সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৩২ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণ সুনামগঞ্জ নবীনগর সড়কে ভাঙন, মানুষের ভোগান্তি

13823550_10205288244244620_105016012_nসুনামগঞ্জ প্রতিনিধি::
পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বর্ষণে সুরমা নদীর পানি টইটুম্বুর হয়ে নদীর তীরের নবীনগর-হালুয়ারঘাট এলাকার জন চলাচল সড়ক ভেঙে গেছে। এতে ওই সড়কে যাতায়াতকারী ২ লাখ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার নবীনগর এলাকার রাস্তা-ঘাট বন্যাকবলিত হলেও রাস্তার উপর দিয়ে সুরমা নদীর পানি উপচে পড়ছিল। এই সময় প্রায় দুই মাস আগে সড়কের পাশে নির্মিত নিচু আকারের গার্ডওয়ালসহ সড়কের বিভিন্ন স্থান ভেঙ্গে যায়। কিন্তু শুক্রবার সকালে সুরমা নদীর পানির চাপে কার্লভার্টসহ সড়কের অনেক অংশ ভেঙ্গে যায়।

এই সড়ক ভাঙ্গনের ফলে ধারারগাঁও এলাকার স্যানক্রেড হাসপাতালের রোগীরা ও সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর ও রঙ্গারচরের এবং শহরতলীর কুরবাননগর ইউনিয়নের ৯২ গ্রামের প্রায় ২ লাখ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

সড়কের পাশে টেনে নেয়া গ্যাস লাইনের পাইপ বেরিয়ে পড়েছে। এই গ্যাস লাইনের পাইপ বিশাল এলাকা জুড়ে দৃশ্যমান রয়েছে। পাইপটি ধ্বসে পড়া কার্লভার্টের ভেতর দিয়ে টেনে নেয়ায় এখন বড় দূর্ঘটনার আশংকা রয়েছে।

সড়ক ভাঙ্গনের পর ১০-১২টি ছোট নৌকায় মানুষ শহরে আসা-যাওয়া করেন। শুক্রবার ধারারগাঁয়ের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ নিজ উদ্যোগে এলাকার মানুষদের নিয়ে বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে দেন। শনিবার উপজেলা প্রশাসন ২শ’ বালুর বস্তা ভাঙ্গন রোধের জন্য দেওয়া শুরু করলেও পানির প্রবল স্রোতের মধ্যে এসব বালুর বস্তা ভাসিয়ে নিচ্ছে।

ধারারগাঁয়ের পয়েন্ট থেকে সড়কের ভাঙ্গন এলাকা পর্যন্ত বর্তমানে তিনটি কার্লভার্ট রয়েছে। পয়েন্টের পাশের একটি কার্লভার্টের উপর মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। এতে কার্লভার্টের ভেতর দিয়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রায় ৪ বছর আগে কার্লভার্টের পাশের ব্রীজ ভেঙ্গে একটি অর্ধবৃত্তাকার দুর্বল সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিবছর এই সড়কের সংস্কার কাজ করতে দেখা যায়। গত দুইমাস আগেও এই সড়কটির পাশে নিচু করে নিম্নমানের গার্ডওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। এই অংশটিও ঝুঁকির মুখে আছে বলে এলাকাবাসী মন্তব্য করেছেন।

সদ্য ভেঙ্গে যাওয়া সড়কেও কার্লভার্ট ছিল। গত বছর বর্ষায় কার্লভার্টের পাশে সড়ক ভেঙ্গে ঝুঁকিতে ছিল। সারা বছরেও ভেঙ্গে যাওয়া গর্ত ভরাট করার ব্যবস্থা করা হয়নি। সড়কের পাশে জোড়াতালি দেয়া আড়াই থেকে তিন ফুট উচ্চতার এই গার্ডওয়ালে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। নামে মাত্র সিমেন্ট দিয়ে ইট লাগানো হয়েছে। মুল ভাঙ্গনে মাটি ভরাট করা হয়নি। এই সড়কের কাজ নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
হালুয়ারঘাট-ধারারগাঁও পয়েন্ট এবং নবীনগরের রিনা ‘স’ মিল পর্যন্ত সড়কের মেঝে ও বিভিন্ন স্থানের গার্ডওয়াল ভেঙ্গে গেছে। দীর্ঘ ১০ বছর যাবত এই সড়কের কোনো সংস্কার কাজ হয়নি বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান।

নবীনগরের বাসিন্দা দোলন মিয়া বলেন, ‘পানির প্রবল স্রোতে আমার বাসার সামনের সড়কের ও বাসার গার্ডওয়াল ভেঙ্গে গেছে।’
মো. মদরিছ আলী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সড়কের সংস্কার কাজ হয়নি। ভাঙ্গন এলাকায় সময়মত ও পরিকল্পিত টেকসই উন্নয়ন হয়নি। এই সড়কের ভাঙ্গনের সব কাজেই শুধু দুর্নীতির ধান্ধা হয়েছে।’

ধারারগাঁওয়ের শাহাব উদ্দিন ও আব্দুল লতিফ বলেন, ‘প্রতিদিন লাখ মানুষ এই সড়ক দিয়ে শহরে আসেন। কিন্তু এই সড়কের কাজ নিয়ে বাণিজ্য করেন ঠিকাদারেরা ও অফিসের কর্মকর্তরা। কয়দিন পর পর দুই নম্বরি করে সিমেন্ট ছাড়া দুই একটা ইট লাগান, সামান্য মাটি ফেলেন, পরে আর খবর নেই। এবারের ভাঙ্গনের সময় মানুষ চলাচলের জন্য আমি বাঁশ দিয়ে এলাকার মানুষকে নিয়ে সাঁকো তৈরি করে দিয়েছি।’
খাইমতিয়র গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক ও মখদ্দুছ আলী বলেন, ‘ই মাস আগে নিচু করে কয়েক স্থানে গার্ডওয়াল দেয়া হয়েছে। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। এটার পাশে তেরা বাঁকা সড়কটিও এখন ঝুঁকির মুখে’।

গোদার গাঁওয়ের শামীম আহমদ বলেন, ‘সড়কে সংস্কার কাজ ঠিকাদারেরা মনগড়াভাবে করে। স্থায়ী কোনো পরিকল্পনা নেই। এই সড়কের কাজে দুর্নীতি হয় বেশি।’

সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমদ বলেন, ‘পানি আসার আগেই ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে বলেছিলাম সড়কটি যেকোন ভাবেই টিকিয়ে রাখার জন্য, তারা চেষ্টা করেছে কিন্তু পারেনি। কার্লভার্টের নিচের দিকে পানি ছুঁইয়ে মাটি সরে গেছে, কার্লভার্টও কিছু সরেছে। এই সড়কটি রক্ষা করতে হলে গার্ডওয়াল দিয়ে কার্লভার্ট বন্ধ করে দিতে হবে’।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: