সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ১০ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘বিপথগামী’ শিক্ষকদের খুঁজে বের করতে শিক্ষামন্ত্রীর তাগাদা

147902_1নিউজ ডেস্ক: শিক্ষকতার নামে যারা জঙ্গিবাদী কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করছে তাদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

শনিবার রাজধানীতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে না পড়ে সে বিষয়ে শিক্ষকরা সবচে বেশি ভূমিকা রাখতে পারেন।

‘শিক্ষকদের দায়িত্বের কথাও মনে রাখতে হবে। কিছু শিক্ষক নামধারী লোক আমাদের ছেলে-মেয়েদের বিপথগামী করছে। এদের খুঁজে বের করবেন।’

সম্প্রতি দেশে জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিউট মিলনায়তনে ইউজিসি আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী।

সব শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতে এবং তাদের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান নাহিদ।

‘এক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রী বেশি হওয়ার প্রসঙ্গ আসে। তবুও তাদের চিনতে হবে, জানতে হবে এবং তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে। তাদের এমন স্নেহ ও মমতা দিয়ে গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনো সমস্যায় পড়লে তারা শিক্ষকের কাছে এসে জানায়,’ বলেন তিনি।

সারাদেশে শিক্ষা পরিবারের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস সারাদেশের মানুষ ও আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর মধ্যে সাহস সঞ্চার করবে বলে মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আমরা এ ধরনের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে চাই। শুধু হত্যা করা হবে তাই না, আমাদের ছেলে-মেয়েদের ব্যবহার করে এ ধরনের জীবন সংহার করা হবে, সেটা আমরা চাই না।

‘সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সজাগ করব, সচেতন করব এবং সার্বিকভাবে ‍উদ্যোগ গ্রহণ করব। সকল পর্যায়ে এটা পৌঁছাবে। আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি, ৩০ তারিখের মধ্যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমরা এভাবে সরাসরি কথা বলব।’

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাজীবন স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা কার্যক্রমে যদি শিক্ষার্থীদের জড়িত রাখতে পারি, তাহলে অন্য যে কোনো কিছু আমরা মোকাবেলা করতে পারব। এদিক থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উদ্যোগী হয়ে পদক্ষেপ নিবেন।’

কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জঙ্গিবাদী মনোভাবের শিক্ষক এবং কার্যক্রমের বিষয়ে প্রায় দুই বছর আগ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

‘প্রায় দুই বছর আগে থেকে কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে তদন্ত করে বিভিন্ন বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলেছি। শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িয়ে পড়াতে সে বিষয়েও বলা হয়েছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পদক্ষেপ না নেওয়ায় এখন তাদের নাম ঘুরেফিরে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন থেকে আমরা আর তদন্ত করে থেমে থাকব না। এসব কর্মকাণ্ড নিয়মিত মনিটর করব, পরিদর্শন করব, যোগাযোগ রাখব এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাবা-মার কাছ থেকেও যেন ছেলে-মেয়েরা স্নেহ-মমতা পায়। পরিবারও তাদের সন্তানদের বিষয়ে সবচেয়ে ভাল বলতে পারবে।

‘বক্তৃতা দিয়ে কাউকে ফিরিয়ে আনা যাবে না। ব্যক্তিগত যোগাযোগে তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।’

প্রকৃত ইসলামের কথা তুলে ধরতে আলেম সমাজের প্রতি আহ্বান জানান নাহিদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল অনুষ্ঠানে বলেন, ‘নিবরাজ ইসলাম নামাজ-রোজার সঙ্গে ছিল না, খেলাধুলা ও যোগাযোগের মধ্যে ছিল। কীভাবে সে ইসলামের নামে ভ্রান্ত হয়েছে, কারা তাকে ভ্রান্ত কাজে ব্যবহার করল তাদের খুঁজে বের করতে হবে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘যারা জঙ্গিবাদে জড়াচ্ছে তাদের বয়স ১৮ বছর বা তার কাছাকাছি। তার মানে তারা শুধু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এসে জঙ্গি হয়ে যাচ্ছে না। আগে থেকে জঙ্গিবাদী মানসিকতা লালন করে আসছে। এ কারণে স্কুল-কলেজ পর্যায়েও মনোযোগ নিবদ্ধ করা দরকার।’

শিক্ষকদের আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষক যখন পড়ানোর বাইরে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন, তখন শিক্ষার্থী কার কাছে যাবে? আমাদের নিজেদের সে বিষয়টিও ভাবনায় আনা উচিত।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান খান বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা বিপথে চলে যাচ্ছে। আমরা শিক্ষকরা যদি এক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ না থাকি তাহলে তারা কার কাছে যাবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে এবং তাদেরকে সেভাবে দেখাশোনা করলে তারা আমাদের অমান্য করে কোথাও যেতে পারবে না।’

সভায় অন্যদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোজাম্মেল হক খান, শিক্ষাসচিব সোহরাব হোসাইন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আলী আকবর, বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক আলা উদ্দিন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইমামুল হক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মিজান উদ্দিন বক্তব্য দেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: