সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ১৭ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মৌলভীবাজারের রাজনীতি : আওয়ামীলীগে বিরোধ, বিএনপিতে নানি-নাতনির দ্বন্দ্ব

Rajniti-MBজালাল আহমদ :: মৌলভীবাজারের রাজনীতিতে এখন ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগে অভ্যন্তরীণ বিরোধ যেনো চাঙা। বিএনপি কাবু নানি-নাতনির দ্বন্দ্বে। সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে শাসক দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপির বিরোধ প্রকাশ পেয়েছে। জেলায় জাতীয় পার্টির কর্মকাণ্ড অনেকটা ঢিমেতালে চলছে। বাম দলগুলো কোনোমতে টিকে আছে। জামায়াত বর্তমান পরিস্থিতিতে মুখ লুকিয়ে আছে। দলীয় কাজ করছে গোপনে আর কৌশলে।

জেলার ৬৭ টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৬৬টিতে এবারের ইউপি নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের এবং মাত্র ৯টিতে বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। দলীয় বিরোধের কারণে বেশিরভাগ ইউনিয়নে এ দু’দলেরই বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় উভয় দলেই অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী জয়ী হতে পারেননি। অভিযোগ রয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহীদের পক্ষে কাজ করেছেন প্রয়াত সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর অনুসারীরা। তবে সায়রা মহসিন ও তার পরিবারের লোকজন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ইউপি নির্বাচনে একই অবস্থা ছিলো বিএনপিতেও। নানি-নাতির দ্বন্দ্বে ও নেতায় নেতায় বিরোধে মৌলভীবাজারে বিএনপি অনেকটা কাবু হয়ে পড়েছে। দ্বিধাবিভক্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের দলীয় কর্মসূচি পালন করতেও খুব একটা দেখা যায় না। জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি, জাসদ, বাসদসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলো তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলেও জনসমর্থন পাচ্ছে না। তবে এসব বাম দলের নেতাকর্মী জনমুখী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে থাকেন।

আওয়ামীলীগ : মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) আসনের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ এমপি এবং মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের এমপি সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী মরহুম সৈয়দ মহসিন আলীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল দলীয় বিরোধ। মহসিন আলী মারা যাওয়াতে এ আসনে তার স্ত্রী সৈয়দা সায়রা মহসিনকে উপ-নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় নেতাকর্মীরা হতাশ হন। মহসিন আলীর অনুসারীরা এখন এমপি সায়রা মহসিনের কাছ থেকে দূরে আছেন। তাই মহসিন আলীর মৃত্যুর পর তার গ্রুপের রাজনীতিরও মৃত্যু ঘটেছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। তবে মহসিন আলীর গ্রুপের কাণ্ডারি হিসেবে লন্ডন প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতা মো: ফিরোজ মহসিন গ্রুপকে টিকিয়ে রাখার জন্য কাজ করলেও পেরে উঠছেন না। এ কারণে মহসিন গ্রুপ বিলুপ্ত হওয়ার পথে। জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ বলেন, কতিপয় ব্যক্তি অর্থের লোভে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করেছে, তা না হলে আরও বেশি করে নৌকার প্রার্থীরা জয়ী হতেন। দলের এবং দলীয় প্রতীক নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে তাদের সবাইকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ বলেন, জেলার ৭টি উপজেলায় একাধিক সভাপতি ও সম্পাদক মৃত্যু বরণ করায় ও অসুস্থ হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা যায়নি। জেলার প্রায় সব ইউনিয়নে কমিটি করা হয়েছে। রমজানের পর বাকি উপজেলাগুলোতে সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে।

বিএনপি : দলটির জেলা সম্মেলন ও কাউন্সিলের পর ৭ বছর পার হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি আলোর মুখ দেখেনি। নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে নানি-নাতি বলে পরিচিত খালেদা রব্বানী ও নাসের রহমানের মধ্যে মুখ দেখাদেখি বন্ধ। এ কারণে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম এম. সাইফুর রহমান তনয় মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি এম. নাসের রহমান ব্যবসার কাজে ব্যস্ত, ঢাকায় থাকেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি খালেদা রব্বানী অসুস্থ স্বামীকে চিকিৎসার জন্য বেশিরভাগ সময় মৌলভীবাজারের বাইরে থাকেন। জেলার সভাপতি ও সম্পাদক এলাকায় না থাকায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কর্মসূচি পালিত হতে দেখা যায় না। তাছাড়া অভ্যন্তরীণ বিরোধ তো আছেই। সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে ওই বিরোধ প্রকট আকার ধারণ করে। জেলার ৬৭ ইউনিয়নের মধ্যে ৬৬টিতে নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু মাত্র ৯টি ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র বিবৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে মিটিং-মিছিলে ফটোসেশন ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার সময় জামায়াতের দেখা মেলে।

খালেদা রব্বানী ও নাসের রহমান পৃথকভাবে জেলার ৭টি উপজেলা এবং ৫টি পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দু’টি করে কমিটি গঠন করায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। দলে কলহের জেরে বাসাবাড়িতে হামলা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে ইতোপূর্বে। ঢাকায় নাসের রহমান তার বাণিজ্যিক কার্যালয়ে বসে নিজের মতো করে ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি কেন্দ্রে জমা দেন। তখন অভিযোগ ওঠে, এ কমিটিতে স্থান দেয়া হয়নি ত্যাগী ও বঞ্চিত নেতাদের। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে গুলশান কার্যালয়ে তখন দেখা করে ৫১ সদস্যের কমিটিকে বর্ধিত করে ৬৯ সদস্যের কমিটি করে কেন্দ্রে জমা দেন খালেদা রব্বানী। জমা দেওয়া দুই কমিটি মিলিয়ে এম. নাসের রহমানকে সভাপতি এবং খালেদা রব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু এই নেতা জেলায় দলকে শক্তিশালী করতে পারচ্ছেন না।

জাতীয় পার্টি (এরশাদ) : মৌলভীবাজার জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সৈয়দ শাহাব উদ্দিন আহমদ জানান, ২০১৫ সালের ১৬ নভেম্বর মৌলভীবাজার জেলা জাপা’র সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সৈয়দ শাহাব উদ্দিন আহমদ সভাপতি ও অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম শামীমকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়ার পর সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলা সভাপতি সৈয়দ শাহাব উদ্দিন বলেন, জেলা সদরে অবস্থিত তার বাড়িকে অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তিনি দাবি করেন, তাদের দলের কাজ ভালোভাবে চলছে।

জাসদ (ইনু) : মৌলভীবাজার শহরে জেলা জাসদ’র অফিস আছে, কোর্ট রোডের নূর মার্কেটে। অফিসে নিয়মিত বসেন সভাপতি, সম্পাদকসহ নেতাকর্মীরা। জেলা সভাপতি আবদুল হক ও সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন নজরুল। ৭টি উপজেলার মধ্যে ৫টিতে কমিটি আছে। দলীয় এবং ১৪ দলীয় জোটের কর্মসূচিতে অংশ নেন এই দলের নেতাকর্মীরা।

সিপিবি-বাসদ : এই দু’টি বাম দলের কর্মকাণ্ড আছে জেলা সদরসহ জেলার একাধিক উপজেলায়। এ দুই দলের নেতাকর্মীরা গণমুখী আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেন। সৎ ও নির্লোভ হিসেবে সমাজে তাদের ভালো ভাবমূর্তি আছে।

জামায়াত : মৌলভীবাজার জেলায় জামায়াতের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। জেলা অফিস শহরের শাহ মোস্তাফা সড়কে অবস্থিত দেওয়ান মঞ্জিলে। জেলা জামায়াতের সাবেক আমির দেওয়ান আবদুল মতলিবের বাসা থেকে জামায়াতের দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তবে চলতি বছরের প্রথমদিকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে গাড়ি পোড়ানোসহ নাশকতার মামলায় জামায়াত-শিবিরের শতাধিক নেতাকর্মীসহ জেলা আমির আবদুল মন্নান আসামী রয়েছেন। তবুও জেলার সবক’টি উপজেলায় গোপনে আর কৌশলে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: