিন্মোক্ত দাবীসমূহ উত্থাপন করা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়েকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের গাছ কাটার প্রস্তাব অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং রেলপথ সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করতে করতে হবে। শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সড়কের অংশ লাউয়াছড়া থেকে স্থানান্তর করতে হবে। অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন বন্ধ করতে হবে এবং বনকে বাগান ও পার্কে পরিণত করার প্রচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। সহ-ব্যাবস্থাপনা পদ্ধতিকে ঢেলে সাজাতে হবে যাতে বনবাসীদের ক্ষমতায়ন ও নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠিত হয়। বনের উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী এবং বন ও বন্যপ্রাণী বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বন ব্যাবস্থাপনা পদ্ধতি প্রণয়ন করতে হবে। জোনিং- এর নামে বাফার জোনে সামাজিক বনায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ করে প্রাকৃতিক বন ফিরিয়ে আনতে হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: