সর্বশেষ আপডেট : ৩৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ওসমানীনগরে চালক ও হাইওয়ে পুলিশ সংঘর্ষে অটোরিকশা শূন্য মহাসড়ক,

images-13ওসমানীনগর সংবাদদাতা:: ২০১৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর সিলেটের ওসমানীনগর থানা তৎকালিন ওসি মো.মোস্তাফিজুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে সরকারী নিষেজ্ঞাসহ একের পর এক বিছিন্ন ঘটনার জন্য থেমে থেমে চলছে উপজেলার শতশত অটোরিকশা (সিএনজি) চালক ও মালিকদের ভাগ্যের চাকা। এত দিন চালকরা কৌশলে অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকমে সংসার চালিয়ে গেলেও গত ২০ জুলাই বুধবার হাইওয়ে পুলিশের সাথে অটোরিকশা চালকদের সংঘর্ষের ঘটনায় পর পুলিশি গ্রেফতার আতংঙ্কে গত চারদিন ধরে আবারও অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় বের হতে পারছেন না চালকরা।

ফলে অটোরিকশা (সিএনজি) শূন্য হয়ে পড়ছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের এ উপজেলার অংশ। যাত্রীসহ জনজীবনে চলে এসেছে চরম ভোগান্তি। উপজেলাটি মহাসড়ক বেষ্টিত হওয়ায় অটোরিকশা সিএনজি চলাচলে না করায় সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের আবার মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন বাস, ব্যটারি চালিত রিকশা চলাচল শুরু করেছে। সহজলভ্য এই তিন চাকার যানবাহনের অভাবে লোকাল বাসে উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে।

অনেকে আবার বাসে চড়তে না পেরে ব্যাটারি চালিত রিকশা বা পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌছার চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। কাগজ যাচাইয়ের নামে হয়রানীর স্বীকার না হতে গাড়ি বন্ধ রেখে গৃহবন্দি হয়ে আছেন এলাকার শতশত চালক। এলাকায় অটোরিকশা (সিএনজি) চলাচল না করায় চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ওসমানীনগরসহ পাশ্ববর্তী একাধিক উপজেলার কয়েক সহস্রাধিক মানুষজনদের। সিএনজি চলাচল না করায় সাধারণ মানুষজন বাজারে আসতে পারছে না। ফলে উপজেলার প্রধান প্রধান বানিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে মান্দা ভাব দেখা দিয়েছে।

সিরাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি জানান, বাসের অভাবে শেরপুরের দশ মাইল পায়ে হেঁটে ওসমানীনগর উপজেলা প্রশাসনে এসেছি। এখন আবার পায়ে হেটেই দশমাইল যেতে হবে। অনেকের আবার রিকশা বা ব্যাটারি চালিত রিকশা চড়ে গন্তব্যে পৌছুতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

রহিম নামের এক মিনিবাস কন্টাকটর জানান, বৃষ্টি থাকার পরও গত তিন দিন ধরে বাসে অতিরিক্ত যাত্রীর সংখ্যা বেশী ছিল। ইনকামও বেশী হয়েছে। বাসে জায়গা না থাকায় শত শত যাত্রীদের রাস্তায় দাড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

অপরদিকে ছালিক, জুবায়ের, শাহজাহান মিয়া সহ বেকার হয়ে পড়া অনেক সিএনজি চালিত অটোরিক্সা চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান,২০১৪ সালের শেষ দিক থেকে থেমে থেমে চলছে আমাদের ভাগ্যের চাকা। দেশে এখন গরীব মারার আইন হয়েছে। মহাসড়কে সিএনজি অটোরিক্সা চালাতে না পেরে আমরা পরিবারসহ না খেয়ে মরছি। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পুলিশ ইনকাম করছে কারি কারি টাকা।আমাদের এলাকাটি মহাসড়ক কেন্দ্রিক হওয়ায় গ্রাম্য রাস্তায় তেমন যাত্রী পাওয়া যায় না। এছাড়া চলতি বর্ষায় গ্রাম্য রাস্তাগুলো যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়েই অটোরিকশা নিয়ে মহাসড়কে উঠতে হচ্ছে। এ সুযোগে পুলিশ মামলার ভয় দেখিয়ে মহাসড়কে উঠা প্রতিটা অটোরিকশা থেকে বিভিন্ন হারে টাকা আদায় করতে মরিয়া উঠেছে। ফলে আমার বেকার হয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে না খেয়ে দিন কাটতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মুজিবুর রহমান বলেন, মহাসড়কে দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় সিএনজি চালকরা সংঘবদ্ধ ভাবে হামলা চালিয়ে পুলিশকে বহনকারী সরকারী গাড়িটি ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় বুধবার রাতে ওসমানীনগর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হয়েছে। সরকারী নির্দেশনুযায়ী মহাসড়কের এ অংশে যাতে অটোরিকশা (সিএনজি) চলাচল করতে না সে লক্ষ্যে শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। অযথা কোন চালকদের হয়রানী করছে না।

উল্লেখ্য,ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর কাগজপুর এলাকায় ২০জুলাই বিকালে গাড়ীর ফিটনেসসহ কাগজপত্র যাচাই-বাছাই কাজে দায়িত্ব পালন করেছিলো শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের একটি টহল টিম। এসময় কর্তব্যরত পুলিশ স্থানীয় অটোরিকশা চালকদের আটকিয়ে মহাসড়কে উঠতে নিষেধ প্রদান করে। এতে অটোরিকশা চালকরা সংঘবদ্ধ হয়ে দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশদের প্রতিরোধ করতে চাইলে চালক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ব্যবহৃত সরকারী গাড়িটি ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানায় কমর্রত পুলিশ সদস্যরা সম্মিলিতভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে চালকদের ধাওয়া করলে চালকরা পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে ২০ জুলাই রাতে শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের সার্জেন্ট শাহিন বাদি হয়ে দুই শতাধিক অজ্ঞাত নামা ব্যাক্তিদের আসামী করে ওসমানীনগর থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: