সর্বশেষ আপডেট : ১২ মিনিট ১৪ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অগোছালো মাধবকুন্ড ইকোপার্ক, কমছে পর্যটক সংখ্যা

a48ad4f1-ea7d-43ce-b808-e14d7175879cবিশেষ প্রতিনিধি : প্রাকৃতিক পরিবেশে জীবনের স্পন্দন পেতে পর্যটকদের কাছে অতি প্রিয় স্থান মৌলভীবাজার জেলার মাধবকুন্ড জলপ্রপাত ও ইকোপার্ক। কিন্তু যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে স্থানটি হারাচ্ছে সৌন্দর্য। নানা কারণে অগোছালো হয়ে পড়েছে এই স্থানটি। এতে ক্রমেই কমছে দর্শনার্থীর সংখ্যা।
অবস্থা দেখলে মনে হবে যেন কোন কর্তৃপক্ষ নেই। কিন্তু এই ইকো পার্কের সৌন্দর্য রক্ষাসহ পর্যটক বান্ধব করতে রয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। বনবিভাগের কর্মকর্তাদের বক্তব্য, ইজারাদারা বারবার চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে। তারা পর্যটন কেন্দ্রটিকে সুন্দর ও পরিছন্ন রাখার বিষয়ে মনোযোগী নন।

৫০০ একর পাহাড়ি ভূমির মাঝে গড়ে উঠা মাধবকুন্ড ইকোপার্কের মধ্যে এক-চতুর্থাংশই হচ্ছে বনভূমি। মাধবকুন্ড ইকোপার্ক পর্যন্ত এখনও যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আছে সেটা যদি যথার্থ রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে শুধু দেশি নয়, বিদেশি পর্যটকরাও এখানে আসতে উৎসাহিত হবেন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বছরে দুইটি ঈদ ও নববর্ষের ছুটি ছাড়া পর্যটকদের সংখ্যা খুবই কম থাকে। চলতি বছরে দুবার মাধবকুন্ড জলপ্রপাত এলাকায় ভূমি ধসের কারণে জলপ্রপাত এলাকার কিছুটা সৌন্দর্য হানি ঘটেছে।

সরেজমিনে গেলে চোখে পড়লো নানা অসংগতি। চারপাশে সবুজের মায়ামমতা যেন হারিয়ে যাচ্ছে। ইকোপার্কের প্রবেশ পথ অতিক্রম করে হাঁটতে হাঁটতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত রেঁস্তোরা এলাকা অতিক্রম করার সময় চোখে পড়লো পর্যটকদের বসার জন্য একটি পাকা করা টাইলসের বেঞ্চ। ময়লা আর আবর্জনায় পূর্ণ বেঞ্চটি। জলপ্রপাত দেখতে আসা পর্যটকদের বসার অনুপযোগী। আশপাশের প্রায় সব কিছু অপরিস্কার-অপরিচ্ছন্ন। বহুদিন মনে হয় পরিস্কার হয় না। বেঞ্চের ঠিক উপরে একটি স্ট্রিট লাইট রয়েছে। কিন্তু এটি নষ্ট। বাতিটি জ্বলে না কত দিন থেকে তার হিসাব নেই করোর কাছে। এই জায়গাটি অতিক্রম করে সামনের দিকে এগুতেই মাধবেশ্বর মন্দির এলাকার রাস্তার পাশেই আবর্জনার স্তুপ। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার অনুরোধপূর্বক সাইনবোর্ড থাকা সত্ত্বেও সেখানে ময়লা ফেলা হয় না।

মন্দিরের পাশে আছে জলপ্রপ্রাতের সৌন্দর্য উপভোগের জন্য নির্মিত ১০০ ফুট উঁচু ওয়াচ টাওয়ার। টাওয়ারে উঠার আগে ইজারাদারের লোকজনকে টিকিট বাবদ জনপ্রতি ১০ টাকা পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু ওয়াচ টওয়ারে উঠার আগে চোখে পড়লো পাশেই ময়লা ফেলার অনুরোধপূর্বক সাইনবোর্ডসহ নির্দিষ্ট স্থান। কিন্তু নির্দিষ্ট স্থানের পরিবর্তে দেখা গেলো অন্য পাশে ময়লার স্তুপ। সিঁড়ি দিয়ে ওয়াচ টাওয়ারে উঠতে গিয়ে দেখা গেলো প্রত্যেক তলায় ময়লা। উপরের তলায় উঠেতেই হতবাক। দর্শনার্থীদের জন্য বসার বেঞ্চে ময়লা। দেয়ালে রয়েছে কুরুচিপূর্ণ নানা ধরণের কথা লেখা। ওয়াচ টাওয়ারের পাশের ওয়াশ রুমটিও নোংরা। ব্যবহার অনুপযোগী।

ওয়াচ টাওয়ারের টিকিটের টাকা আদায়কারী তাজুল ইসলাম অপরিছন্ন পরিবেশের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ঈদের কয়েকদিন পর শরীর খারাপ থাকায় বাড়িতে ছিলাম। তাই এগুলো পরিস্কার করা হয়নি।’

প্রাকৃতিক ইকোপার্কের শেষ প্রান্তে আছে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ জলপ্রপাত। যা পাথারিয়া পাহাড় থেকে উৎসারিত। এখানে ২০০ ফুট উচ্চতা থেকে পানি ঝরে। জলপ্রপ্রাত এলাকায় প্রবেশ করতেই দেখা গেলো দুদফা পাহাড় ধসের কারণে পর্যটকদের নিরাপত্তার কারণে বাঁশ ও রশি দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছে। পাহাড় ধস আর নিরাপত্তা বেড়ার কারণে জলপ্রপাতের মূল স্থানটি এখন দর্শনার্থীরা এখন খুব ভালো ভাবে উপভোগ করতে পারছেন না।

এখানে দেখা গেলো পর্যটকদের বিশ্রামের জন্য নির্মিত তিনটি ছাউনির বেঞ্চের স্টিলের পাইপ নেই। এর পরিবর্তে রয়েছে বাঁশের কঞ্চি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা জানালেন, স্টিলের পাইপগুলো চুরি হওয়ায় বাঁশের কঞ্চি দিয়ে বেঞ্চটি ঠিক করা হয়েছে।

এতোসব কিছুর মাঝেও একটু পরিচর্যা, তত্ত্বাবধান আর চেষ্টা থাকলেই এই স্থানকে বিশ্বের যে কোনো স্থান থেকে আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিণত করা সম্ভব। পাশাপাশি পর্যটন শিল্প থেকেই অর্জন করা সম্ভব অনেক অর্থÑএমনটাই বললেন উপস্থিত পর্যটকরা।

কথা হয় রাজশাহী থেকে মাধবকুন্ডে পরিববার নিয়ে বেড়াতে আসা প্রবাসী হাসিবুল ইসলাম জুয়েলের সাথে। তিনি বলেন, ‘আমি ২০০৮ সালে একবার মাধবকুন্ডে আসি। আগের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে। তবে এলাকাটি নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন। আরো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হওয়া দরকার। ইকো পার্ক এলাকায় পর্যটকের বিশ্রাম নেওয়ার মতো ভালো স্থান নেই।’

কথা হয় ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা শিক্ষার্থী মোঃ সালমান ফারসীর সাথে। তিনি বলেন, ‘এই প্রথমবার মাধবকুন্ডে এসেছি। এলাকাটি অগোছালো ও অপরিচ্ছন্ন মনে হয়েছে। এর সৌন্দর্য রক্ষায় কর্তৃপক্ষের আরো এগিয়ে আসা দরকার। প্রকৃতির সৃষ্টি রক্ষায় বিলম্ব হলে কোনোভাবেই এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।’
বন বিভাগের বড়লেখা রেঞ্জ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) কামরুল মুজাহিদ বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে ইজারাদার কর্তৃপক্ষকে মৌখিক ও চিঠির মাধ্যমে চুক্তির শর্ত পালনের জন্য বলেছি। কিন্তু তারা বারবার চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে। তারা ইজারার চুক্তির শর্ত পালনে মনযোগী না। এছাড়া ইকো পার্ককে পর্যটক বান্ধব ও সুন্দর করার জন্য একটা বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে।’

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্যাহ আল মামুন বলেন, ‘ইজারাদার কর্তৃপক্ষ বারবার চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে। প্রশাসন ও বনবিভাগ থেকে বারবার বলার পরও ইজারাদার মাধবকুন্ড ইকোপার্ক এলাকার স্থান যথাযথভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করছেন না। এটা নিয়ে তারা গাফিলতি করে। নজরদারি করলে কিছুটা সতর্ক হয়। পরে আবার পূর্বের অবস্থায় চলে যায়। মাধবকুন্ড ইকোপার্কের সৌন্দর্য রক্ষার জন্য ও পর্যটকবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আগামীতে ইজারার শর্ত আরো কঠিন করা প্রয়োজন। পাশা পাশি মনিটরিং এর আওতায় আনা প্রয়োজন।’

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: